Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.7/5 (54 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২০-২০১৫

যে কারনে ৪ জনকে খুন করে সুমন

যে কারনে ৪ জনকে খুন করে সুমন

জয়পুরহাট, ২০ জুন- 'আমার স্ত্রী পরকীয়া করতো। অনেকদিন চেষ্টা করেছি কিন্তু ওই পথ থেকে ওকে ফেরাতে পারিনি। আর এই কাজে ওকে বাধা না দিয়ে উল্টা সমর্থন করতো শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাই রাগের চোটে ওদের শেষ করে দেই। স্ত্রীকেও হত্যার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ও পাশের ঘরে ঢুকে বেঁচে গেল।'  হত্যাকাণ্ডের পর আটক হয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেছেন সুমন হ্রেম্বম।

শনিবার ভোরে জয়পুরহাট পাঁচবিবি উপজেলার আদিবাসী অধ্যুষিত ভীমপুর তালতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটায় সুমন। এসময় নিজের ৬ বছরের সন্তানকেও হত্যা করেন তিনি। তার স্ত্রী সিলভিয়া মারান্ডি  গুরুতর আহতাবস্থায় বর্তমানে দিনাজপুরের পার্বতীপুর মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় সুমনের শ্বশুর ম্যানিয়েল মারান্ডি সুমনকে আসামি করে পাঁচবিবি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহতরা হচ্ছে সুমনের শাশুড়ি সন্ধ্যা রাণী (৪৮), শ্যালিকা তেরেজা মারান্ডি (২১), ফুফা শ্বশুর মারকেল মারান্ডি (৫০) ও সুমনের ছয় বছরের শিশু পুত্র সানি হেম্ব্রম। ময়না তদন্তের জন্য নিহতদের মরদেহ জয়পুরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

গ্রামবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে ভীমপুর তালতলী গ্রামের আদিবাসী ম্যানিয়েল মারান্ডির ঘর জামাই সুমন হেম্ব্রম চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে শাশুড়ি, শ্যালিকা, ফুফা শ্বশুর ও তার এক শিশুপুত্রকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সুমনের স্ত্রী সিলভিয়াকে কোপানোর সময় সে দ্রুত অন্য একটি ঘরে ঢুকে ছিটকানি লাগিয়ে চিৎকার শুরু করলে গ্রামবাসী ছুটে আসে।

খবর পেয়ে পাঁচবিবি থানা পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলভিয়াকে উদ্ধার করে তাকে দ্রুত জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পার্বতীপুর মিশন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় হত্যাকারী ঘর জামাই সুমন হেম্ব্রমকে পুলিশ আটক করে। হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত চাপাতিও পুলিশ জব্দ করেছে।

প্রতিবেশীরা জানান, গৃহকর্তা ম্যানিয়েল মারান্ডি বাড়িতে ছিলেন না। তিনি ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে'র জেনারেটর মেকানিক হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রতিবেশী রশিদ মারান্ডি জানান, প্রায় আট বছর আগে সিলভিয়াকে বিয়ে করে সুমন হেম্ব্রম শ্বশুর বাড়িতেই থাকে। সুমন পেশায় মেকানিক। সে ভটভটি, নছিমনসহ বিভিন্ন ইঞ্জিন মেরামতের কাজ করে। সুমনের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের মধ্যে সানির বয়স ছয় বছর। অন্য দু সন্তানের মধ্যে সিমসন হেম্ব্রম সানুর বয়স আড়াই বছর আর একমাত্র কন্যা সিনথিয়া হেম্ব্রম এর বয়স মাত্র আড়াই মাস।

সুমনের ফুফাতো বোন সুমনা টুডু জানান, ঘটনার পর থেকে সুমনের বেঁচে থাকা দুই সন্তান তার কাছে আছে।

আটকের পর ঘটনাস্থলেই সুমন হেম্ব্রম সাংবাদিকদের জানান, স্ত্রী সিলভিয়া পরকীয়ায় আসক্ত ছিল। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও তাকে ওই পথ থেকে ফেরাতে না পেরে তার মনে ক্ষোভ জন্মে। সুমন আরও জানান সিলভিয়াকে সব সময় তার পরিবার সমর্থন করতো। পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় উল্টো তার পরিবার তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতো। এই ক্ষোভ থেকেই সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, প্রাথমিকভাবে সুমন জানিয়েছে স্ত্রীর পরকীয়ার প্রতিশোধ নিতেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন । মামলার পর তদন্ত করে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে