Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (91 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-০২-২০১৫

বস্ত্রহরণ- কে কি বলেন!

আকতার হোসেন


পশুরা নারীদের যৌন হয়রানি করে এমন কথা হাস্যকর শোনায়। শুধু নারী হবার কারণে পশুরা নারীদের লোলুপ দৃষ্টি দিয়ে দেখে একথারও কোন সত্যতা নেই। মানুষ আর পশুদের মধ্যে পার্থক্য অনেক। অথচ গর্হিত অন্যায় কাজ মানুষের হাতেই হয়। পশুদের নখ, দাঁত, শিং কামবাসনা সবকিছু যদি মানুষের উপর ব্যবহার করতো তাহলে এতদিনে মানব বংশবিস্তারে বিরাট বাঁধা এসে যেত। পশুরা তাদের শক্তি ব্যবহার করে বিপদগ্রস্ত হলে কিংবা ক্ষুধা নিবারণের জন্য। পথে-ঘাটে যারা নারী নির্যাতনের জন্য ওত পেতে বসে থাকে তাদের নাম মানুষ।

বস্ত্রহরণ- কে কি বলেন!

এবারের পহেলা বৈশাখে ঘটে যাওয়া কিছু অঘটন নারী নিপীড়নের বাদানুবাদের পাতা নতুন করে খুলে দিয়েছে। ব্যাপারটা একেকজনের দৃষ্টিতে এক একরকম। মতামত দেবের বেলায় নিজস্ব চিন্তাভাবনা থেকে কেউ এক চুলও নড়ছে না। এদের মধ্যে কেউ বলছে বেশ হয়েছে মেয়েরা কেন এত লোকের মধ্যে বাইরে যাবে। যা হবার ছিল তাই হয়েছে এ নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলবে। অন্য দল বলছে, ওদের পোশাক যদি ধর্মীয় নিয়মনীতি মেনে চলত তাহলে এমন হত না। সরকার আর প্রশাসনের গাফলতির কথাও বলা হয়েছে। আবার কেউ বলছে মানুষরূপী কিছু পশু বর্ষবরণের দিন নারীদের যৌনহয়রানি করেছে। 

শেষের কথা দিয়েই শুরু করা যাক। পশুরা নারীদের যৌন হয়রানি করে এমন কথা হাস্যকর শোনায়। শুধু নারী হবার কারণে পশুরা নারীদের লোলুপ দৃষ্টি দিয়ে দেখে একথারও কোন সত্যতা নেই। মানুষ আর পশুদের মধ্যে পার্থক্য অনেক। অথচ গর্হিত অন্যায় কাজ মানুষের হাতেই হয়। পশুদের নখ, দাঁত, শিং কামবাসনা সবকিছু যদি মানুষের উপর ব্যবহার করতো তাহলে এতদিনে মানব বংশবিস্তারে বিরাট বাঁধা এসে যেত। পশুরা তাদের শক্তি ব্যবহার করে বিপদগ্রস্ত হলে কিংবা ক্ষুধা নিবারণের জন্য। পথে-ঘাটে যারা নারী নির্যাতনের জন্য ওত পেতে বসে থাকে তাদের নাম মানুষ। নারী নিপীড়নের সাফল্য অর্জন করতে পারলে নিপীড়নকারী বিভিন্ন ভাবে উৎফুল্ল হয়। কেউ নিজেকে বীর মনে করে, কেউ অনুপ্ররণাকারীর ভূমিকায় চলে আসে। কেউ আবার কৃতকর্মের সাফল্যকে আত্মিক সন্তুষ্টি পর্যন্ত নিয়ে যায়। আকার-আকৃতিতে মানুষ হলেও এরা সম্পূর্ণ মানুষ না। এরা মানুষেরই একটি শাখা অথবা বিকল্প মানুষ। এই বিকল্প মানুষগুলো সমাজবদ্ধ হতে শেখে নি। সমাজের প্রতি এদের কোন দায়দায়িত্ব নেই। অন্যের অধিকারের প্রতি নেই বিন্দু মাত্র সম্মান। এই শ্রেণীর মানুষদের বিকল্প মানুষ বলার আরো কারণ আছে। এরা ভক্তি দিয়ে বিশ্বাস করে নিপীড়িত নারীদের নিষিদ্ধ করতে হবে। এরা কামুক রোগে আসক্ত কিংবা মানসিক অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে কিছুটা ভিন্ন। ওদের মত করে ভাবতে না চাইলে অন্য সকলকে ওরা গিনিপিগ মনে করে। মাঝে মাঝে শক্তি পরীক্ষা করতে পছন্দমত গিনিপিগের মাথায় এরা চাপাতি দিয়ে আঘাত করা সহ পথে-ঘাটে নারী দেহ স্পর্শ করাকে কর্তব্যপরায়ণতা মনে করে। সফল হলে গাজী গাজী একটা ভাব নিয়ে এরা মুরুব্বিদের কাছে গিয়ে নতজানু হয়। 
আবার কিছু কিছু নারী-পুরুষ মনে করে নিপীড়িত নারীদের বাইরের জগতে না যাওয়াই ভাল। এই মতের সাথে যাদের ঐকমত তারা নারীদের গৃহবন্দি করার পক্ষে। যে ব্যবস্থা এই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে নতুন পৃথিবী গড়ার আগ পর্যন্ত সম্ভব হবে না। পৃথিবী বদলে গেছে। ছোট ছোট কুয়োর ব্যাঙের মত বসবাস করা প্রজাতিরা যতই হুঙ্কার দিয়ে বলুক তাদের নারীরা প্রথা মেনে চলছে অন্যরা কেন মানবে না। তাদের সেই আশাও পূরণ হবার নয়। ওরা বুঝতেই চায় না যে পৃথিবীটা অনেক বিশাল যা খালী চোখে দেখা যায় না। বড় কিছুকে দেখতে হলে মন লাগে। সেটাই তাদের নেই। নেই বলেই  নিজেরা ষোলআনা মুক্ত থেকে নারীদের বন্দী করে রাখতে চায়। মন বড়ই গতিশীল, নারী মন ছুটে গেলে অনেক দূর পৌঁছে যাবে যেটা মোটেও হতে দিতে চায় না ওরা।  
পাথরে খোদাই কিংবা প্রাচীন মৃৎশিল্পের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে একসময় ছেলে-মেয়ে উভই একই রকম কাপড় পরে শিকার করত। নতুন নতুন ধর্ম মেয়েদের ঢেকে রাখার পক্ষে মত দিতে লাগল। এক পর্যায় পরিষ্কার করে বলা হল মেয়েদের বুক কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। বাস্তবতা হল বাংলাদেশের শিক্ষিত নারীরা এক স্তরের জায়গাতে তিন স্তরের কাপড় দিয়ে সে কাজটা সম্পূর্ণ করছে । তারপরও কেউ কেউ মনে করে ঢেকে রাখার কাজ সম্পূর্ণ হল না। কাজেই নারী দেহের উপর পছন্দমত বস্ত্র বসিয়ে দেবার জন্য কিছু পুরুষ বস্ত্রহরণ করে দেখাতে চায় কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক। 
বিদ্যা-বুদ্ধিতে শ্রেষ্ঠ জাতি হবে মানুষ, সেই আশাতেই মানব জাতীর যাত্রা শুরু হয়েছিল। বই পুস্তক থেকে জানা যায় আদি যুগল বিবস্ত্র হয়ে একে অন্যের সামনে এসেছিল। তাঁরা বিদ্যা বুদ্ধির প্রথম ব্যবহার করল গাছের পাতা দিয়ে লজ্জা নিবারণের কাজে। কিসের লজ্জা, কার থেকে লজ্জা বাঁচাবার প্রচেষ্টা। সেখানে তো অন্য কেউ ছিল না। আসলে ওই লজ্জাটি ছিল নিজের প্রতি নিজের লজ্জা। সেই থেকে শুরু হল সভ্যতা। এখনো নবজাতককে পৃথিবীর প্রথম উপহার দেয়া হয় একটুকরো কাপড়, উদ্দেশ্য সেই এক। এই ধারাবাহিকতায় সামান্য এক টুকরো কাপড় নিয়েই মানুষ দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। অতএব, সব মানুষই বস্ত্রের উপকারিতা ভাল করেই জানে। কেননা এটা না থাকলে নিজের কাছেই নিজেরই লজ্জা। তাহলে কি প্রশ্ন করা যায় না, কেউ যদি বস্ত্র হরণ করে তবে কি লজ্জা ঢেকে রাখার পরিবর্তে তারা লজ্জা প্রকাশ করে দিচ্ছে না? সভ্যতার সামান্য অংশ যারা না মেনে চলে তারা পশু না অ-সভ্য। তারাই বিকল্প মানুষ।  এই বিকল্প মানুষদের পরিকল্পিত মানুষ করতে হবে।

মুক্তমঞ্চ

  •  1 2 > 
Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে