Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (63 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-১৫-২০১৫

নাগরিক সমাজের প্রস্তাব 

আকতার হোসেন


আমার কাছে নাগরিক সমাজের প্রস্তাবকে গ্রাম্য সালিসির মতই মনে হচ্ছে। সালিশে গেলে বেশ মানানসই একটা চেয়ার পাওয়া যায়, পান সিগারেট খেতে দেয়া হয়। এমনকি সালিশ চলাকালীন সময়ে কিছু ব্যক্তিগত কথাবার্তা ঝুট-ঝামেলা কিংবা ছেলে-মেয়েদের বিয়ের ঝামেলা মিটিয়ে আসা যায়। এসব করণে অনেকে সালিশি বৈঠকে যায়। গ্রাম্য সালিশের একটি বর্ধিত রূপ মনে হচ্ছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃতে নাগরিক সমাজের প্রস্তাবকে। তবে এই প্রস্তাবে প্রথমেই স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে। 

নাগরিক সমাজের প্রস্তাব 

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপার্সনকে নাগরিক সমাজ কিছুদিন আগে চিঠির মাধ্যমে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। কোন না কোন ভাবে দেশের বর্তমান অবস্থার অবসান হওয়া দরকার তাই প্রতিটি পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই। নগর ভিত্তিক দেশগুলোর নাগরিক সমাজের আধিপত্য কতটুকু সেটা আমরা জানি। কিন্তু গ্রামবাংলা নামে পরিচিত বাংলাদেশ কবে থেকে সম্পূর্ণ নগর ভিত্তিক হয়ে গেল এবং সেই নগর সমাজের কিছু সদস্য কি পারবে পুরো দেশের এত বড় সমস্যার সমাধানের পথ দেখিয়ে দিতে। 
মাত্র কদিন আগে এই সমাজের কিছু লোক পায়ে হেঁটে গিয়েছিল বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাথে দেখা করতে। তখনই বোঝা যাচ্ছিল তাঁরা কিছু একটা করবে। তবে প্রশ্ন হল, তখন কি এমন কথা বলতে ভুলে গিয়েছিল যে এখন বিএনপি চেয়ারপার্সনকে চিঠি লিখে প্রস্তাব পাঠাতে হল। মুখোমুখি কথা বলার যে সুযোগ পাওয়া গেল তার সম্পূর্ণ সৎ ব্যবহার কি করা হয়নি? প্রস্তাবের কথাগুলো কি সেদিন কিছুই আলাপ হয় নি। নাকি প্রস্তাব এসেছে বিএনপির পক্ষ থেকে, নাগরিক সমাজ শুধু মাত্র সেই প্রস্তাবের বাহক। এমন নানান প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক তবুও ধরে নিলাম প্রস্তাব এসেছে সমাজের কাছ থেকে। 

যে নির্বাচনে জয় লাভ করে শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন সেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে রওশন এরশাদও বিরোধী দলের নেতা হয়েছেন। নাগরিক সমাজ গণতন্ত্রের কথা বলতে চাইলে বিরোধী দলের নেত্রীর কাছে কেন আবেদন করছেন না। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তাঁকে মানা হলেতো বিরোধী দলের নেতাকেও মানতে হবে। সেটা যখন দেখছি না, তাহলে কি বুঝে নিব যে নাগরিক সমাজ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং অতীত প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করলেন এই জন্য যে, তাঁরা ক্ষমতাবান ব্যক্তি। গণতন্ত্র কি ক্ষমতাবানদের দেয়া উপহার না নাকি সকলের জন্য উপকারী একটি পদ্ধতি। সেই পদ্ধতির স্তর সমূহকে  পাশ কাটিয়ে যারা চলেন তারা সম্মানিত বেশি নাকি যারা সংখ্যায় অল্প হলেও পদ্ধতির ভেতরে থাকেন তাদের সম্মান বেশি। তাই যদি হবে, রওশন এরশাদের কাছেও কি নাগরিক সমাজের সদস্যদের যাওয়া উচিৎ ছিল না? এই ব্যাপারে জাতিসঙ্ঘ থেকে শুরু করে বিদেশের বড়বড় রাষ্ট্রও একই পথে চলছে। সংসদের বিরোধীদল এবং তার নেতাকে অবজ্ঞা, অবহেলাই শুধু নয়, অশিক্ষিত হবার লক্ষণ 
সংকট নিরসনে ড.কামাল হোসেন সহ বেশ কিছু সুশীল সদস্য বিএনপি চেয়ারপার্সনের কাছে কেন গিয়েছিলেন সেটা বুঝতে অসুবিধা হবার কথা না। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি বড় একটি স্টক-হোল্ডার। নেতা-কর্মী বহর কিংবা দেশ শাসনের পূর্ব অভিজ্ঞতা যেভাবেই দেখা হোক না কেন বিএনপিকে নিয়েই বর্তমান সংকটের একটা সন্তোষজনক সমাধানে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু কথা হল পায়ে হেঁটে এতগুলো লোক বিএনপি চেয়ারপার্সনের দপ্তরে গেলেন কিন্তু কেউ প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান বিরোধী দলের নেত্রীর সাথে দেখা করেতে গেল না কেন। যদি যেত তাহলে সুশীল সমাজের প্রস্তাব বেশি গ্রহণযোগ্য হত বলে মনে করি। দেশ পরিচালনায় যে দল ক্ষমতায় এবং সংসদের যে বিরোধী দল তাদের কি বলার কিছুই ছিল না? এই দুটি বড় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে (সরকার এবং বিরোধীদল) বাদ দিলে গণতন্ত্র শূন্য হয়ে যাবে। শূন্য থেকে কিছু শুরু করার ক্ষমতা কি এই নাগরিক সমাজের আছে? বিপ্লবই শুধু নয়, মহা বিপ্লব ছাড়া চলমান অবস্থা থেকে মুক্তি পাবার অন্য উপায় হয়তো হতে পারে, প্রত্যেকের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসা। এই সরে আসাকে বাংলাদেশে দেখা হয় পরাজয় হিসেবে এটাও একটা খারাপ প্রথা বাংলাদেশে। সম্ভবত এই সরে আসাকেই গ্রহণযোগ্য করার জন্য কিছু মানুষকে উদ্যোগ নিতে হয় সব সময়। সেই উদ্যোগই হয়তো নাগরিক সমাজের প্রস্তাব। বড় ধরনের ঝাঁকুনি ছাড়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে হয়তো পট্টি দিয়ে কিছুটা উপশম করা যাবে, কিন্তু আবারও ফিরে আসবে জ্বালাও পোড়াও।  আবারো নগর পুড়বে, নাগরিক মরবে, নতুন নাগরিক কমিটি জোড়াতালি দিয়ে বারবার এগিয়ে আসবে। 
আমার কাছে নাগরিক সমাজের প্রস্তাবকে গ্রাম্য সালিসির মতই মনে হচ্ছে। সালিশে গেলে বেশ মানানসই একটা চেয়ার পাওয়া যায়, পান সিগারেট খেতে দেয়া হয়। এমনকি সালিশ চলাকালীন সময়ে কিছু ব্যক্তিগত কথাবার্তা ঝুট-ঝামেলা কিংবা ছেলে-মেয়েদের বিয়ের ঝামেলা মিটিয়ে আসা যায়। এসব করণে অনেকে সালিশি বৈঠকে যায়। গ্রাম্য সালিশের একটি বর্ধিত রূপ মনে হচ্ছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃতে নাগরিক সমাজের প্রস্তাবকে। তবে এই প্রস্তাবে প্রথমেই স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে। অবরোধকে কেন্দ্র করে যেসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড হচ্ছে দেশের মানুষ যখন সেটা বন্ধের উপায় নিয়ে গভীর ভাবে ভাবছে তখন ওনারা কি বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কাছ থেকে একটা প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসতে পারতেন না। তা’হোল, খালেদা জিয়া আমাদের কথা দিয়েছেন যেদিন সরকার আমাদের সাথে (নাগরিক সমাজের সাথে) বসবার তারিখ ঘোষণা করবে সেই তারিখ থেকে অবরোধ হরতাল তুলে নেয়া হবে। এমনটি হলে নাগরিক সমাজের খুঁটিতে জোর থাকত। খালি হাতে যারা যায় তারা আকুতি করে মাত্র, ভরা হাতে গেলে কব্জি শক্ত হয়। 
সমাজের এই প্রস্তাবিত চিঠির সাথে বিএনপির পদ্ধতির একটি মিল পরিলক্ষিত হচ্ছে।  মাঝারি সাইজের একজন নেতাতো বিএনপির পক্ষে প্রতিদিনই চিঠির ছেড়ে সরকারের কাছে দাবী জানিয়ে আসছে। তাতে কি কোন ফল হচ্ছে। একটি দলের মাঝারি সাইজের একজন নেতা আর বহু সুশীলের মধ্যে পার্থক্য থাকল কোথায়? বিএনপির চিঠির মাধ্যমে যে ভাবে হরতাল বর্ধিত করে চলছে এবং জনগণকে স্বাভাবিক কাজে বাঁধা দিয়ে যাচ্ছে তাতে আমার নিজস্ব মতামত হল খুব হাল্কা করে দেখা হচ্ছে দেশের মানুষকে। জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস হলে জনগণকে সম্মান দেখিয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সনের নিজেরই বলা দরকার কেন এবং কি ভাবে তাঁর দলের সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। স্বল্প পরিচিত দলের নেতার সাক্ষরের চিঠিতে যদি দেশের ষোল কোটি মানুষের ভোগান্তি বাড়ে তবে সেটাকে কাজের লোক দিয়ে বিয়ের নিমন্ত্রণ পাঠানোর মত মনে হতে পারে। এখানে লোকটি নয়, ব্যবস্থাটি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।  মনে হচ্ছে নিজেদের অবস্থান এবং উপস্থিতির জানান দেওয়া ছাড়া কারোর কিছু করার নেই। ফলে বিবৃতি ছাড়া যারা দুর্ভোগে ভুগছেন তাদের উদ্ধারের সম্ভাবনার পথ কেউ খুলে দিতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে না। বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান হলে তাকে সমর্থন করতে কষ্ট হয়। আমাদের দেশে কি সত্যিকার সুশীল সমাজ আর কোন দিন গড়ে উঠবে না, যেমন গড়ে উঠেছিল স্বাধীনতা উত্তর কালে ‘বিক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজ’ নামে একটি তীক্ষ্ণ সমাজ? 

মুক্তমঞ্চ

  •  1 2 > 
Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে