Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (160 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ১১-২৬-২০১৪

এ কেমন শালিস!

এ কেমন শালিস!

শরীয়তপুর, ২৬ নভেম্বর- গৃহবধূর গর্ভের সন্তান নষ্ট করে স্বামীকে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে একটি গ্রাম্য শালিস। ঘটনাটি শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের ওকিল উদ্দিন মুন্সিকান্দি গ্রামের। শনিবার রাতে স্থানীয় প্রভাবশালী আলতাফ খান, তারা মিয়া বেপারী ও ইউপি সদস্য জুলহাস খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত শালিসে এ রায় দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের ওকিল উদ্দিন মুন্সিকান্দি গ্রামের তাজেল বেপারীর ছেলে নাসির বেপারী (২৩) ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি দর্জি দোকানে শ্রমিকের কাজ করত। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয় তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের আবদুল বারেক মিয়ার মেয়ে মোছাম্মৎ রেখার (২২) সঙ্গে। তারা গত ২৩ এপ্রিল আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। নাসিরের পরিবার বিয়ে মেনে না নেওয়ায় তারা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে। 

কয়েকদিন আগে বিয়ে মেনে নেওয়ার কথা বলে নাসির ও রেখাকে বাড়িতে আসতে বলেন তাজেল বেপারী। শ্বশুরের কথা বিশ্বাস করে রেখা তার বাবা আবদুল বারেক মিয়াকে নিয়ে বৃহস্পতিবার ওকিল উদ্দিন মুন্সিকান্দি গ্রামে আসেন। তখন নাসিরকে তালাক দেওয়ার জন্য তাজেল বেপারী ওই গৃহবধূ ও তার বাবাকে চাপ দেন। বিষয়টি নিয়ে শনিবার স্থানীয় প্রভাবশালী আলতাফ খানের বাড়িতে শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শালিসে নেতৃত্ব দেন আলতাফ খান, নাসিরের চাচা তারা মিয়া বেপারী ও পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য জুলহাস খান। 

শালিসকারীরা ওই গৃহবধূ ও তার বাবাকে ৯০ হাজার টাকা নিয়ে নাসিরকে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দেন। তখন গৃহবধূ তার গর্ভে তিন মাসের সন্তান থাকার কথা জানান এবং নাসিরের সঙ্গে সংসার করার কথা বলেন। তখন শালিসকারীরা ওই গৃহবধূর বাবার কাছে ৫ হাজার টাকা দিয়ে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার নির্দেশ দেন। সন্তান নষ্ট করার পর নাসিরকে তালাক দিয়ে ৯০ হাজার টাকা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাদের নির্দেশ অমান্য করা হলে ওই গৃহবধূকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। নাসিরের পরিবার ও শালিসকারীদের ভয়ে গৃহবধূ ও তার বাবা মঙ্গলবার এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছা. রেখা বলেন, আমাদের সম্পর্ক মেনে নেওয়ার কথা বলে গ্রামে ডেকে আনে। এরপর নাসিরকে তালাক দেওয়ার জন্য তার পরিবার আমাকে চাপ দিতে থাকে। আমার গর্ভে তিন মাসের সন্তান। এসব জানার পরেও এলাকার মানুষ শালিস বৈঠকে টাকার বিনিময়ে আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে স্বামীকে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আমি অনাগত সন্তানের জন্ম দিতে চাই। স্বামীকে নিয়ে সংসার করতে চাই। 

রেখার বাবা আবদুল বারেক মিয়া বলেন, শালিসের পর নাসির পালিয়ে গেছে। তার পরিবারের সদস্যরা আমাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। মেয়েকে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এলাকার এক বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। তারা সেখানেও আমাদের উপর চড়াও হয়। তারা শালিসের মাধ্যমে আমার মেয়ের গর্ভের সন্তান নষ্ট করে তার স্বামীকে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আমি এ নির্দেশ মানি না। 

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য নাসির বেপারীকে পাওয়া যায়নি। তবে নাসিরের বাবা তাজেল বেপারী জানান, আমরা গরিব মানুষ। আমার ছেলের বয়স মাত্র ১৭ বছর। ছেলেটিকে ভুল বুঝিয়ে মেয়েটি বিয়ে করতে বাধ্য করেছে। মেয়েটির আগেও একটি বিয়ে হয়েছিল। এখন গ্রামের মাতব্বররা যে রায় দিবেন আমি তাই মেনে নিব। 

শালিসকারী তারা মিয়া বেপারী বলেন, শালিসে ১ লাখ টাকা রায় হয়েছিল। পরে ছেলের বাবা মাফ চাওয়ায় ৯০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়। এর মধ্যে বায়না হিসেবে ৫ হাজার টাকা নগদ দেওয়া হয়। গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করতে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, সংসারই যদি না থাকে তবে বাচ্চা রেখে কি করবে?

পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য জুলহাস খান বলেন, নাসিরের পরিবারের সদস্যরা গর্ভের সন্তান নষ্ট করার প্রস্তাব দেয়। তখন শালিসে সিদ্ধান্ত হয় গর্ভের সন্তান ফেলে দেওয়ার পরে ধার্যকৃত ৯০ হাজার টাকা নিয়ে মেয়েটি নাসিরকে তালাক দিবে। সন্তান নষ্ট করার জন্য মেয়েটির বাবাকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে