Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.8/5 (124 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-১৫-২০১৪

উৎসবে মাতোয়ারা জার্মানি

উৎসবে মাতোয়ারা জার্মানি

বার্লিন, ১৫ জুলাই- একটা মুহূর্ত কী চরম বৈপরীত্য হয়েই না ধরা দিল! একদল হাসছে। আবেগের ঢেউ তাদের ভাসিয়ে নিচ্ছে। সপ্তম স্বর্গে পৌঁছে গেছে তারা। পরমানন্দে অবগাহন করছে সুখের সাগরে। আর অন্যদল কাঁদছে। কান্না লুকোতে মুখ ঢাকছে প্রিয়জনের বুকে। কেউ বা মাথায় দুহাত রেখে নির্বিকার দৃষ্টিতে চেয়ে আছে শূন্য আকাশে। মারাকানা স্টেডিয়ামের গ্যালারির খণ্ডচিত্রগুলো তুলে ধরল যেন পুরো পৃথিবীকেই। ঢাকায় যেমন আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কান্না মিলে মিশে একাকার হলো। বুয়েন্স আয়ার্স কাঁদল। একসময় হারানোর বেদনা থেকে জন্ম নিল ক্ষোভ। জ্বলে উঠল আগুন। আর্জেন্টাইন পুলিশের সঙ্গে বাধল সংঘর্ষ। এ কেমন রণক্ষেত্র! অথচ কিছুক্ষণ আগেও এখানে উৎসব ছিল। 'ভামোস, ভামোস আর্জেন্টিনা' কোরাস ছিল। আর ছিল বিশ্ব জয়ের আনন্দে মেতে উঠার পূর্ব প্রস্তুতি। বৃথাই গেল আর্জেন্টাইনদের উৎসব-আয়োজন।  

জার্মান শিবিরে তখন ভিন্ন দৃশ্য। রিওর কোপাকাবানা সৈকতে আর্জেন্টাইনদের দাপটে এতদিন আড়ালে থাকা জার্মান ভক্তরা দখল করে নিল উৎসব-মঞ্চ। বার্লিনে মাতোয়ারা হলো ভক্তরা। লাখ লাখ সমর্থক আতশবাজির চমকে দূর করে দিল রাতের অন্ধকার। বিশ্বজয়ী বীরদের বরণ করতে প্রস্তুতি শুরু হলো ওখানে। সোনার হরিণ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন জোয়াকিম লোর শিষ্যরা। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে আছেন কজন জার্মান সৈনিক। বিশ্বকাপের ফাইনাল যখন হয় তখন ওখানে মধ্যরাতের অন্ধকার। মারিও গোটসের গোলের পর আফগান রণক্ষেত্রের সব অনিশ্চয়তাকে ভুলে গেল জার্মান সৈনিকরা। উল্লাসে মেতে উঠল ওরা। সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা জার্মানদের এভাবেই একটা মুহূর্তে একসঙ্গে মাতিয়ে তুললেন মারিও গোটশে। তার গোলেই আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করেছে জার্মানরা। বিশ্বকাপে জার্মানির স্লোগান ছিল 'এক জাতি, এক দল, এক স্বপ্ন'। কি স্বপ্ন? ওটা আর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন আছে কি! বার্লিন প্রাচীর ভেঙে দুই জার্মানি যখন এক হলো ততোদিনে তিনটা বিশ্বকাপ (১৯৫৪, ১৯৭৪ ও ১৯৯০) জয় করেছে পশ্চিম জার্মানি। ঐক্যবদ্ধ জার্মানি এরপর পাঁচটা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও কোনো শিরোপার স্বাদ পায়নি। গত ২৪ টা বছর ধরে জার্মানরা সম্মিলিতভাবে এই স্বপ্নই তো দেখছে। ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও ২০০২ সালে ফাইনাল খেলেছিল জার্মানি। সেবার ব্রাজিলের কাছে ২-০ গোলে হেরে গিয়েছিলেন বালাকরা। ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছিল ইউরোপীয়ান ঈগলরা। অবশেষে ঐক্যবদ্ধ জার্মানি বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল। ইতালির (চতুর্থ শিরোপা) পাশে স্থান করে নিল জার্মানরা।আর্জেন্টাইনদের জন্য শেষ হয়ে গেছে একটা দুঃস্বপ্নের রাত। যে রাত শেষে ম্যারাডোনার কাছ থেকে লাল গালিচা সংবর্ধনা পাওয়ার কথা ছিল মেসির। যে রাত শেষে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিয়ে মেতে উঠার কথা ছিল আর্জেন্টাইনদের।   

এসব কেবল স্বপ্নই থেকে গেল। স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা নিয়ে আর্জেন্টাইনরা এরই মধ্যে অনেক দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে এরপর থেকে আর্জেন্টাইনরা যখন স্মরণ করবে কোপাকাবানা সৈকতে কাটানো দিন-রাতগুলোর কথা। ক্যাম্পফায়ার, আনন্দ-উচ্ছলতার কথা। ক্যারাভানে কাটানো সময়গুলোর কথা। ব্রাজিলকে ব্যঙ্গ করে লেখা গান ও কোরাসের কথা। নিজেদের কখনো ক্ষমা করতে পারবে না আর্জেন্টাইনরা। বহুদিন ধরে এই স্মৃতিটা তাদেরকে আঘাত করে ফিরবে। আর্জেন্টাইনদের বিদ্রূপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরে যাওয়া ব্রাজিল কি কষ্টটাই না বুকে ধারণ করেছিল। তারপরও ওরা আর্জেন্টাইনদের উৎসবটাকে মেনে নিয়েছিল। সৈকতে স্থান দিয়েছিল। যাক, অন্তত ল্যাটিন মাটিতেই থাকছে বিশ্বকাপ! এই ভেবে সান্ত্বনা খুঁজেছিল ব্রাজিলিয়ানরা। আর্জেন্টাইনদের সান্ত্বনা কোথায়! ব্রাজিলিয়ান ভক্তদের দেওয়া কষ্টটাই বহুগুণে আর্জেন্টাইনদের বুকে ফিরে এসেছে। এ এমন এক আঘাত, যার কোনো উপশম নেই। ১৯৫০-এ ব্রাজিল যেমন একটা 'মারাকানাজো'র মুখোমুখি হয়েছিল। গত ৬৪ বছরেও যে দুঃখ ভুলতে পারেনি সেলেকাওরা। আর্জেন্টাইনরাও তো 'মারাকানাজো' দুঃখই পেল! জার্মানি যোগ্য দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন হলো। তবে আর্জেন্টিনা যদি চ্যাম্পিয়ন হতো বাংলাদেশে অনেকের দুঃখমোচন হতো। যে দুঃখ ১৯৯০ থেকে বয়ে বেড়াচ্ছে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। আর মেসির জন্য বিশ্বকাপ শিরোপাটা হতো প্রশ্নাতীত কিংবদন্তি হওয়ার সিলমোহর।

 

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৪

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে