Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.6/5 (29 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-১৮-২০১৪

আগ্রহের কেন্দ্রে বাংলাদেশি কমিউনিটি

সৈয়দ আনাস পাশা


আগ্রহের কেন্দ্রে বাংলাদেশি কমিউনিটি

লন্ডন, ১৮ মে- আগামী ২২ মে ব্রিটেনে স্থানীয় সরকার ও ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট নির্বাচন।

এ দিন ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ব্রিটেনের মোট ৭৩টি আসন, ইংল্যান্ডের গ্রেটার লন্ডনের ৩২টি বারা, ৩৬টি মেট্রোপলিটন বারা, ৭৪টি সেকেন্ড-টায়ার ডিস্ট্রিক্ট অথরিটি, ২০টি ইউনিটারি অথরিটি এবং কয়েকটি বারার নির্বাহী মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ব্রিটেনের স্থানীয় নির্বাচন হয় পার্টিগত। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই নিজ নিজ দলের পক্ষে প্রার্থী দেয় এ নির্বাচনে। অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থীও এ নির্বাচনে অংশ নেন।

এদিকে, নির্বাচন নিয়ে পুরো ব্রিটেনে বাংলাদেশ বা ভারতের মতো বিশাল উৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত না হলেও ‘তৃতীয় বাংলাখ্যাত’ পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস ঠিকই কাঁপছে এই নির্বাচনী জ্বরে। নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১০ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি বাঙালি ও একজন ভারতীয় বাঙালি রয়েছেন।

এর মধ্যে আবার স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আই ইউরোপের কর্ণধার রেজা আহমেদ ফয়সল চৌধুরী শোয়েবও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জন বিগস-লেবার, ক্রিস্টোফার উইলফোর্ড-কনজারভেটিভ, রথীণ্দ্রনাথ ব্যানার্জি-লিবডেম, লুৎফুর রহমান- টাওয়ার হ্যামলেটস ফার্স্ট, নিকোলাস ম্যাককুইন-ইউকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ক্রিস স্মিথ-গ্রিন পার্টি এবং ট্রেড ইউনিয়নিস্ট অ্যান্ড সোস্যালিস্ট কোয়ালিশনের হুগো পিয়েরেও রয়েছেন।

বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসকে বলা হয়- ‘তৃতীয় বাংলা’। বলা হয়, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের পরে এখানেই বসবাস করেন সবচেয়ে বেশি বাঙালি। সেদিক থেকে টাওয়ার হ্যামলেটস বারার এই নির্বাচন ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ব্যাপক আগ্রহের কারণ হয়ে উঠেছে। টাওয়ার হ্যামলেটস তথা লন্ডন মহানগরীর বাইরে ব্রিটেনের অন্যান্য শহরেও যারা বসবাস করেন, সেইসব বাংলাদেশিদের কাছেও এই নির্বাচন সমান আগ্রহ নিয়ে উপস্থিত হয়েছে।

শুধু বাংলাদেশই নয়, টাওয়ার হ্যামলেটস বারাই একমাত্র বারা, যে বারা নিয়ে রয়েছে ব্রিটিশ মূলধারায় ব্যাপক আগ্রহ। মূলধারার মিডিয়াগুলো এই বারা নিয়ে বিভিন্ন সময় যে রিপোর্টগুলো প্রচার করে, সেগুলো নিয়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া। টাওয়ার হ্যামলেটস নিয়ে মূলধারার এই ব্যাপক আগ্রহের অন্যতম কারণ বারার প্রথম ও বর্তমান নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান।

টাওয়ার হ্যামলেটস বারায় নির্বাহী মেয়র পদ্ধতি চালু হলে প্রথম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন লুৎফুর রহমান। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত স্থানীয় এই রাজনীতিক এর আগে লেবার দলীয় লিডার অব দ্য কাউন্সিল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু, প্রথম নির্বাহী মেয়র নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েও তিনি তার দল লেবার পার্টি থেকে তা পাননি।

তার বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলা বিরোধী অভিযোগ উত্থাপন করে তাকে এই মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়। এ নিয়ে অবশ্য দলকে তিনি আদালত পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন। বিগত নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত লুৎফুর স্বতন্ত্র হিসেবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিপুল ভোটে টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রথম নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাহী মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পরও বিতর্ক লুৎফুরের পেছন ছাড়েনি।

তার শাসনকালে মূলধারার বিভিন্ন মিডিয়ায় টাওয়ার হ্যামলেটসকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব টাওয়ার হ্যামলেটস’ হিসেবে চিহ্নিত করেও বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সম্প্রতি, বিবিসি প্যানোরমায় লুৎফুরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়, যা ব্যাপক আলোড়ন তোলে ব্রিটিশ মূলধারায়। ইতোমধ্যে, এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে লুৎফুর স্থানীয় ভিত্তিতে গড়ে তোলেন নতুন সংগঠন ‘টাওয়ার হ্যামলেটস ফার্স্ট’।

এই সংগঠন থেকেই তিনি এবার প্রার্থী হন মেয়র নির্বাচনে। পাশাপাশি তার সংগঠন থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদেও প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। মূলধারায় লুৎফুরবিরোধী ব্যাপক প্রচারণা নিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

লুৎফুর সমর্থকরা বলছেন, লুৎফুরের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী হিংসাই এই সব মিডিয়ার প্রচারণা। মূলত লুৎফুরের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়েই এ সব বর্ণবাদী প্রচারণা শুরু হয়েছে। আর মূলধারার রাজনীতির সমর্থকরা বলছেন, লুৎফুর নিজের ব্যক্তিস্বার্থে পুরো কমিউনিটিকে মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করে একঘরে করে রাখার ষড়যন্ত্রে মেতেছেন। অর্থাৎ টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রিটেনের বাঙালি কমিউনিটি এখন দ্বিধা বিভক্ত। কমিউনিটি বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মূলধারায় বাংলাদেশিদের বর্তমান সম্ভাবনাময় অবস্থান এই বিভক্তির কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে উৎসব, উচ্ছ্বাস, শঙ্কা, আশাবাদ এখন ব্রিটেনের পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটিতেই।

ব্রিটেনের মূলধারার রাজনীতির বিপরীত স্রোতে দাঁড়িয়ে মেয়র লুৎফুর কতটুকু সফল হচ্ছেন বা পুরো কমিউনিটিকেই বা কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন, এটি নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

লেবার পার্টিকে বলা হয়- টাওয়ার হ্যামলেটসের জনগণের অস্থিমজ্জার সঙ্গে মিশে যাওয়া রাজনৈতিক সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে এই বারার প্রশাসনিক নেতৃত্ব দিচ্ছে লেবার পার্টি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনের মাধ্যমে এই বারার তৎকালীন লেবার দলীয় এমপি লর্ড পিটার শো বাঙালি কমিউনিটির সঙ্গে লেবার পার্টির যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন, সেই উত্তরাধিকার এখনও বহন করে চলেছে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি; এমনটাই মনে করেন রাজনীতিক বিশ্লেষকরা।

এই বারা থেকেই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমপি হিসেবে বাংলাদেশিদের প্রথম অভিষেক। রোশনারা আলী প্রথম ব্রিটিশ-বাঙালি এমপি হন এই বারা থেকেই। এই বারার অধিবাসী হাউস অব লর্ডসের প্রথম বাঙালি ব্যারোনেস পলা মঞ্জিলা উদ্দিনও লেবার পার্টির রাজনীতি করেই হাউস অব লর্ডসে ঢুকেছিলেন। সুতরাং লেবার পার্টির সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটির রয়েছে একটি ইমোশনাল সম্পর্ক, এমনটাই মনে করেন অনেকেই।

আসন্ন মেয়র নির্বাচনে লেবার পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জন বিগস। লেবার-বাঙালি ইমোশন্যাল এই সম্পর্কের কারণেই জন বিগসের পক্ষেও আজ বাঙালি কমিউনিটিতে ব্যাপক সাড়া। পাশাপাশি বর্ণবাদী আচরণের শিকার অভিযোগ করে লুৎফুরও কমিউনিটির এক বিরাট অংশের সহানুভূতি আদায় করে দ্বিতীয়বারের মতো নেমেছেন নির্বাচনী যুদ্ধে।

এই যুদ্ধের ফলাফলের জন্য এখন অপেক্ষা করতে হবে ২৩ মে পর্যন্ত। ভোট গ্রহণের পরদিন ২৩ মে এই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

ইউরোপ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে