Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.1/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-২৯-২০১৮

খালেদার ম্যাসেজ গণ্ডগোলে ফখরুল

মোস্তফা কামাল


খালেদার ম্যাসেজ গণ্ডগোলে ফখরুল
কারাগার থেকে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পাঠানো বার্তা নিয়ে তালগোল পাকিয়ে গেছে বিএনপিতে। কিছুটা সময় খারাপের কারণে আর বাকিটা আপনাআপনিই বেধেছে এ গণ্ডগোল। বেগম খালেদা জিয়া তার মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে আসলে কী ম্যাসেজ দিয়েছেন- তা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হতে পারছেন না নেতা-কর্মীরা। বার্তাবাহক মির্জা ফখরুল প্রথমে কোনো বার্তার কথা অস্বীকার করেছেন। পরে একে একে বেশ ক’টি বার্তার জানান দিয়ে প্রকারান্তরে গোলমালের দরজা-জানালা খুলে দিয়েছেন।
 
২৫ আগস্ট বিকাল চারটায় নাজিমুদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে ঢোকেন মির্জা ফখরুল। ছিলেন ঘণ্টা খানেক। এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কিছু জিজ্ঞাসা ও কৌতূহল তৈরি হয়। তা দলের ভেতরে-বাইরে সবখানেই। তাকে খালেদা জিয়া কি নির্দেশ দিয়েছেন বা তার সঙ্গে কী কথা হয়েছে তা জানতে উদগ্রীব হয়ে ওঠেন সাংবাদিকরাও। তাদের মধ্যে কিছু একটা ব্রেকিং নিউজ খোঁজার প্রতিযোগিতা চলে। মির্জা ফখরুল জেল থেকে বেরিয়ে শুরুতে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এটা ম্যাডামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ। রাজনীতির বিষয়ে নিয়ে কোনো কথা হয়নি।
 
কথাবার্তায় মির্জা ফখরুল এখান পর্যন্ত থাকলে সমস্যা ছিল না। হয়তো তত প্রশ্নও উঠতো না। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি কথা লম্বা করতে গিয়ে বলেছেন, কারাবন্দি চেয়ারপারসন দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীকে সজাগ থেকে গণতন্ত্রের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মির্জা ফখরুলের এ ধরনের অবহিতকরণে জট পেকেছে। প্রশ্ন বেড়েছে। সেইসঙ্গে বাড়িয়েছে ম্যাসেঞ্জার হিসেবে তার দায়বদ্ধতাও। এখন তার কথার পর কথা বলতে হচ্ছে। সরকারপক্ষের আক্রমণের জবাবও দিতে হচ্ছে।
 
এক ঘন্টায় বেগম খালেদা জিয়া কি মাত্র দুটি বাক্যই বলেছেন? আর কিচ্ছু বলেননি, কোনো গাইডলাইন দেননি? দলের নেতা-কর্মীদের কাছে এসব প্রশ্ন খোলাসা করতে হচ্ছে। তারওপর সরকার পক্ষ থেকেও শুরু হয়েছে নানা কথা। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, খালেদা জিয়া কারাগারে থেকেও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছেন।
 
বিএনপি বা মির্জা ফখরুলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ইনুর আক্রমণের জবাব আসেনি। এ অবস্থায় নানা সূত্রের বরাত ছাড়াও বিএনপির বিশেষ করে মির্জা ফখরুলের দায়িত্ব হয়ে পড়েছে দলীয়প্রধানের কিছু বার্তা প্রচার করা। তিনি যথারীতি সেটি করেছেনও। কিন্তু এতে প্রশ্ন ও সন্দেহ আরো বেড়েছে। আসল-নকলও খোঁজা হচ্ছে। আসলে ম্যাডাম কি বলেছেন, আর কি কি বলেছেন, কী বলেননি, আদৌ বলেছেন কি-না- এ ধরনের আগামাথাহীন প্রশ্নবানে সহকর্মীরা ঝাঝরা করে ফেলছেন তাকে।
 
এক ঘণ্টার সাক্ষাতে নিশ্চয়ই বেগম খালেদা জিয়া ও মির্জা ফখরুল চুপ করে থাকেননি। খোশগল্পও করেননি। অবশ্যই তাদের মধ্যে কিছু আলোচনা হয়েছে। শলাপরামর্শও বাদ যায়নি। কারাবন্দী বেগম জিয়া কিছু না কিছু পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন মির্জা ফখরুলকে। সেটা জানার অধিকার শুধু দলীয় কর্মী কেন, আম জনতারও রয়েছে। তবে, হাল বাস্তবতায় এ তথ্য জানার চাপ বেশি দলের ভেতর থেকে। বেগম জিয়ার সঙ্গে তার একা সাক্ষাতে কিছুটা প্রশ্ন ও ক্ষোভে দিনাতিপাত করছেন দলের সিনিয়র নেতারা। তাদের তোপের মুখে পড়েছেন বিএনপি মহাসচিব।
 
সাক্ষাতের পর অনেক রাত পর্যন্ত সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন। পরদিনও ভীষণ ব্যস্ত সময় কেটেছে তার। দফায় দফায় বৈঠক করেন দল, জোট ও বৃহত্তর জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে। অনেকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে চেয়ারপারসনের বার্তা পৌঁছে দেন। আবার গুরুত্বপূর্ণ কোনো কোনো নেতার সঙ্গে কথা বলেন ওয়ান-টু ওয়ান। সকলকেই তার কিছু কথা বলতে হয়েছে। খুটিয়ে খুটিয়ে খুটিনাটিও জানতে চেয়েছেন কেউ কেউ। তাকে জবাব দিতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বুঝ কতোটা দিতে পেরেছেন, পারছেন, পারবেন?
 
সাক্ষাতের পর রাতেই গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সিনিয়র নেতা এবং আইনজীবীদের সঙ্গে বসেন তিনি। সরকার শুধু তাঁকে একা কেন সাক্ষাৎ করতে দেয় এমন প্রশ্নও না-কি ছুঁড়েছেন কোনো কোনো সহকর্মী। ঈদের আগে দলের পাঁচজন সিনিয়র নেতা বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন।
 
বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও ঐ তালিকায় ছিল স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও ড. মঈন খানের নাম। কিন্তু অনুমতি মেলেনি। অনুমতি না পাওয়ার পরও রাজনৈতিক আবহ ধরে রাখতে ঈদের দিন তারা জেলগেট পর্যন্ত গিয়েছিলেন। তাদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। দেখা করতে পেরেছেন শুধু খালেদা জিয়ার বড় বোন সেলিমা ইসলামসহ পরিবারের কয়েক সদস্য।
 
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমগুলো খালেদা জিয়ার সঙ্গে মির্জা ফখরুলের সাক্ষাৎ নিয়ে নানা তথ্য দিচ্ছে। গরম খবর রচনাকারীরা রটনাও বাদ দিচ্ছেন না। যার কিছু অভিন্ন। কিছু সাংঘর্ষিক। পরস্পরবিরোধী। এর বাইরের তথ্য হচ্ছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠন ও নির্বাচন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পেয়েছেন মির্জা ফখরুল। যা তিনি সবাইকে বলছেন না। বলার মতোও নয়।
 
একাধিক সূত্রের বরাতে বেশি প্রচারিত তথ্য হচ্ছে, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট ভাঙতে সরকার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে ফখরুলকে সতর্ক করেছেন খালেদা জিয়া। তিনি মহাসচিবকে বলেছেন, তার অনুপস্থিতিতে অতীতেও অনেকবার বিএনপিকে ভাঙতে চক্রান্ত হয়েছে। এবারও বিএনপিকে দুর্বল করতে নানা ভয়-ভীতি এবং লোভ-লালসা দেখিয়ে দলের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
 
এর আভাস মিলেছে ফখরুলের কথায়ও। কয়েকটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, দল ও জোটকে ঐক্যবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে তিনি নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে চলমান আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচনের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখার।
 
নানা রচনা, রটনা প্রশ্ন ও সন্দেহের ডালপালা বিবেচনায় মির্জা ফখরুলের জন্য সময়টা বেশ খারাপ যাচ্ছে। সারাক্ষণই সতর্ক থাকতে হচ্ছে তাকে। দিতে হচ্ছে এন্তার প্রশ্নের জবাব। সেদিন চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পাওয়ার পর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করেন। সাক্ষাতের পরও তাদের অবহিত করেন।
 
এর আগে সর্বশেষ ৬ এপ্রিল তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এবারের সাক্ষাতে বিশেষ এবং বাড়তি বিষয় ছিল একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার আসন্ন রায়। মন্ত্রীদের কারো কারো বক্তব্যে এ মামলার রায়ে বিএনপি নেতাদের ফেঁসে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। খালেদা জিয়ার কাছ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকাও স্বাভাবিক। আর এর প্রমাণ মেলে মির্জা ফখরুলের কর্মতৎপরতায়। বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাতেই সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক তার খাস প্রমাণ। আইনজীবীদের সঙ্গে কথাবার্তা মামলা-মোকদ্দমার বাইরে অন্য কিছু নিয়ে না হওয়াই স্বাভাবিক। 
 
লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট; বার্তা সম্পাদক, বাংলাভিশন
 
এমএ/ ০৪:১১/ ২৯ আগস্ট

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে