Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (22 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-৩১-২০১৮

কুষ্টিয়ার ১১টি সিনেমা হল এখন গোডাউন-কমিউনিটি সেন্টার

মেজবা উদ্দিন পলাশ


কুষ্টিয়ার ১১টি সিনেমা হল এখন গোডাউন-কমিউনিটি সেন্টার

কুষ্টিয়া, ৩১ জুলাই- শিল্প-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের অন্যতম শহর হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া। এ শহরেই জন্মেছিলেন লালন শাহের মতো প্রখ্যাত বাউল ও মরমী গানের কবি-সাহিত্যিক। চিত্তবিনোদনের এক অনবদ্য শহর কুষ্টিয়া শহরে ৪টি এবং জেলার ছয় উপজেলায় আটটিসহ মোট ১২টি সিনেমা হল গড়ে উঠেছিল।

সেই ষাটের দশক থেকে একের পর এক গড়ে উঠেছিল এসব সিনেমা হল। দুর্বল কাহিনী, গুণগত মান নিম্নমুখী আর আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে এখন মাত্র ১টি সিনেমা হল টিকে আছে। বাকি ১১টি সিনেমা হলই হাড়ি-পাতিলের গোডাউন আর কমিউনিটি সেন্টারে রূপ নিয়েছে।

এতে করে বেকার হয়ে পড়েছে এ শিল্পের সাথে জড়িত কয়েকশ শ্রমিক। বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে একটি হলে নতুন নতুন ছবি দেখানো হলেও প্রায় সময় তা দর্শকশূন্য থাকে।


সরেজমিনে ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হলগুলো ঘুরে এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে প্রতিবেদকের কাছে।

ষাটের দশকের ইতিহাস থেকে জানা যায়, কুষ্ঠিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে গড়ে উঠেছিল রক্সি নামে একটি সিনেমা হল। কালের বিবর্তনে সেটি এখন হাড়ি-পাতিলের গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কুষ্টিয়া সাংস্কৃতিক রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় পরিমল থিয়েটার কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করেছিলেন কেয়া নামে একটি সিনেমা হল। সেটিও এখন বাণিজ্যিক কেন্দ্র পরিমল টাওয়ারে রূপ নিয়েছে।

ছবির মান ভালো না হওয়ায় দর্শক কমে যাওয়ায় বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে সদর পৌরসভার বাণী সিনেমা হলটিও। বাণী সিনেমা হল এখন কমিউনিটি সেন্টারে রূপ নিয়েছে। ব্যবসায়ী মন্দাভাব থাকায় মালিক পক্ষ আর লোকসানে হল চালাতে চান না— এমনটাই দাবি বন্ধ হল মালিক ব্যবসায়ীদের।

কুষ্টিয়া বনানী সিনেমা হলের পুরনো কর্মচারী খালেক বারীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বুকিং এজেন্টে তদারকির বিষয়ে সরকারি উদ্যোগ নিতে হবে, ট্যাক্স ও খাজনা কমাতে হবে। তাহলেই বন্ধ হলগুলো আবার চালু করা সম্ভব।

কুষ্টিয়ার রক্সি সিনেমা হল মালিক জামাল হোসেন বলেন, আগে হলে কোনো নতুন ছবি এলেই হাউজফুল হতো। এখন দর্শকই হয় না। লাভ তো দূরের কথা, কর্মচারীদের বেতন দেয়ার মতো উপার্জনই হয় না। তাহলে মালিকরা কিভাবে ব্যবসা চালাবে আর কর্মচারীরা বিনা বেতনে কত দিন চাকরি করবে? এ শিল্পের সাথে যারা জড়িত তাদের অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকেই জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েছেন ভিন্ন পেশায় চলে যেতে।

কুষ্টিয়া বনানী সিনেমা হলে আসা দর্শক ইমন বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে সিনেমা হলে ছবি দেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।


হলে ছবি দেখতে আসা আরো কিছু দর্শক জানিয়েছেন, সামাজিক, কাহিনী নির্ভর ও আধুনিক ডিজিটাল প্রিন্টে ছবি নির্মাণ হলে সিনেমা হলে দর্শকরা আসবে। তবে সবার আগে সিনেমা হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে সিনেমা দেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। তবেই বাংলা সিনেমার সেকাল ফিরে আসবে— এমন দাবি এসব বাংলা ছায়াছবির দর্শকরা।

বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হল প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া বনানী সিনেমা হল মালিক বকুল হোসেন বলেন, ভালো কাহিনী নির্ভর ছবি নির্মাণে উন্নত ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারি ঋণ সহায়তা প্রদান করা হলে বন্ধ সিনেমা হলগুলো আবার চালু করা সম্ভব। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ করে সিনেমা হলের নিরাপত্তা নিশ্চিতও করতে পারলে বাংলা চলচ্চিত্রকে জাগিয়ে তোলা যাবে- এমন প্রত্যাশা কুষ্টিয়ার সচেতন মহলের।

সূত্র: পরিবর্তন

আর/০৭:১৪/৩১ জুলাই

কুষ্টিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে