Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-০৯-২০১৩

নোবেল পুরস্কার রবীন্দ্রনাথের জন্য ছিল এক অশান্তি

আহমদ রফিক



	নোবেল পুরস্কার রবীন্দ্রনাথের জন্য ছিল এক অশান্তি

বাঙালির জন্য ১৯১৩ সালের ১৩/১৪ নভেম্বর স্মরণীয় দিন এবং তা তৎকালীন ভারতের জন্যও। কারণ এই প্রথম একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন। সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা ১৩ নভেম্বর, পত্রপত্রিকায় ১৪ নভেম্বর সে সংবাদ পড়ে বিশ্বের তাবৎ সাহিত্যামোদী মানুষ অবাক- একজন বাঙালি কবির নোবেল পুরস্কার পাওয়া যেন অত্যাশ্চর্য ঘটনার একটি। প্রসঙ্গত একটি অপ্রিয় কথা বলতে হয় : তখন এমনই ছিল বিশ্ব, উপনিবেশবাদী বিশ্ব।

মূলত গীতাঞ্জলি অর্থাৎ ইংরেজি গীতাঞ্জলি (Song Offerings) এ সম্মান বয়ে আনে।
 
তার সঙ্গে ছিল রবীন্দ্রনাথের আরো কয়েকটি ইংরেজি ভাষ্যের বই। যেমন- গার্ডেনার, ক্রিসেন্ট মুন, সাধনা ইত্যাদি। এমনকি ডাকঘর নাটকের ইংরেজি অনুবাদ তখন সেখানে অভিনীত হচ্ছে। কাজেই স্বল্প সময়ের হলেও এক ধরনের কবি ও লেখক পরিচিতি তখন রবীন্দ্রনাথের ছিল, যদিও তা মূলত ব্রিটেনে।
 
রবীন্দ্রনাথ চিরপথিক, পথ চলাতে তার আনন্দ, যদিও অন্বিষ্টের জন্য 'পথ চাওয়াতে'ও আনন্দ। পশ্চিমা সভ্যতার দেশগুলোতে ভ্রমণ এবং অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ে তাঁর আগ্রহ কম নয়, যেমন প্রাচ্যের দেশ চীন, জাপান, পারস্য, জাভা-বালি দ্বীপ ভ্রমণে। তবু অস্বীকার করা যাবে না, পাশ্চাত্য-সভ্যতা-সংস্কৃতির প্রতি তাঁর একটা আলাদা টান ছিল এবং মূলত তা আধুনিকতার কারণে। তাই একাধিকবার তাঁর ইউরোপ ও আমেরিকা সফর।
 
সেবার ইউরোপ যাত্রার প্রাক্কালে অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে রবীন্দ্রনাথের বিদেশযাত্রা স্থগিত। যথারীতি শরীর-স্বাস্থ্য মেরামত ও মনোবেদনা লাঘব করতে শিলাইদহে, পদ্মাতীরে নির্জন বাস। তখন চৈত্রবসন্ত (১৩১৮, মার্চ ১৯১১)। আমের মুকুলের গন্ধে শিলাইদহ কুঠিবাড়ির আশপাশ আমোদিত। কবির ভাষায়- 'এমন অবস্থায় চুপ করে থাকা যায় না- হাড়ে যখন হাওয়া লাগে তখন বেজে উঠতে চায়, ওটা চিরকেলে অভ্যাস।'
 
সেই অভ্যাসের টানে গীতিমাল্যের কবিতাগুলোর লেখা শুরু, যা গীতাঞ্জলিরই সমধর্মী। এক বছর আগে বাংলা গীতাঞ্জলি বেরিয়ে গেছে। সেখান থেকে বাছাই করা কবিতা একটি-দুটি করে অনুবাদ, অর্থাৎ গদ্যানুবাদ শুরু। রবি জীবনীকার প্রশান্ত কুমার পালের মতে প্রথম অনুবাদ সদ্যোরচিত 'আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ' (১৭ চৈত্র) গানটি। পরবর্তী অনুবাদ 'কোলাহল তো বারণ হলো' অবলম্বনে। প্রথম কবিতাটি 'গীতিমাল্য' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত।
 
গীতাঞ্জলির পাশাপাশি গীতিমাল্য, নৈবেদ্য, খেয়া, শিশু, চৈতালি, স্মরণ, উৎসর্গ, কল্পনা কাব্যগ্রন্থ ও অচলায়তন নাটক থেকেও কবিতা/গান অনুবাদ করেন রবীন্দ্রনাথ। সুস্থ হয়ে আবার সেই ইউরোপ যাত্রা, ২৪ মে, ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে, লন্ডনে পৌঁছে যান ১৬ জুন (১৯১২)। জাহাজে বসেও চলেছে অনুবাদ এবং লন্ডনে পৌঁছে দু-একটি কবিতা/গান রচনা ও তার অনুবাদ, যেমন 'সুন্দর বটে তব অঙ্গদখানি'। তবে অনুবাদ প্রধানত শিলাইদহে বসে। এভাবে তৈরি ইংরেজি গীতাঞ্জলির পাণ্ডুলিপি। মূল খাতাটি তিনি তুলে দেন চিত্রশিল্পী বন্ধু রোদেনস্টাইনের হাতে। তিনি আবার এর কপি পাঠান ইয়েট্স, স্টপফোর্ড ব্রুক ও অ্যান্ড্রু ব্র্যাডলির কাছে। প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক তিনজনের কাছ থেকেই।
 
তবে কবিতা পড়ে ইয়েটসের মুগ্ধতা ছিল বিস্ময়কর। পরে গীতাঞ্জলির দীর্ঘ মুখবন্ধে তিনি সে ঘটনা উল্লেখ করেছেন। শুরু হলো গীতাঞ্জলির কবিতাপাঠ, আলোচনা, মাঝেমধ্যে সান্ধ্যভোজ, দু-একটি কাগজে গীতাঞ্জলির কবিতা প্রকাশ ও তা নিয়ে মন্তব্য। বলতে হয়, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লন্ডনের কবি ও সুধী সমাজে মাতামাতি। মূলত গীতাঞ্জলির কবিতায় মানবীয় ঈশ্বরপ্রীতির কারণে।
অবশেষে লন্ডনের ইন্ডিয়া সোসাইটির উদ্যোগে ইংরেজিতে 'গীতাঞ্জলি' (Song Offerings') প্রকাশ ১৯১২ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বরে। পরে মার্চ, ১৯১৩ সালে বিখ্যাত ম্যাকমিলান কম্পানি এটি প্রকাশ করে। এতে কবিতার সংখ্যা ১০৩, অন্যদিকে বাংলা গীতাঞ্জলিতে রয়েছে ১৫৭টি কবিতা/গান। ইয়েটসের ভূমিকাসহ ইংরেজি গীতাঞ্জলির অভাবিত সমাদর। আট মাসের মধ্যে এই বইটির দশবার মুদ্রণ ম্যাকমিলান থেকে বিস্ময়কর বটে।
 
কবির বিদেশি বন্ধুগোষ্ঠী ও ঘনিষ্ঠজন বিশেষ করে ইয়েটস, স্টার্জ মুর, আর্নেস্ট রিজ, মে সিনক্লেয়ার, ইভলিন আন্ডারহিল, রবার্ট ব্রিজেস- সবাই অবাক। এমনকি মার্কিন কবি এজরা পাউন্ডও, যিনি গীতাঞ্জলির কিছু কবিতা স্থানীয় পত্রিকায় ছাপার ব্যবস্থা করেন এবং হয়ে ওঠেন রবীন্দ্রনাথের কবিতার একজন মুগ্ধ পাঠক। পাউন্ড রবীন্দ্রনাথকে তাঁর একটি বই উপহার দিতে গিয়ে লেখেন- with profoundest admiration কথা কটি।
 
এবার পত্রপত্রিকায় গীতাঞ্জলি-বন্দনা। তাঁদের ভাষায় 'আধাছন্দোময় প্রোফেটিক কাব্যপঙক্তি' নিয়ে। কারো ভাষায় রবীন্দ্রনাথ 'মিস্টিক কবি', কারো মতে 'যুগান্তকারী স্রষ্টা', কেউ তাঁকে আখ্যায়িত করেন 'কবি ও সন্ত'। আবার কারো মতে, এগুলো যেন 'ডেভিডের স্তোত্র'। আসলে গীতাঞ্জলির কবিতায় তাঁরা দেখেছিলেন মানবিক খ্রিস্টীয় সারল্যের সঙ্গে ঈশ্বরপ্রেমের প্রকাশ। তখন অস্থির ও অশান্ত ইউরোপের জন্য গীতাঞ্জলির কবিতা নিয়ে আসে শান্তিসুধা। পল ন্যাস সংগত কারণে গীতাঞ্জলি পড়ে 'বাইবেল পাঠের আনন্দ' পান। তবে এ আনন্দ তখন এবং কিছুকাল পরেও যে-যার মতো করে পেয়েছেন। যেমন সৈনিক-কবি রবার্ট ওয়েন বা আর্জেন্টাইন বিদূষী ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো।
ইংরেজি গীতাঞ্জলি অনূদিত হয় একাধিক ইউরোপীয় ভাষায়। নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগে সুইডিশ ভাষায়। এরপর ফরাসি, জার্মান, ডাচ, ড্যানিশ ইত্যাদি ভাষায় এবং পরে রুশ এমনকি স্পেনীয় ভাষায়ও অনূদিত হয়। অধিকাংশ দেশেই গীতাঞ্জলি পাঠক সমাজে সাড়া জাগায়। প্রশ্ন উঠতে পারে, কী এমন ছিল গীতাঞ্জলির কবিতায়, যা ইউরোপীয় চিত্তে এতটা মুগ্ধতা সৃষ্টি করে?
 
এককথায় বলা যায়, এর কারণ গীতাঞ্জলির কবিতায় মানবীয় ঈশ্বরপ্রেমের ভক্তিবাদী প্রকাশ। মানুষ, প্রকৃতি, ঈশ্বর- এই তিনে মিলে একাত্ম। জীবন-মৃত্যু যেন এক অদৃশ্য সুতোয় গাঁথা বাস্তবতা। তাই মৃত্যুর জন্য শোক অর্থহীন। গীতাঞ্জলির বড় আকর্ষণীয় দিক এর সহজ, সারল্য যেমন ভাষায়, তেমনি প্রকাশশৈলীতে। সর্বোপরি গীতাঞ্জলি জীবন-বিমুখ নয়। সে অজানাকে জানতে, দূরকে নিকট, বন্ধু ও পরকে ভাই করতে সাহায্য করে। যে কবি 'জগতের আনন্দযজ্ঞে' নিমন্ত্রিত হয়ে 'মানবজীবন ধন্য' করতে চায়, তাকে তখনকার ইউরোপীয় পরিবেশে দূরে ঠেলে ফেলা একটু কঠিনই ছিল। এ সবই ছিল গীতাঞ্জলির পাঠকপ্রিয়তার কারণ।
 
(দুই)
সেবার (১৯১৩) সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়ে সুইডিশ একাডেমী। তালিকায় ২৮ জন বিশিষ্ট কবি-কথাশিল্পী-ইতিহাসবিদ লেখক। রয়েছেন কয়েকজন খ্যাতনামা ব্যক্তিও, যেমন প্রবীণ ইংরেজ কবি টমাস হার্ডি, সাহিত্যিক আনাতোল ফ্রাঁস, গ্রাৎসিয়া দেলেদ্দা প্রমুখ। হার্ডি ছিলেন লন্ডনের অভিজাত সাহিত্য সংস্থা 'রয়েল সোসাইটি অব লিটেরেচার'-এর মনোনীত প্রার্থী। বাতাসে গুঞ্জন ছিল- এবার তিনিই পাবেন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। এঁদের পাশে অপরিচিত একটি নাম রবীন্দ্রনাথ টেগোর। যদিও এ নামটির প্রস্তাবক পূর্বোক্ত রয়েল সোসাইটিরই একজন খ্যাতিমান সদস্য স্যার টমাস স্টার্জ মুর। ব্যক্তিগত ভালোলাগা থেকে তিনি গীতাঞ্জলির কবি রবীন্দ্রনাথের নাম প্রস্তাব করেন নোবেল পুরস্কারের জন্য।
রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা ইউরোপীয় ভুবনে কারোরই মাথায় ছিল না। এমনকি ছিল না নোবেল কমিটির চেয়ারম্যানসহ অধিকাংশ সদস্যের ভাবনায়। কিন্তু কাকতালীয় ঘটনা যে রবীন্দ্রনাথ ও গীতাঞ্জলি সম্বন্ধে আগ্রহী ছিলেন একাডেমীর দু-তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। যেমন কবি-সমালোচক পের হলস্ট্রম, অধ্যাপক হেনরিখ তেগনার এবং বিশেষভাবে খ্যাতনামা সুইডিশ কবি কার্ল গুস্তাফ হেইডেন স্ট্যাম।
 
পের হলস্ট্রম তাঁর দীর্ঘ প্রতিবেদনে গীতাঞ্জলির 'নান্দনিক সৌন্দর্য', কবিতাগুলোতে নিহিত 'মহৎ মানবিকতা, ধ্রুপদী সারল্য' ও চিত্র জপময়তার বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরে লেখেন যে সমকালীন ইউরোপীয় সাহিত্যে এমন কাব্যগুণ বিরল। অত্যুক্তির মতো শোনাবে, যখন তিনি মন্তব্য করেন যে জার্মান কবি গ্যেটের মৃত্যুর পর ইউরোপ এমন কবির দেখা পায়নি। বাংলাসহ বহুভাষা জানা অধ্যাপক হেনরিখ তেগনারের বক্তব্যেও ছিল গীতাঞ্জলির প্রশংসা।
 
কিন্তু 'আনিলাম অপরিচিতের নাম' বললেই কি ইউরোপের বাস্তববাদী মন সহজে ভোলে? তবে কিছুটা গলেছিল নামি কবি কার্ল হেইডেনস্ট্যামের অকুণ্ঠ ও যুক্তিবাদী প্রশংসায়। প্রশংসা গীতাঞ্জলি ও তার সগ্ধপাঠক। পড়েছেন গার্ডেনারের কবিতাও। তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন গীতাঞ্জলির মানবীয় ঈশ্বরবন্দনার ওপর। সবশেষে লেখেন : Now that we have finally found an ideal poet of really great stature, we should not pass him over। একই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পক্ষে আরো কিছু জোরালো বক্তব্য।
 
সম্ভবত এই সুইডিশ কবির বক্তব্য একাডেমীর অন্য সদস্যদের প্রভাবিত করে। তাঁরাও গীতাঞ্জলি পাঠে মুগ্ধ। মুগ্ধ কবিতাগুলোর গীতল লালিত্যে ও ঈশ্বরপ্রেমে খ্রিস্টীয় মহিমার প্রতিফলন লক্ষ করে। এর পরই বলতে হয় সেই অঘটন। প্রবীণ কবি টমাস হার্ডি বা আনাতোল ফ্রাঁসের মতো খ্যাতনামাদের অগ্রাহ্য করে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য গীতাঞ্জলির কবিকেই সে বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন। সুইডিশ একাডেমীর পক্ষ থেকে এ ঘোষণা প্রচারিত হয় ১৩ নভেম্বর, যেমনটা আগে বলা হয়েছে।
 
(তিন)
পত্রপত্রিকায় এ ঘোষণা 'জগৎ জুড়ে উদার সুরে' হলেও সবার পক্ষে উদারভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। প্রতীচ্যের বন্ধুবর্গের বড়সড় অংশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। নোবেল পুরস্কার তাঁদের রবীন্দ্রমুগ্ধতা থেকে মুক্তি দেয়। বিশেষ করে পাউন্ড ও ইয়েটসের বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল অবিশ্বাস্য। অন্তত রবীন্দ্রনাথকে আহত করার জন্য যথেষ্ট। এজরা পাউন্ডও নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর রবীন্দ্রনাথকে অভিনন্দন-বার্তা পাঠানোর সৌজন্যটুকু দেখাতে পারেননি।
 
ঈর্ষা মানব চরিত্রের এমন এক ভয়ংকর উপকরণ, যার প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা কঠিন। হোন না তিনি প্রতিভাবান কবি ও শিল্পী বা দার্শনিক। রবীন্দ্রনাথের অন্তরঙ্গমহল সেই কালো ঈর্ষার শিকার। গীতাঞ্জলির মানুষ-ঈশ্বর-ভালোবাসা মূল্যহীন হয়ে দাঁড়ায়। কবির সবচেয়ে কাছের মানুষ আর্নেস্ট রিজ ৯ জানুয়ারি (১৯১৪) রবীন্দ্রনাথকে লেখেন : A rather sharp wedge has been driven into our close circle, since you left us, but we try to be stoical. heaven be good to you. দিন কয় পর স্টার্জ মুর কথাটা আরো স্পষ্ট করে লেখেন : Your having won the Nobel prize when Hardy had been the official candidate of the Royal Society of Literature ... has made you a certain number of enemies whose ill will is not solely due to the fickleness of their minds, আরেক ঘনিষ্ঠজন কবি রবার্ট ব্রিজেস রবীন্দ্রনাথকে অভিনন্দন জানান সাত মাস পর। তাও এক রকম তির্যক ভাষায়। আসলে হার্ডির পুরস্কার না-পাওয়ার ঘটনা ইংরেজ সুধী মহল সহজভাবে নিতে পারেনি।
তবে ব্রিটিশ পত্রপত্রিকাগুলো অভিনন্দনের সুরেই নোবেল পুরস্কারের খবর ছাপে, কোনো কোনো কাগজে ছিল প্রচ্ছন্ন অসন্তোষ। মার্কিনি পত্রিকার বড় অংশ এ ক্ষেত্রে সুরুচির পরিচয় দিতে পারেনি। ভাবটা এমন- কোথাকার কোন অজানা-অচেনা অখ্যাত কবিকে সুইডেন নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত করেছে। কেউ সুইডিশ একাডেমীকে এক হাত নিয়েছে এই সিদ্ধান্তের জন্য।
 
কিন্তু রবীন্দ্রনাথের জন্য বড় আঘাত ছিল স্বদেশে রবীন্দ্র বিদূষকদের কুৎসিৎ ভূমিকা। সেখানে ছিলেন খ্যাতনামা কবি, সাংবাদিক, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, কবি ডি এল রায়, সুরেশচন্দ্র সমাজপতি, হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়, মোহিত লাল মজুমদার প্রমুখ, পরবর্তীকালে নীরদ চৌধুরী। শান্তিনিকেতনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় বিদূষকদের প্রথম সারিতে উপস্থিত দেখে রবীন্দ্রনাথের সেই প্রথমবারের মতো রীতি না-মানা তিক্ত, বিস্ফোরক, ঐতিহাসিক বক্তৃতা- যা তাঁর ভক্তদেরও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মনে রাখা দরকার, রবীন্দ্র-বিদূষকদের সংখ্যা ও প্রভাব নেহাৎ কম ছিল না, যে জন্য নোবেল পুরস্কার তাঁর জন্য যন্ত্রণার উৎস হয়ে দাঁড়ায়। দুর্ভাগ্য, রবীন্দ্রনাথের বাংলাদেশে জন্ম। তবে এর মূলে ঈর্ষায় মত্ত রক্ষণশীল শিক্ষিত শ্রেণী। সাধারণ মানুষ কবিকে সাদর অভিনন্দন জানাতে দ্বিধা করেনি। কালিগ্রামের কৃষক সাধারণ মানুষ অন্তত একটি উদাহরণ।

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে