Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (35 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৬-০৯-২০১৮

পাহাড় ধসে প্রাণ হারাতে পারে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ!

পাহাড় ধসে প্রাণ হারাতে পারে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ!

বান্দরবান, ০৯ জুন- অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ের গাছ-বাঁশ বনজ সম্পদ উজাড় করার কারণেও জেলা সদরসহ ৭টি উপজেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ।  

অর্থাৎ যেকোনো সময় রাঙামাটির মতো বা এর চাইতে আরও ভয়ানক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বান্দরবানেও। পড়তে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলেও। 

প্রতি বছরই পাহাড় ধসে বান্দরবানে প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। তার পরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বাস করছেন জেলার সদর, লামা, রোয়াংছড়ি, থানছি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি এবং রুমা উপজেলায় দুর্গম অঞ্চলগুলোর প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। 

মাথা গোঁজার ঠাই হিসেবে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিতভাবে বসতি গড়ে তুলেছে এসব হাজার হাজার পরিবার। বসবাসের প্রয়োজনে অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় এবং গাছ কাটার কারণে ঘটছে একের পর এক পাহাড় ধসের ঘটনা। এত মানুষের প্রাণহানি ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরেও বান্দরবানে বন্ধ হচ্ছে না পাথর উত্তোলন এবং নির্বিচারে পাহাড় কাটা।

ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের মতে, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীরা প্রায় শ্রমিক শ্রেণির মানুষ এবং যারা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে তাদের মধ্যে হতদরিদ্র পরিবারের সংখ্যাই বেশি। জীবিকার তাগিদে পাহাড়ের ঢালুতে পাহাড় কেটে তৈরি করা আবাসস্থলগুলোতে কম ভাড়ায় বসবাস করা যায়। কিন্তু বৃষ্টি শুরু হলেই মাইকিং করে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া এবং কাগজে কলমে পুনর্বাসন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে কিছুই নেই। যার কারণে প্রতি বছর প্রাণ হানির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

তাদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য অন্যত্র আবাসনের ব্যবস্থা করে না দেয়ায় নিজেদের ভিটামাটি ছেড়ে যেতে চান না তারা।

এদিকে বান্দরবান জেলা সদরসহ ৭টি উপজেলায় বিভিন্ন সময় প্রবল বর্ষণ ও ভূমি ধসে ২০১১ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ৮৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই পাহাড় কেটে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছে এসব পরিবার। 

বান্দরবান মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম জানান, পাহাড় ধস তাৎক্ষনিক ঘটনা মনে হলেও এটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়ার ফসল। ভূমিক্ষয়ের মাধ্যমে পাহাড়ে ফাটল তৈরি হয় এবং ধস নামে। পাহাড় ধসের অন্যতম কারণ হচ্ছে-নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা এবং উপযুক্ত পদ্ধতি অবলম্বন না করে পাহাড়ে চাষাবাদ করায়। 

তিনি আরও বলেন, পাহাড় ধস বন্ধে বৃক্ষ নিধণ এবং পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে প্রতিনিয়ত প্রাণ হানির ঘটনা আরও বাড়বে।

জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন জানান, বর্ষা শুরু আগে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে লোকজনকে প্রাথমিকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ৭টি উপজেলার ইউএনও ও ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে অতিঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে লোকজনকে প্রাথমিকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার জন্য। এছাড়াও পৌর সভা এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যারা রয়েছে তাদেরকে নিরাপদে রাখার জন্য আশ্রয় কেন্দ্রে গুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং বর্ষার শুরুতে তাদেরকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য পৌর কাউন্সিলারদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সূত্র: আরটিভি অনলাইন
এমএ/ ০২:০০/ ০৯ জুন

বান্দরবান

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে