Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (40 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৬-০৬-২০১৮

মা নিয়ে যেত খদ্দেরের কাছে, বাবা করতো মারধর

মা নিয়ে যেত খদ্দেরের কাছে, বাবা করতো মারধর

বরগুনা, ০৬ জুন- বরগুনায় এক তরুণীকে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করায় এক মা ও তার দ্বিতীয় স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে বরগুনা থানা পুলিশ। সোমবার রাতে বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় বরগুনা থানায় একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবার মৃত্যুর পর ১৯ মাস বয়স থেকে মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে অযত্ন অবহেলায় বেড়ে ওঠে ওই তরুণী। স্থানীয় একটি মাদরাসায় সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করলেও একসময় তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই তাকে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তির কাজে বাধ্য করা হয়।

এ বিষয়ে নির্যাতিত তরুণী জানায়, শারীরিক অসুস্থতা এবং মানসিক অবস্থা যেমনই থাকুক না কেন নিষ্ঠুর মা আর তার স্বামীর নির্দেশে দিনরাত তাকে বাধ্য করতো পতিতাবৃত্তিতে। রাজি না হলে চলতো নিষ্ঠুর নির্যাতন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এমন নির্মম নির্যাতনের একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই তরুণী। পরে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য বরগুনার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে তাকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত মা ও তার স্বামী। কেউ রাজি না হওয়ায় গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ালেও সাত মাসের এক কন্যা শিশুর জন্ম দেয় ওই তরুণী। জন্মের পর শিশুটির মুখে লবণ দিয়ে হত্যা করে ভুক্তভোগী ওই তরুণীর মা, মায়ের দ্বিতীয় স্বামী এবং দ্বিতীয় স্বামীর মেয়ে। হত্যার পর বাড়ির পাশের এক ঝোঁপের মধ্যে শিশুটিকে মাটিচাপা দেয় তারা। এ ঘটনার তিন দিনের মাথায় আবারও একাধিক পুরুষের সঙ্গে ওই কিশোরীকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে নিষ্ঠুর মা ও তার স্বামী।

গত ২রা জুন রাতেও তাকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে তার মা ও মায়ের স্বামী। সর্বশেষ সোমবার রাতে পুনরায় তাকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে অপারগতা প্রকাশ করে তাদের কাছে অনুনয়-বিনয় করে ওই তরুণী। অনুনয়-বিনয় না শুনে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালায় মা ও তার দ্বিতীয় স্বামী। একপর্যায়ে চিৎকার শুরু করে তরণী। চিৎকারের খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে বরগুনা থানায় নিয়ে যায় প্রতিবেশীরা। 

বরগুনা থানার ওসি এসএম মাসুদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী সোমবার রাতে মামলা করেছেন। রাতেই সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আঙ্গার পাড়া গ্রাম থেকে অভিযুক্ত লাইলী বেগম (৪৫) ও তার দ্বিতীয় স্বামী খালেক মোল্লাকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। মঙ্গলবার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ওই তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

তথ্যসূত্র: মানবজমিন
আরএস/০৯:০০/ ০৬ জুন

বরগুনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে