Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (96 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-২৪-২০১৮

শৈশবের জগতে ভ্রমণ

শাহাদাত হোসেন


শৈশবের জগতে ভ্রমণ

শূন্য দশকের কবি সৈয়দ তৌফিক জুহরী রচিত 'পাখি ওড়ার দিন' একটি কিশোর কবিতার চোখ ধাঁধানো মনোরম সংকলন। প্রকাশনার দিক থেকে এটি তার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। তবে কিশোর কবিতার প্রথম সংকলন। এ ছাড়া কবির অন্যান্য বই : অন্ধহরিণ (২০১১), জলপাত্রে ফড়িং (২০১৩) কাব্যগ্রন্থ দুটি পেয়েছে পাঠকপ্রিয়তা। 

'পাখি ওড়ার দিন' গ্রন্থটিতে রয়েছে সর্বসাকুল্যে কুড়িটি কিশোর কবিতা। আর প্রতিটি কবিতার কেন্দ্রে রয়েছে একটি করে আমাদের চারপাশে বেড়ে ওঠা পাখির বর্ণনা। বলা যেতে পারে, এটি পাখিবিষয়ক মনে রাখার মতো কবিতার একটি বই। বাংলা কাব্য সাহিত্যে এটিই প্রথম গ্রন্থ বলে মনে হয়, যা শুধু পাখি নিয়ে রচিত হয়েছে। কবি তৌফিক জুহরী আমাদের প্রায় বিলুপ্ত পাখিদের বৈশিষ্ট্যসহ শব্দের মিহি দানায় তাদের গ্রন্থিভূত করেছেন। সেই সঙ্গে জুড়ে আছে রূপকথার পাখিও। অর্থাৎ কবি শিশুর মনস্তত্ত্বের সম্পূর্ণ ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন গ্রন্থটিতে। যা অবশ্যই ব্যতিক্রম শিল্পের (বিষয়গত দিক থেকে) মাইলফলক। গ্রন্থটির প্রথম কবিতাটির কথা ধরা যাক, কবি নাম দিয়েছেন, 'দোয়েল পাখি'। তবে এই কবিতার প্রসঙ্গের আগে আমি উৎসর্গে লিপিবদ্ধ কবিতাটি নিয়ে বলতে চাই। উৎসর্গে আমাদের দেশে পিতা-পুত্রের সম্পর্কের যে পবিত্রময় সরলতা তার বর্ণনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কবি। বাবা সবসময় সন্তানকে ছোট দেখতে ভালোবাসেন। তার (বাবার) কাছে সন্তান থাকে সবসময় ছোট্ট খোকা। বয়সের সঙ্গে দৈহিক আকৃতিতে সন্তান বৃদ্ধি লাভ করলেও বাবার কাছে সে (সন্তান) ছোটই থাকে। পিতার সেই চিরায়ত অভিব্যক্তি- 'দিন চলে যায়/ রাত চলে যায়/ বছর আসে/ খোকন সোনা/ হয় না বড়/ বাবার কাছে।'

এভাবে শ্যামা, চড়ূই, মাছরাঙা, বাঁশপাতি, সাদা বক, কুটুম, ফিঙে, ডাহুক, কাক, শকুন, মধুপায়ী, ফুলটুসি, তোতা, দুক্‌কা ও গাঙচিল নিয়ে রয়েছে কবিতা। কুটুমপাখি নিয়ে আমাদের সমাজে আছে এক ধরনের প্রচলিত বিশ্বাস। কুটুমপাখি ডাকলে নাকি বাড়িতে কুটুম আসে। আর তাই কুটুমপাখির ডাক শুনেই শুরু হতো গ্রাম-গঞ্জে মেহমান আপ্যায়নের আয়োজন। কিন্তু কালের গহ্বরে আজ সে সব রূপকথার মতো। এখন আর কুটুমপাখি দেখা যায় না। মানুষের অপরিকল্পিত নগরায়ন, বন উজাড়সহ বিভিন্ন কারণে আজ কুটুমপাখি প্রায় বিলুপ্তির পথে। কুটুমপাখির পাশাপাশি বিলুপ্তির পথে অন্য পাখিরাও। 

যে মানুষ পাখি মারে, সেই মানুষই আবার তারে বুকে লালন করেন পাখি হওয়ার, বিশ্বাসটাকে ঘুরে দেখার স্বপ্ন। পাখি না হতে পেরে তৈরি করেন ঘুড়ি। স্বপ্ন পূরণে সুতো বেঁধে অসীম আকাশে উড়িয়ে দেন। আর তখন দূরের আকাশ হয়ে ওঠে আপনজন- 'এই আকাশ নয় রে শুধু/ একলা পাখির ঘর,/ উড়িয়ে ঘুড়ি বুঝতে পারি/ আকাশটা নয় পর।' (পাখি এবং ঘুড়ি) 

'পাখি ওড়ার দিন' বিষয়বস্তুতে যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি ভাষায় রয়েছে বোধগম্য সহজবোধ্যতা। কিশোর কবিতার যে মেজাজ, ভাষার যে সরলতা, শব্দের সহজ গাঁথুনি আর সেই সঙ্গেই রয়েছে সরল ছন্দের মেজাজে ভরপুর। কোনো কবিতার অন্তমিল আমার কাছে দুর্বল মনে হয়েছে। অন্তমিল পর্বের কিছু অসামঞ্জস্য থাকলেও কবিতার যে স্বাভাবিক সৌন্দর্য তা থেকে পাঠক একটুও বঞ্চিত হয় না। 

তবে একটি কবিতায় মনে হয়েছে ছন্দের স্বাভাবিক গতিময়তা বাধা পেয়েছে। কবি কী এটি সচেতনভাবে করেছেন? নাকি সহজবোধ্য করতে গিয়ে ছন্দের গতিময়তাকে বাধাগ্রস্ত করেছেন? তা অজানা। তবে গতিময়তায় বাধা পেলেও মূল বিষয় তুলে ধরেছেন স্পষ্টভাবে। হয়তো কিশোরদের বোধগম্য করার জন্য কবি এটা করতে হয়েছেন। লাইন দুটি এই রকম- 'লুকিয়েই থাকে বলে কেউ তাকে দেখে না,/ সব ফুলটুসিদের সাথে দলে নাম লেখে না।' ( ফুলটুসি না-কি তোতা?)

সবকিছু মিলিয়ে 'পাখি ওড়ার দিন' গ্রন্থটিতে ভালো কিশোর কবিতায় সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। 

লেখক
সৈয়দ তৌফিক জুহরী
প্রকাশক
চিহ্ন
প্রকাশকাল ২০১৮
দাম ৯৯ টাকা

এমএ/ ১০:৩৩/ ২৪ এপ্রিল

বইপত্র

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে