Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (56 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০৭-২০১৮

আমাদের পাখি জীবন

লুৎফর হাসান


আমাদের পাখি জীবন

ঝিনাই নামের এক নদী, শীতে ভীষণ কাঁপছে। কিছুদিন আগে পানি নেমে গেছে। এখনও চিহ্ন আছে তার। অল্প জলে নেমে মাছ হাতড়ে বেড়াচ্ছি; হাতের আঙুল থেকে মাছ ফসকে যাচ্ছে বারবার। পাড় থেকে নদীর এই জায়গাটা অনেক নিচে। ছায়া পড়ে আছে খুব। এই ছায়ার ছবি দারুণ দেখতে। নদীর ছায়া যে। পাড়ে জানুয়ারির আকাশ থেকে খসে পড়া রোদ্দুর। তা গায়ে মেখে বেণিতে আঙুল প্যাঁচাচ্ছে রিক্তা নামে এক কিশোরী। ক্লাস ডিঙিয়ে সে এখন সিক্সে। সাথে আমিও। গলা উঁচিয়ে সে বলল, 'ওই লুৎফর, তোরে এক কেলাশ নামায়া মাদ্রাসায় ভর্তি করায়া দেবে তোর বাপ। তোগোর বাড়িতে হুজুর আইছে, তাত্তাড়ি আয়।' রিক্তার কথা শুনে আমি হাঁটুভর্তি কাদা নিয়ে ছুটে আসি বাড়িতে। লিচুগাছের নিচে চেয়ার পেতে বসেছেন এক হুজুর। চিনি তাকে। শীতের সময় এদিকে ওয়াজ করে বেড়ান আর দাওয়াত খান শুধু। কাছে ডাকলেন তিনি। আব্বার দিকে তাকালাম। আব্বা জানালেন, 'কাল থেকে তুই নবগ্রাম দাখিল মাদ্রাসায়।' ১৯৮৮ সালের সেই শীতকাল, সেই জানুয়ারি, আমাকে ভরা বর্ষায় আচ্ছন্ন করে দিল। ঝরঝর করে কাঁদলাম। বললাম, আমি মাদ্রাসায় যাব না। প্রাইমারি শেষ। বন্ধুরা যাবে থানা শহরের স্কুলে। আমি গিয়ে এক ক্লাস নিচে নেমে যাব? ও-রকম এক নিঝুম গ্রামে আব্বা বলে যারা থাকেন, তারাই প্রভুর প্রতিনিধি। চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই। শুরু হলো আমার আরেক জীবন। 

প্রকা বটগাছের নিচে কয়েকশ' বছরের পুরনো কালীমন্দির, ইংরেজ আমলের পোস্ট অফিস, দুইশ' বছর আগের এক দেবদারুর জঙ্গল, নিচে ঝিনাই নদী। আরও পুরনো এক বুড়ো বকুল গাছ বুকে নিয়ে একটা স্কুল, নবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেই স্কুল ফেলে আমি চলে গেলাম উত্তরে; উজানে। সেটা নবগ্রাম মাদ্রাসা। পাশাপাশি কবরস্থান আর শ্মশান, মাঝখানে জঙ্গল। জঙ্গল পেরুলেই জেলেপল্লী। জেলেরা জাল শুকায় যেখানে, সেখানে এক বিচ্ছিন্ন জমিতে একটা টিনের ঘর, বাঁশের বেড়া, মাটির মেঝে। সেই মেঝেতে দুই পাশে দুইটা কাঠের বেঞ্চ। একটাতে পাজামা-পাঞ্জাবি আর টুপি পরা সাইফুল, আক্তার, সাইদ, হাবিবুল্লাহ, এছহাক আর আমি। আরেকটাতে বোরকা পরা খালেদা, লিজা, ফাহিমা, কুলসুম আর চায়না। সামনে টেবিল। সেখানে বেত রেখে আরবি ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন মুকাব্বের হুজুর। একদম অচেনা এক জীবন। আমি ব্ল্যাকবোর্ডে আর কী তাকাব! কীভাবে তাকাব আমার বইয়ের দিকে? আমি তো কিছুই বুঝি না এসব। আমাদের বাড়িতে ইত্তেফাক পত্রিকা আসে। বড় মামা নিয়ে আসেন। আম্মার হাতে দেখি সাপ্তাহিক বিচিত্রা, দেশ পত্রিকা। ঘরভর্তি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, শরৎচন্দ্র, সুনীল, সমরেশ, শীর্ষেন্দু। আগ্রহ নিয়ে পড়ি সেসব। আরবি ব্যাকরণ আমি কী বুঝব এই কাঁচা বয়সে? টাস্‌ করে একটা বেতের বাড়ি। তাকাই লজ্জায় অন্যদিকে। সেদিকে লিজা আর ফাহিমারা। কেন তাকালাম? নালিশ চলে যায় হুজুরের কাছে। বেগানা নারীর দিকে তাকানোর অপরাধে আক্তার, সাইফুল আর আমার হাত বেতের আঘাতে আঘাতে রক্তাক্ত। বেগানা নারী বলতে আমাদের সমবয়সী ফাহিমা ওরাই। আমাদের বয়স তখন সবে ১১ অথবা বড়জোর ১২। জানলাম, মাদ্রাসায় বড়রা পড়ে। সেখানেই তিন বছর। আমি ৮৯ সালেই অনেক বড় হয়ে গেলাম। 

মাদ্রাসায় ইছালে সওয়াব মাহফিলের জন্য আমাকে বসিয়ে দেওয়া হলো রাস্তায়। টেবিলে মাইক রেখে ওয়াজ। দানকারীর পিতা-মাতার আল্লাহ্‌ সুখে রাইখো কবরে/ নূরের তাজ পরাইয়া দিয়া উঠাইও রোজ-হাশরে। আমার কণ্ঠ ভালো ছিল। ভালো গান গাইতাম। মাদ্রাসায় গান নিষেধ। ওয়াজ আর ইসলামী গজল। সুরেলা কণ্ঠে আমি ওয়াজ করতে আর টাকা ওঠাতে লাগলাম। ইছালে সওয়াবে এসে অনেকে মাদ্রাসায় ধান দেওয়ার স্বীকারোক্তি দিয়ে গেল। এবার বাইসাইকেলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই ধান সংগ্রহের পালা। নবগ্রামের এ প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে গিয়ে গিয়ে ধান ওঠাতে লাগলাম। গ্রামের স্কুলের সহপাঠীরা আমাকে মুন্সী বলতে শুরু করল। গ্রামের হাঁস-মুরগি জবাইয়ের কাজটা রপ্ত করতে হলো সেই বয়সেই। আমি কেমন যেন হয়ে যাচ্ছিলাম! একুশে ফেব্রুয়ারিতে নবগ্রাম স্কুলে শহীদ মিনার বানাতাম আমরা। প্রভাতফেরিতে যেতাম। ২৬ মার্চে খেলতে নামতাম। আমি গান গাইতাম বিচিত্রা অনুষ্ঠানে। নবগ্রাম মাদ্রাসায় জাতীয় সঙ্গীত গাইত না কেউ। এসব দেখে আমার খুব মন-মরা থাকত। একদিন আব্বাকে একজন হুজুর এসে বললেন, 'আপনার ছেলে মেধাবী। তার কণ্ঠ ভালো, ছড়া-কবিতা লেখে, টাস-টাস কথা বলে। গ্রামের মাদ্রাসায় না পড়িয়ে তাকে শহরের মাদ্রাসায় দিয়ে দেন।' আব্বা রাজি হয়ে গেলেন। আমি নবগ্রাম মাদ্রাসায় ফার্স্ট বয় ছিলাম। আমাকে তারা ছাড়বেন না। আব্বা জোর করেই তাদের কাছ থেকে আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেলেন। ভর্তি করিয়ে দিলেন গোপালপুর আলিয়া মাদ্রাসায়। আমার সেই আওয়াল হুজুরের কারণে আমি মুক্তি পেলাম আপাতত। 

নবগ্রাম থেকে গোপালপুর শহরের দূরত্ব পাঁচ কিলোমিটার। মূল রাস্তায় হেঁটে যেতে এক ঘণ্টা লাগত। ঘুরে যেতে হতো তাই। আমি বেছে নিলাম গ্রামের মাঝখান দিয়ে যে রাস্তা হেলেঞ্চা বিলের পাশ ঘেঁষে ভুয়ারপাড়া চলে গেছে, সেই রাস্তা। হেঁটে প্রতিদিন মাদ্রাসায় যেতে থাকলাম। নতুন এক জীবনের খোঁজ পেয়ে গেলাম। মাদ্রাসার পাশেই কাকলী সিনেমা হল। হলের ভেতর থেকে গান ভেসে আসত বাইরে। টুপি খুলে পাঞ্জাবির পকেটে ভরে নিয়ে আমি সিনেমা হলে ঢুকতাম। বুঁদ হয়ে সিনেমা দেখতাম। সিনেমা শেষ হতে হতে সন্ধ্যে নেমে যেত। বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত। হলের ভেতরের বিড়ির উটকো গন্ধ লেগে থাকত শরীরে। সেই গন্ধ শুঁকে দেখতেন আব্বা। জিজ্ঞেস করতেন। আমি বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা বলতাম। বলতাম, হাটের মাঝখান দিয়ে আসি। কত লোক! হেঁটে আসি, ঘেমে যাই; তাই এত গন্ধ। আব্বা সিদ্ধান্ত নিলেন, আমাকে হোস্টেলে রাখবেন। গোপালপুর আলিয়া মাদ্রাসার হোস্টেল শহর থেকে পুবদিকে। আভুঙ্গি নামে এক জায়গায়। আমি হোস্টেলে গিয়ে উঠলাম। 

আলিয়া মাদ্রাসার সুনাম ছিল উত্তর টাঙ্গাইলে। আমাদের সময়ে আন্তঃস্কুল-মাদ্রাসা ফুটবলে শক্তিশালী দল ছিল আমাদের মাদ্রাসা। প্রতি বছর অনেক ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারত। বোর্ড স্ট্যান্ড করা অনেক ছাত্রই আমাদের মাদ্রাসার। ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতো। অংশগ্রহণ করত ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। শিবির কোনো পদেই জয়ী হতো না। এ মাদ্রাসা সাংস্কৃতিক কর্মকাে ও ছিল ভীষণ এগিয়ে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নামকরা সব স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পেছনে ফেলে অনেক অনেক পুরস্কার বাগিয়ে নিতাম আমরা কয়েকজন। বিতর্ক প্রতিযোগিতাতেও আমরা এগিয়ে থাকতাম। হোস্টেলে গিয়ে পেয়েছিলাম দারুণ পরিবেশ। বাংলাদেশের অন্যান্য মাদ্রাসার কথা শুনতাম। শুনতাম অনেক প্রতিবন্ধকতার কথা। সেসব মাদ্রাসায় গান-বাজনা হারাম। জাতীয় সঙ্গীত হয় না। পড়ালেখার চেয়ে কালেকশনের চাপ বেশি। হুজুররা সারাদিন অকারণেই শাসন করেন। গোপালপুর আলিয়া মাদ্রাসা এসবের বাইরে। পুরোই বিপরীত। 

হোস্টেলে এক রুমে তিনজন থাকতাম আমরা। মাদ্রাসায় পাঞ্জাবি-টুপি বাধ্যতামূলক ছিল শুধু আরবি ও ধর্মীয় ক্লাসে। বাংলা, অংক, ইংরেজি, বিজ্ঞান ও অন্যান্য ক্লাসে পোশাকের বাধ্যবাধকতা ছিল না। ফলে হোস্টেলে আমরা শার্ট গায়ে দিয়ে থাকতাম। বিকেলে আসরের নামাজের পর আমরা বাইরে যেতাম। আমার রুমমেট ছিল সেলিম, সাইদুর আর গোপালপুর শহরের বন্ধু মোখলেছ। এই চারজনে মিলে সিনেমা দেখতাম। সিগারেট খাওয়া শিখেছিলাম তখনই। মফস্বলে স্মার্ট প্রমাণ করতে লুকিয়ে এই বিপথগামিতার শুরু হয়। তবে নামাজ বাধ্যতামূলক ছিল হোস্টেলে। আমরা নামাজ পড়তাম। আগেই বলেছি, আমার কণ্ঠ ভালো ছিল। আমাকে গান গাইতে বলা হতো যে কোনো অনুষ্ঠানে। মাদ্রাসার ভেতরে গাইতাম হামদ-না'ত; আর বাইরে গাইতাম বাংলা সিনেমার গান। রেডিওতে গান শুনতাম, সিনেমা হলে গান শুনতাম। কিন্তু কারও কাছে গান শেখার কোনো সুযোগ ছিল না। আমার মনে হয়, সে সময় যদি গান শিখতাম, মাদ্রাসার কেউ আমাকে কিছুই বলতেন না। কেউ কিছু বলবেন, সেই ভয়ে উদ্যোগ নিতে পারিনি। মূলত আব্বাকে ভয় পেতাম খুব। আব্বা মাঝে-মাঝে এসে দেখতেন আমি পাজামা-পাঞ্জাবি-টুপি ঠিকমতো পরছি কি-না। 

যাই হোক, আমাদের হোস্টেলে দৈনিক পত্রিকা আসত। ইত্তেফাকের সব পাতা মুখস্থ করে ফেলতাম। লেখালেখির নেশা ঢুকে যায় সেই সময়েই। মাদ্রাসার উদ্যোগে এবং গোপালপুরের সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে দেয়ালিকা ও ছোট কাগজ বের হতো। সবাই চমকে যেত আমার নানামাত্রিক লেখায়। হোস্টেলে আলোচনা হতো সেসব নিয়ে। ফলে হোস্টেলের বড় ভাইরা আমাকে চমচম খাওয়ানোর বিনিময়ে লুকিয়ে প্রেমপত্র লিখিয়ে নিতেন। সেই কাজে গোপনে আমার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। অনেক কাজ করতে হয়েছে আমাকে। প্রেমপত্র লিখতে লিখতে প্রেম এসে যায়। ভালোবেসে ফেলি মাদ্রাসার দুই বছরের জুনিয়র সুরভী নামের এক মেয়েকে। শ্যামলা মুখ। গালের এক পাশে উজ্জ্বল তিল। হিজাব পরে আসত। বুকের মধ্যে বই রেখে দুলে দুলে হাঁটত। তাকে কখনও বলতে পারিনি ভালো লাগার কথা। একদিন জানলাম, আমার এক বন্ধুও তাকে পছন্দ করে। সে সুদর্শন, ভালো পোশাক পরে। বড় ঘরের ছেলে। আমি আমার চেহারা, গায়ের রঙ, পোশাক আর গ্রামের ছেলে হওয়ার কারণে মিছিলে পিছিয়ে গেলাম। বুকের ভেতরে ক্ষরণ কাকে বলে বুঝেছি সেই ক্লাস টেনের সময়। সুরভীর উপেক্ষায় আমি বেছে নিই দুঃখের গান। এই দুঃখের গান গাইতে গিয়ে অনেকের চোখ ভেজাতাম। সেটা কাজে লাগালেন মুয়াজ্জিন হুজুর। তিনিও আমাদের শিক্ষক। মাদ্রাসার ইছালে সওয়াব মাহফিলে আমাকে কাসিদা গাইতে হতো। গাইতে হতো করুণ সুরের হামদ ও না'ত। আমি মন থেকেই সেসব গাইতাম। একদিন আবিস্কার করলাম, এমন অনেক গান আমি গাইছি, যা আমার নিজেরই লেখা, নিজেরই সুর।

আমাদের বন্ধুদের অনেকেই বয়সে আমার চেয়ে ১০/১৫ বছরের বড়। সমবয়সী আমরা মাত্র কয়েকজন। ওরা কওমি মাদ্রাসা থেকে দাওরা সম্পন্ন করে এসেছে। মুখভর্তি দাড়ি ছিল ওদের। পাগড়ি, গোল পাঞ্জাবি পরত। তবে ওরা গোঁড়ামি ও ক্ষ্যাপাটেপনায় এগিয়ে ছিল। সবকিছু হারাম মনে করত ওরা। গান-বাজনা হারাম, জাতীয় সঙ্গীত হারাম; মেয়েদের সাথে কথা বলা হারাম। অথচ অপকর্ম করে যারা ধরা পড়ত তাদের অধিকাংশ ছিল তারাই। মাদ্রাসার বাইরে সেসব রূপকথার গালগপ্প হয়ে মাসের পর মাস ভেসে বেড়াত। ওদের দেখলে আমাদের ভয় করত খুব। ওরা কখনোই আমাদের বন্ধু হতে পারেনি। মনে আছে, একদিন আমাদের ইংরেজি শিক্ষক জিজ্ঞেস করেছিলেন- বড় হয়ে কে কী হতে চাও? ওদের অধিকাংশই বলেছিল, এসব আল্লাহ্‌ যা লিখে রেখেছেন, তাই। কেউ কেউ ডাক্তার, মাস্টার হতে চেয়েছে। সেই বয়সে বড় বন্ধুরা কে কোথায় আছে জানি না। কিন্তু যারা ডাক্তার, মাস্টার হতে চেয়েছিল, অনেকে এখন তাই হয়েছে। 

বাংলাদেশের আলিয়া মাদ্রাসাগুলোতে অনেক স্বপ্নবাজ আর স্বচ্ছ মানসিকতার ছেলেমেয়ে আছে। ছিল আগে থেকেই। কিন্তুকৌশলে তাদেরকে ইচ্ছের বাইরে অন্য পথে পরিচালনা করা হয়। সেটা যে মাদ্রাসার শিক্ষকরা করেন, তা না। মাদ্রাসায় অনেক সংগঠনের নেতাকর্মী থাকে, যারা ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে। জিহাদের ভুল ব্যাখ্যা করে ছাত্রদের মস্তিস্ক খেয়ে ফেলে। তারা নানান কৌশলে ছাত্রদের বিভিন্ন প্রকাশনার প্রতি আগ্রহী করে তোলে, তাদের মতাদর্শের বই উপহার দেয়, অনেক জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যায়। একেকজন শিক্ষার্থীর পেছনে লেগে থাকে মাসের পর মাস। আর তারা বেছে নেয় বিভিন্ন বিষয়ের মেধাবী ছেলেকেই। একদিন তাদের পথে নিয়েও নেয়। সেই ছেলেটি এক সময় বেরিয়ে আসে হয়তো। সেটার উদাহরণ খুব কম। অধিকাংশই ওদের পথে চলে যায়। আমরা আমাদের মাদ্রাসায় তাই দেখেছি। আমরাও ঝুঁকে গিয়েছিলাম। ওদের কথায় প্রভাবিত হয়ে কত গান গেয়ে দিয়েছি, কত জায়গায় ঘুরতে গিয়েছি! পুরো মাদ্রাসাকে কীভাবে যেন ওরা বুঝিয়ে ফেলত। এখন আমরা যারা ওদের বিপরীতে, আমাদেরকে ওরা পথভ্রষ্ট বলে জানে। অথচ আমরা এখনও মনে করি, আমাদের মাদ্রাসায় যদি কোনো দল বা সংগঠন এসে মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে প্রভাবিত না করত, বাংলাদেশের সব মাদ্রাসাই থাকত বিতর্কের ঊর্ধ্বে। 

যাই হোক, আমরা এক সাথে গোপালপুর আলিয়া মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে ছড়িয়ে পড়লাম বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমাদের সহপাঠী অনেকেই আজ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সরকারের বড় কর্মকর্তা, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানেও আছে অনেকে। আছে সাংবাদিকতায়, অনেকে নির্মাতা হয়েছে। কেউ মন্দ নেই। মূল কথা হচ্ছে, নিজের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি। অভিভাবকরা যদি সচেতন থাকেন, ছেলেমেয়ে যেখানেই পড়ালেখা করুক, তাকে দিয়ে অন্যায় হবে না কোনো। মাদ্রাসা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। আমি আলিয়া মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেই এসেছি। আমি লিখছি। গলা ছেড়ে গান গাইছি। আমার সে সময়ের বন্ধুরা, মাদ্রাসার শিক্ষকগণ আমাকে নিয়ে গর্বই করেন। প্রাপ্তি এটাই। পাখির মতো ঘুরে ঘুরে মানুষের জীবন কাটে। আমাদের পাখি জীবন- কোথা থেকে কোথায় যায়, আমরা কে বলতে পারি!

সূত্র: সমকাল
এমএ/ ১১:০০/ ০৭ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে