Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-১৪-২০১৮

বিমানের ব্ল্যাকবক্স কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

চৌধুরী আকবর হোসেন


বিমানের ব্ল্যাকবক্স কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ঢাকা, ১৪ মার্চ- গাঢ় কমলা রঙের বাক্সটির নাম ব্ল্যাকবক্স। বিমানের একবারেই শেষের দিকে লেজের অংশে থাকে এটি। নামের সঙ্গে বক্স থাকলেও এটি দেখতে বক্সের মতোও নয়। যেকোনও বিমানের দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে এই ব্ল্যাকবক্সই শেষ ভরসা। নেপালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাকবক্সও উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ব্ল্যাকবক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করলেই বের হয়ে আসবে দুর্ঘটনার প্রকৃত তথ্য।

সোমবার (১২ মার্চ) ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ওই ফ্লাইট। অবতরণের সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। পরে বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয় এটি। এতে ফ্লাইটে থাকা ৬৭ যাত্রীসহ ৭১ আরোহীর মধ্যে ৫১ জনই নিহত হয়েছেন। স্মরণকালের অন্যতম মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন রয়েছে উড়োজাহাজটির ব্ল্যাকবক্স।

ব্ল্যাকবক্সের বিষয়ে বিস্তারিত জানান বাংলাদেশে এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপের একজন পরামর্শক। তিনি জানান, ব্ল্যাকবক্সের তথ্য উদ্ধার করতে এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন লাগতে পারে। সিঙ্গাপুরে ব্ল্যাকবক্সের তথ্য উদ্ধারের ব্যবস্থা রয়েছে। সিঙ্গাপুর যেহেতু আমাদের থেকে কাছে, সেখান থেকে তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: ড্যাশ-৮ বিমানের যত দুর্ঘটনা

ওই পরামর্শক বলেন, ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনও দুর্ঘটনার এক বছরের মধ্যে তদন্তের কাজ শেষ করতে হয়। একইসঙ্গে উড়োজাহাজে যেসব দেশের মানুষ থাকে, সেসব দেশের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির অনাপত্তি পেলে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। কোনও দেশ আপত্তি জানালে পুনরায় তদন্ত করা হয়। মূলত ব্ল্যাকবক্স থেকে উড়োজাহাজের যান্ত্রিক তথ্য ও পাইলটের কথোপকথন পর্যব্ক্ষেণ করে ঘটনার অনুসন্ধান করা হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুম বলেন, ‘উড়োজাহাজের ব্ল্যাক বক্স হচ্ছে একটি তথ্য সংরক্ষণকারী ডিভাইস। ব্ল্যাক বক্সের দুটি অংশ— ফ্লাইট ডাটা রের্কডার (এফডিআর) ও ককপিট ডাটা রেকর্ডার (সিভিআর)। ফ্লাইট ডাটা রের্কডার অংশে জমা থাকে উড়োজাহাজের ফ্লাইট সংক্রান্ত সব তথ্য। এই অংশে উড়োজাহাজের যান্ত্রিক সব তথ্য বিশেষভাবে সংরক্ষিত হতে থাকে।’

আরও পড়ুন: নেপালের সেই বিমানবন্দরে এগারো দুর্ঘটনায় ৪২৫ জন নিহত

একটি উড়োজাহাজ কত কিলোমিটার গতিবেগে উড্ডয়ন করছে, উড়োজাহাজটি কত উচ্চতায় উড্ডয়ন করছে, এর তাপমাত্রা কত, পাইলট কখন গতি কমাচ্ছেন-বাড়াচ্ছেন, জ্বালানি তেলের চাপ ও পরিমাণ, উড়োজাহাজের অন্যান্য যন্ত্রাংশের কার্যক্রমসহ যান্ত্রিক ত্রুটি সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য ব্ল্যাকবক্সের এফডিআর অংশে সংরক্ষিত থাকে বলে জানান নওশাদ আতাউল কাইয়ুম।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এই ক্যাপ্টেন জানান, ব্ল্যাকবক্সের সিভিআর অংশে জমা হতে থাকে ককপিট পাইলট ও কো-পাইলটের কথোপকথন এবং পাইলটের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিকের কথোপকথন। এমনকি, পাইলট ছাড়া অন্য কেউ ককপিটে প্রবেশ করে কথা বললে তার রেকর্ডও জমা হয় ককপিট ডাটা রেকর্ডার অংশে।

আরও পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে অনিরাপদ বিমান চায়না এয়ারলাইন্স

জানা গেছে, স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি করা হয় ব্ল্যাকবক্স। উড়োজাহাজ থেকে ছিটকে পড়লেও যেন সুরক্ষিত থাকে, সে কারণে ব্ল্যাকবক্স মজবুতভাবে তৈরি করা হয়। আগুন ও পানি থেকে সুরক্ষার জন্য থাকে বিশেষ ব্যবস্থা। গাঢ় কমলা রঙে ব্ল্যাকবক্স তৈরির পেছনেও রয়েছে কারণ। এই রঙটি সহজে দৃশ্যমান হওয়ায় যেকোনও স্থানে ব্ল্যাকবক্স খুঁজে পাওয়া সহজ করতেই এই রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্ল্যাকবক্স সাধারণত যুক্ত থাকে উড়োজাহাজের লেজের অংশে। ব্ল্যাকবক্সের ভেতরে আলাদাভাবে যুক্ত থাকে ব্যাটারি। এ ছাড়া, এর ভেতরে রয়েছে ম্যাগনেটিক মেমোরি ইউনিট। ব্ল্যাকবক্সে সংরক্ষিত থাকে সর্বশেষ ফ্লাইটের সব তথ্য। ১৫ থেকে ৩০ ঘণ্টার ফ্লাইট শেষে পুরাতন তথ্য মুছে নতুন করে রের্কড হয় সব তথ্য।

সূত্র: বাংরা ট্রিবিউন
এমএ/ ১১:১১/ ১৪ মার্চ

জানা-অজানা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে