Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-০৯-২০১৮

তাঁর অলৌকিক সঙ্গ

সুস্মিতা ইসলাম


তাঁর অলৌকিক সঙ্গ

যে মানুষের অলৌকিক সঙ্গ ও স্নেহছায়া আমার এক এক করে পার হয়ে আসা আটটি দশকের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বলতর হয়ে আছে, সেই চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ দশকের প্রাণপুরুষের মৃত্যুবার্ষিকীর কথা কী করে আমার কলম দিয়ে বের হবে? 

অসম্ভব। সময়টা ছিল ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি। তাই আমি তার স্নেহধন্য সময়ের কিছু টুকরো ছবি আজ তুলে ধরব। সৈয়দ মুজতবা আলীর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয় DR. A.M.O. GHANI (MLA)-র বাসভবনে। তিনি সদ্য বরোদা থেকে এসে কলকাতায় বসবাস করার ব্যবস্থায় ফ্ল্যাট খুঁজছেন। আমিও তখন আমাদের প্রথম সন্তানের আগমনের কারণে হন্যে হয়ে ফ্ল্যাট খুঁজছি। এ সময়ে মিসেস গনি আমাকে খবর পাঠালেন, ফ্ল্যাট একটি পাওয়া গেছে তারই বাড়ির নিচের তলায়। তবে সেই ফ্ল্যাটের প্রথম দাবিদার সৈয়দ মুজতবা আলী। তিনি ফ্ল্যাটটির সংলগ্ন বাথরুমসহ একটি শোবার ঘর নেবেন ও অন্যান্য অংশ ভাড়া দেবেন। খবর পেয়েই দেবর মনোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে ছুটলাম মিসেস গণির কাছে, যাকে আমরা খালা বলি। তখন বিকেল বেলা। ঘরে ঢুকে দেখি মিসেস গণির পাশে অসম্ভব গৌরবর্ণ সুদর্শন এক ব্যক্তি ধবধবে ধুতি-পাঞ্জাবি পরে বসে চা খাচ্ছেন। সাদা ধুতি-পাঞ্জাবির সঙ্গে যেন তার গায়ের রঙ মিশে গেছে। আমরা ঘরে ঢুকতেই খালা আমার পরিচয় করিয়ে দিলে ভদ্রলোক চট করে চেয়ার থেকে উঠে টেবিলের ওপর থেকে লম্বা চেইন দেওয়া দরজার চাবিটি নিয়ে একবার মাত্র আমার দিকে চেয়ে আমাকে এক নিরিখে দেখে সামান্য একটু স্বগতোক্তি করে বললেন- ওঃ। চলুন, আপনাকে ফ্ল্যাটটা দেখিয়ে আসি। মুজতবা সাহেবের আমাকে দেখে স্বগতোক্তি করার মধ্য দিয়েই সেই প্রথম দিনেই বুঝেছিলাম ওনার বাচনভঙ্গির ধরন- যার প্রমাণ নানাভাবে পরে আমরা সবাই পেয়েছি। নিচে নেমে দেখলাম ফ্ল্যাটটির দুটি প্রবেশপথ। একটি সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটের আর অপরটি একটি বাথরুম সংলগ্ন ঘরের, যেখানে যেতে তিন ফুটের করিডোর পার হতে হয়। ব্যস, ফ্ল্যাটের অন্যান্য অংশের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। এ পাশের বড় অংশে একটি বড় ড্রইংরুম, রান্নাঘর, খাবার ঘর, বাথরুম, বড় শোবার ঘর, তারপরে ব্যালকনি ও একটু উঠোন এবং গাড়ি রাখার জন্য গ্যারেজ। এর বেশি আর কী চাই। তাই আমি তক্ষুনি মুজতবা সাহেবের সঙ্গে ফ্ল্যাট শেয়ার করতে রাজি হয়ে রাতে আনোয়ারকে নিয়ে সব দেখিয়ে পরের দিনই নিজের মালপত্র নিয়ে ৫ নং পার্ল রোডে উঠে এলাম। সময়টা ছিল ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি। 

মুজতবা সাহেব নিচে থাকতেন কিন্তু তার খাওয়া-দাওয়ার সব ব্যবস্থা হতো ওপরে মিসেস গণির কাছে। মিসেস গণির ব্রেকফাস্ট টেবিলে প্রতিদিনই একটি আসর বসত। এই আসরের মধ্যমণি ছিলেন মিসেস গণির দেবর প্রাবন্ধিক, রবীন্দ্র গবেষক, বিজ্ঞানী আবু সয়ীদ আইউব। তখন তিনি মদনপল্লী থেকে সবে একটু সুস্থ হয়ে ফিরেছেন, তাই তার কথা বলা, খাওয়া-দাওয়া খুবই পরিমিত। এই টেবিলে আসর জমাত উদীয়মান সাহিত্যিক রশীদ করীম। সে মুজতবা সাহেবের ডান দিকে বসত আর আমার আসন ছিল মুজতবা সাহেবের বাঁ দিকে। আনোয়ার রোজ ভোরে ফ্লাইংয়ে চলে যেত বলে খালাই একদিন এসে আমাকে ওপরে নিয়ে গিয়েছিলেন তার ব্রেকফাস্ট টেবিলে। তখন দেশভাগ নিয়ে সারাদেশ খুবই উত্তপ্ত, কিন্তু আমাদের শুধু আলোচনা হতো সাহিত্য ও সঙ্গীতের। এর মধ্যে প্রত্যেকেই রবীন্দ্রসঙ্গীতের অত্যন্ত ভক্ত হওয়া সত্ত্বেও শিল্পীদের সম্বন্ধে যথেষ্ট মতৈক্য ছিল। ঝগড়া-বিবাদ হতো এসব নিয়ে। বাড়ির সমস্ত পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করতে করতে স্বয়ং মুজতবা সাহেবকেই হারিয়ে বসতে চলেছি। মুজতবা সাহেব খাবার টেবিল থেকে উঠে এসে আমার রান্নাঘরের দরজা দিয়ে ফ্ল্যাটে ঢুকতে ঢুকতে আমার বাবুর্চিকে চায়ের অর্ডার দিয়ে এসে ড্রইংরুমে নিশ্চিন্ত হয়ে বসতেন। ওনার সঙ্গে সঙ্গে রশীদ করীম ও অন্য কেউ কেউ আসত। তখনও সাহিত্যই ছিল মূল আলোচনার বিষয়। রশীদ করীমের মতে, শরৎচন্দ্রই শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক- মুজতবা সাহেব তা কোনোমতেই মেনে নিতে রাজি নন। রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীদের বেলাতেও এ রকমের রীতিমতন তর্কাতর্কি। 

মুজতবা সাহেব অসম্ভব সৌন্দর্যপ্রিয় ছিলেন। কারোর পোশাক-আশাকের এতটুকু ত্রুটি তার দৃষ্টি এড়াত না, আবার কারোর কিছু পছন্দ হলে প্রশংসা করতেও কার্পণ্য করতেন না। একদিন সকালে খালার চায়ের টেবিলে বসে আছি। লক্ষ্য করলাম, মুজতবা সাহেব আমার মুখের দিকে চেয়ে কী যেন দেখছেন। আমি বললাম, আপনি অমন করে কী দেখছেন? উনি জবাব দিলেন, তুমি আজ চোখে কাজল দাওনি কেন? আমি বললাম মুজতবা সাহেব, আপনি পারেনও বাবা। পরে একদিন বিকেলে আমি একটি সবুজ শাড়ির সঙ্গে হলুদ ব্লাউজ পরে ঘরোয়া সাজে ওপর থেকে নামছি আর তখন উনি নিচে থেকে ওপরে উঠতে গিয়ে সিঁড়িতে থেমে গিয়ে বললেন, পধহধৎু ুবষষড়-িএর সঙ্গে সবুজ- বাঃ, বেশ মানিয়েছে তো। উনি এমন এমন প্রশংসা করে সময়ে অসময়ে অপদস্থ করতেন। অথচ এই মুজতবা সাহেবকেই তার জীবনের শেষ ভাগে, যখন তিনি বালিগঞ্জে না কোথায় যেন কার গৃহে একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তখন আমি লন্ডন থেকে এসে উনি কলকাতায় আছেন শুনে ওনাকে দেখতে গিয়েছিলাম। ঘরের দরজা ঠেলে ঢুকতেই চোখে জল এসে গেল, এ কী জীর্ণদশা- কী অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে কাছে গিয়ে পাশে রাখা চেয়ারে বসতেই উনি প্রথম কথা বলে উঠলেন, 'সুস্মিতা তোমার কার্ডিগানটা বড় ময়লা হে।' আমি বললাম, এতদিন পরে দেখা, আপনার এই ময়লা কার্ডিগানটাই চোখে পড়ল! জবাব দিলেন, তোমাকে কখনও এ রকম পরতে দেখিনি তাই। (বললাম না যে, শীতের কলকাতায় পরনের কাপড় এ রকমই ময়লা হয়ে যায়।) ওনার সঙ্গে সেই আমার শেষ আলাপ, শেষ দেখা- তারপরে একদিন লন্ডনে অফিসে বসে বিকেলের বাংলা কাগজে সেই মর্মান্তিক খবর পেলাম। কাগজে বার্লিনে তোলা সেই ছবি, মনে হলো কী যেন চিরকালের জন্য হারিয়ে ফেললাম অনন্তের সমুদ্রে। মুজতবা সাহেব নেই, এ ভাবা তো অসম্ভব। 

তখন একে একে বসে বসে সেই প্রথম দেখা হওয়া থেকে প্রতিদিনের ছোটখাটো স্মৃতির পাতা ওল্টাতে লাগলাম। মুজতবা সাহেবের ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন অভিব্যক্তির সাক্ষী আমি। তার মতন মুখ আলগা আসর জমানো লোকও যেমন দেখিনি, তেমনি তার পরিবারের প্রতি তার গভীর স্নেহ ও অভিভাবকত্বও লক্ষ্য করেছি। মুজতবা সাহেবের হাস্যরসিকতার উপযুক্ত সঙ্গী ছিল আমার বড় ননদ জ্যোৎস্না। সেও ওনারই মতো রঙ্গরসে পটীয়সী ছিল। এই রঙ্গ-রসিকতাকে স্বাভাবিকের পর্যায় আনার জন্য আমার সব দেবর-ননদ মুজতবা সাহেবেকে 'দাদু' বলে সম্বোধন করত। কিন্তু আনোয়ার আর আমি এর থেকে দূরে থাকার জন্য সব সময়ই 'মুজতবা সাহেব' বলেই তাকে সম্বোধন করতাম। 

উনি যখন আমার সঙ্গে ফ্ল্যাট শেয়ার করে থাকতেন, তখন ওনার ভাগ্নে সুলেমান চৌধুরী, ভ্রাতুষ্পুত্র এস এম আলী প্রমুখ প্রায়ই আসতেন ওনার কাছে। সেই সুবাদে ওনাদের সঙ্গে আমারও কিছুটা সখ্য হয়েছিল। তখন মুজতবা সাহেবকে একেবারে অন্যভাবে দেখেছি। তখন অপত্য স্নেহে তিনি বিগলিত। 

তাকে সদা সর্বাদাই পড়াশোনা নিয়ে আত্মনিমগ্ন থাকতে দেখলেও তিনি কারোর বিপদে প্রাণ দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। আমার আড়াই বছরের ছেলে একদিন স্কুল থেকে ১০৩০ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে বাড়ি ফিরলে, তিনি খবর পেয়েই পাশের ঘর থেকে এসে তক্ষুনি একজন বড় ডাক্তারকে কল দিয়ে ওকে মেনিনজাইটিসের ইঞ্জেকশন দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন ও আনোয়ার বাড়ি ফেরা না পর্যন্ত আমার ছেলের বিছানার পাশ থেকে ওঠেননি। শেষে আনোয়ার বাড়ি ফিরলে তখন আমি তার কাছে শুনলাম যে, আমাদের ছেলের মেনিনজাইটিস হয়েছে এবং মুজতবা আলী সাহেব সঠিক সময়ে ডাক্তার আনিয়ে ইঞ্জেকশন দিইয়ে আমার ছেলের প্রাণরক্ষা করেছেন। ওনার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

বরোদা থেকে আসার অল্প দিনের পরেই মুজতবা সাহেব তার বিখ্যাত বই 'দেশে-বিদেশে' লিখতে শুরু করেন। দেশে-বিদেশের একটি করে প্যারা লেখা হলেই মুজতবা সাহেব আমার ড্রইংরুমে এসে আমাকে ডাক দিয়ে বলতেন। 'পড়ো তো দেখি কেমন হলো।' ওনার কথা মতো আমি পড়তাম, একবার নয়, বেশ কয়েক বার, তারপর তিনি প্রসন্ন হয়ে বলতেন, 'তুমি বেশ ভালো পড়ো- কিন্তু তোমার মায়ের উচ্চারণ আরও ভালো', তখন আমি কপট অভিমানে বলতাম, 'তাহলে এবার থেকে মাকেই বলবেন'। উনি মুচকি হেসে ঘরে চলে যেতেন। মুজতবা সাহেবের দেশে-বিদেশে রচনার সংখ্যা আমার ড্রইংরুম সর্বদাই নানা ধরনের আলোচনায় মুখর থাকত।

মুজতবা সাহেব তার মাকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। উনি প্রতিদিন ওপর থেকে চা খেয়ে আমার রান্নাঘরের দরজা দিয়ে ঢুকে দেখতেন আমি খাবার টেবিলে বসে ছুরি দিয়ে নানা রকম তরকারি কাটছি। একদিন উনি আমাকে ওই রকম তরকারি কাটতে দেখে বললেন, 'সুস্মিতা, তুমি যখন তরকারি কাটো, তখন আমার মায়ের কথা মনে পড়ে। দক্ষিণের দাওয়ায় বসে মাথা নিচু করে মা আমার একমনে সুপারি কাটতেন ওইভাবে। এরপরে আর কোনো কথা হয় না, আমিও বলিনি উনি চলে গেলেন ঘরে। আর একদিন ওইভাবে রান্নাঘরের পাশ দিয়ে ঢুকে আমাকে তরকারি কাটতে দেখে বললেন, আজ কী রান্না হচ্ছে- সোনামুগের ডাল রাঁধছ বুঝি? আজ কি ইঁচড় রাঁধছ- এ রকম সব কথা। উনি খুবই সামান্য খেতেন, কিন্তু ভোজনবিলাসী ছিলেন। ঘিয়ের বাগাড় দেওয়া সোনামুগের ডাল তার খুবই প্রিয় ছিল।

এ ঘটনার বহুদিন পরের এক দিনের কথা। সকালে এমনই বিছানায় শুয়ে আনোয়ারের সঙ্গে গল্প করছি, হঠাৎ আমার ও ওনার ঘরের মাঝের যে দরজা, তাতে টোকা দিয়ে আমাকে ডেকে বললেন, 'সুস্মিতা, একটু আমার ঘরে আসতো?' উনি তো কখনও এমন করেন না। আনোয়ার তো বেশ একটু ঘাবড়িয়ে গিয়েই বলল, 'যাও দেখে এসো ওনার হঠাৎ শরীর খারাপ লাগছে কি-না।' আমি ঘরে গিয়ে দেখি মুজতবা সাহেব খাটে শোয়া, পাশে একটি চেয়ার। আমাকে ইঙ্গিতে সেই চেয়ারে বসতে বলে আমার দুটি হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে শিশুর মতো হাউমাউ করে কেঁদে বললেন, 'জানো সুস্মিতা, আমি কাল সারা রাত মাকে স্বপ্নে দেখেছি-।' এইটুকুই, আর কোনো কথা নয়- ওনার অশ্রু আমার চোখ দুটিকেও ভারাক্রান্ত করে তুলেছিল সেদিন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, বিশেষ করে ওনার মতো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পুরুষ তার মনেও মায়ের জন্য যে এতখানি হাহাকার থাকতে পারে তা কখনও ভাবতে পারিনি।

এরপরের স্মরণীয় ঘটনা মুজতবা সাহেবের বিয়ে। বয়স চল্লিশ পার হয়ে যায় অথচ বিয়ে হয়নি। বাড়ি থেকে খুব বেশি তাগাদা দেওয়া হলো। কন্যা নির্বাচনও শুরু হয়ে গেল। সংস্কৃতে পড়াশোনা আছে এবং একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা- এমন একজনাকেই পাত্রী হিসেবে বিবেচনা করলেন মুজতবা সাহেবের আত্মীয়স্বজনেরা। কলকাতা থেকে মুজতবা সাহেব গেলেন পাত্রীকে দেখতে। ফিরে আসার পরে আমরা সবাই ওনাকে ঘিরে বসে পাত্রী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে বললেন, 'সংস্কৃতটা ভালো পড়া আছে, আর হাতের আঙুলগুলি চাঁপার কালির মতন', ব্যস্‌। বিয়ের দিনও স্থির হলো। ঢাকায় ওনার সব আত্মীয়স্বজন তাই বিয়ে ঢাকাতে হওয়া স্থির হলো। আমার দেবর-ননদেরা সবাই ঢাকাতেই ছিল। কলকাতা থেকে আমি আর মনোয়ার গেলাম বরকে নিয়ে বরযাত্রী হয়ে- কালো শেরওয়ানি পরে মুজতবা সাহেবকে অপরূপ সুন্দর লাগছিল। বরের রূপের ঔজ্জ্বল্যে সমস্ত বিবাহসভা আলোকিত হয়েছিল সেদিন। ওই একবারই ওনাকে শেরওয়ানি পরতে দেখেছি- তারপরে আর কখনও দেখিনি। শীত, গ্রীষ্ফ্ম, বর্ষায় ওই একই পোশাক, হয় স্যুট, না হয় ধুতি-পাঞ্জাবি।

বিয়ের পরে প্রত্যেক ছুটিতে হয় মিসেস আলী আসতেন কলকাতায়, না হয় মুজতবা সাহেব গিয়ে ছুটি কাটিয়ে আসতেন। ফিরোজের জন্ম হওয়ার পরও মিসেস আলী বাচ্চাকে নিয়ে ওই ঘরটিতে সংসার করে গেছেন। ফিরোজ ভারি মিষ্টি ছিল দেখতে। মুখে কথা ফুটলে রেডিওর দিকে আঙুল তুলে খালি বলত, 'দিদিও', শুনেছি সে বড় হয়ে রেডিওতেই নাকি কাজ করে।

এরপরে মুজতবা সাহেব বগুড়া, দিল্লি, শান্তিনিকেতন, বহু জায়গায় কাজে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু কলকাতা ছেড়ে কোথাও থেকে এতটুকুও শান্তি পাননি। এসব কথা তিনি চিঠিতে জানাতেন। আমরাও আমাদের দ্বিতীয় সন্তান আগমনের কারণে ১৯৫৪ সালের নভেম্বর মাসে ৫ নং পার্ল রোড ছেড়ে আসি। তারপরও যোগাযোগ ছিল চিঠিপত্রের মাধ্যমে। মোট কথা, আমার সামগ্রিক চৈতন্য থেকে তাকে কখনও হারাইনি। তাই আজ আর তার মৃত্যুবার্ষিকীর কথা লিখতে কিছুতেই মন উঠল না। -আমার মনে তার শত-সহস্র জন্মবার্ষিকী। 

এমএ/০৪:০০/০৯ ফেব্রুয়ারি

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে