Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (70 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-১৩-২০১৮

ক্ষমতার রাজনীতি নয়, মানুষের সেবা করতে চাই : শাফিন আহমেদ

সেঁজুতি শোণিমা নদী


ক্ষমতার রাজনীতি নয়, মানুষের সেবা করতে চাই : শাফিন আহমেদ

তিনি গানের জগতের মানুষ, দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মানুষের কাছে তিনি ব্যান্ড সংগীতের ধারায় অনেক জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখ। সেই শাফিন আহমেদ সবাইকে চমকে দিলেন কিছুদিন আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়ে।  

রাজনীতি নিয়ে তার অবস্থান, উত্তর ঢাকা নিয়ে তার স্বপ্ন, এবং সর্বোপরি নির্বাচন নিয়ে তার আশাবাদ- এর সবকিছুই উঠে এলো তার একান্ত সাক্ষাৎকারে।

আপনি গানের জগতের মানুষ। সেখান থেকে রাজনীতি জগতে প্রবেশ করা কেন?

শাফিন আহমেদ : গানের জগতের মানুষ ছিলাম, সঠিক। তবে সেখান থেকেও সমাজের জন্য অনেক কাজ করেছি। চ্যারিটেবল কাজ প্রচুর করেছি। বাচ্চাদের চিকিৎসা, ছাত্র-ছাত্রীদের চিকিৎসা, হসপিটাল নির্মাণের জন্য তহবিল গঠন করা, বাংলাদেশ পুলিশ ফোর্সের ওয়েলফেয়ার ফান্ড আছে, সেখানে তহবিল গঠন করেছি। দেশের বাইরেও অনেক চ্যারিটেবল কাজ করেছি। আমাদের এই পুরো উপমহাদেশে যে দেশে যখন কোনো বড় ধরণের সমস্যা হয়েছে, সবখানেই কিন্তু তাদের সাহায্যার্থে আমি কাজ করেছি, সংগীতের মধ্য দিয়ে। 

আমি বলবো এটা নতুন কিছু নয়। এই যে সম্পৃক্ততা ছিলো মানুষের সঙ্গে, প্রায় ৩৫ বছর ধরে, খুব গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম সংগীতের মধ্য দিয়ে, সেটারই একটা ধারাবাহিকতা এই রাজনীতিতে আসার মধ্য দিয়ে। রাজনীতি আমাকে সাহায্য করবে মানুষের আরও কাছে আসার জন্য। 

রাজনীতি থেকেও বড় কথা হচ্ছে মানুষের সেবা করা। এবং ক্ষমতার রাজনীতি করছি না, মানুষের জন্য কিছু করতে পারার চেষ্টাতেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। যেহেতু আমরা নির্বাচনমুখী দল, এটাতে আমরা পার্টিসিপেট করবো।

আপনার ভক্তদের মধ্য থেকে কেমন সমর্থন পাচ্ছেন, সারাদেশেই আপনার অনেক বড় একটা ফ্যানবেইজ আছে...

শাফিন আহমেদ : আমার তো অবশ্যই বড় একটা ভক্তকূল রয়েছে। তাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, একটু হলেও রাজনীতির বাইরের ব্যক্তিত্ব আমি- সেকারণে কিছুটা হলেও নতুনত্ব পাওয়া যাবে, যদি আমি কাজের সুযোগ পাই। সেই কথাটা মাথায় রেখে আমি আশা করি সমর্থন আমি পাবো আমার ভক্ত, শ্রোতাদের কাছ থেকে। 

আপনি যে পদে লড়তে যাচ্ছেন, সেখানে কিন্তু বিছুদিন আগেও অধিষ্ঠিত ছিলেন ভীষণ জনপ্রিয় প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। তিনি নিজেও কিন্তু বিনোদন জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। উনার স্থানে যখন আপনি প্রার্থী হচ্ছেন, সেখানে আপনার উপরে প্রত্যাশার অনেক বেশি থাকবে। এটা আপনি কীভাবে সামলাবেন?

শাফিন আহমেদ : আপনি সঠিক বলেছেন। অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি এখানে মেয়র ছিলেন। উনি যথেষ্ট কাজেরও প্রমাণ রেখেছেন, মানুষ পছন্দ করেছে। সেটা আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। মানুষের আকাঙ্ক্ষা কিংবা প্রত্যাশাও কিন্তু ওই উচ্চতায় পৌঁছেছে। 

সুতরাং মেয়র যিনিই হবেন না কেন, এটা ধরে রাখা কিংবা তার থেকেও ভালো কিছু করা- মানুষ অবশ্যই এটা তার কাছ থেকে আশা করবে আগামীতে। তবে নির্বাচনের আসল চাবিকাঠি ভোটারদের হাতে। সুতরাং তারা যাকে নির্বাচিত করবে, তার এই দায়িত্বটা অবশ্যই আছে। 

আমরা দেশের অগ্রগতির সঙ্গে চলতে চলতে আমরা আশা করতেই পারি, দেশের উন্নয়নের জন্য সামগ্রিক ব্যবস্থারও উন্নতি হবে। যার কারণে চলতে চলতে যা হয়েছে, আগামী দিনেও সেখান থেকেই শুরু হওয়াটা প্রয়োজন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আপনি কী ধরণের পরিবর্তন আনতে চান? যদি মেয়র হতে পারেন তাহলে...

শাফিন আহমেদ : আমি বিশেষ কয়েকটা দিকে নজর দেব। সবকিছু অল্প সময়ের মধ্যে করা সম্ভব না। আমি কোনো বড় পরিকল্পনা বা বড় প্রকল্পের কথা বলবো না। আমি কোনো বড় স্বপ্ন দেখানোর কথাও হুটহাট করে বলবো না। 

আমি বর্তমান কাঠামোর মধ্য দিয়ে কীভাবে চলমান প্রকল্পগুলোকে আরও ত্বরান্বিত করা যায়, এবং সেটার মাধ্যমে আমরা জনজীবনে কীভাবে আরও স্বস্তি আনতে পারি, সেদিকে নজর দেব।

যেদিকে আমি বিশেষ নজর দেব, সেটি হচ্ছে জলাবদ্ধতা দূর করা। গত বর্ষা মওসুমে যেভাবে আমরা অল্প বৃষ্টিতেই ঢাকা শহর ও চট্টগ্রাম শহরকে অচল হতে দেখেছি, এটা মেনে নেয়া যায় না। যেহেতু এটা আমাদের রাজধানী, এখানে একটা যথাযথ ব্যবস্থা নিতেই হবে।

আমরা যেহেতু এখন শীতের মওসুমে আছি, আগামী বর্ষা আসতে কিছু সময় হাতে পাচ্ছি। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আমাদের কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, জলাবদ্ধতা কীভাবে আমরা কমিয়ে আনতে পারি। একেবারে নির্মূলের কথা বলবো না, কমানোর কথা বলছি। 

আরেকটা দিকে নজর দিচ্ছি, খেলার মাঠ এবং পার্ক- সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার যাতে মানুষ করতে পারে, আগ্রহী হয়- সেই ব্যাপারগুলো আমি দেখবো। মাঠগুলিতে গিয়ে খেলা বা হাঁটাচলার জন্য পরিবারসহ যাতে যেতে আগ্রহী হয়, সেটা দেখবো। খোলা যায়গা আমি হঠাৎ করে বাড়িয়ে দিতে পারবো না, কিন্তু যে কয়টা আছে, সেগুলোর যেন সদ্ব্যবহার হয়। 

তারপরে আমি ফুটপাথের কথা চিন্তা করছি। মানুষ চলে রাস্তা দিয়ে যেখানে গাড়ি চলার কথা, ফুটপাথে হচ্ছে ব্যবসা। আমি ফুটপাথ ফিরিয়ে দেব পথচারীদের কাছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যারা আছেন, তারা কিন্তু অর্থনীতিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখেন। তাদেরকে হেলাফেলা না করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা যাতে করা যায়, সেদিকটায় আমি নজর দেব। ফুটপাথে ব্যবসা নয়, ব্যবসা হবে নির্ধারিত জায়গায়।

তার পাশাপাশি আমি সাইকেলের ব্যবহারটা একটু বাড়াতে চাইছি। তার কারণ, আমাদের দেশে ব্যবহারটা এখনও সেভাবে বাড়েনি, এরপরও সাইকেল নিরাপদভাবে যাতে চালানো যায় রাস্তায়, প্রয়োজনে সাইকেল লেন আলাদা করে দেব। 

যানবাহনের কথা যখন উঠলোই, বাসের প্যাসেঞ্জাররা কিন্তু অনেক সমস্যার মধ্যে চলাফেরা করেন। বাস জায়গামতো থামেনা, চলতে চলতে প্যাসেঞ্জার তোলে। বাস নির্ধারিত জায়গায় থামতে হবে। শিশু ও মহিলাদের কথা কিন্তু কেউ চিন্তা করছে না। তারা কিন্তু জীবনের রিস্ক নিয়ে চলাচল করেন। প্রয়োজনে মহিলা এবং স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা বাসের ব্যবস্থা করবো।

এই টার্মের আড়াই বছর বাকি আছে। এত স্বল্প সময়ে বিশাল পরিকল্পনা বা প্রকল্প হাতে নেয়া যাবে না। আমাদের যে প্রকল্পগুলো চলছে, সেগুলোর মধ্য থেকে, কত দ্রুত জনজীবনে স্বস্তি নিয়ে আসতে পারি, সেটাই হবে আমার টার্গেট।

আপনি কী আসলে অনেকদিন ধরেই চিন্তা করছিলেন যে রাজনীতিতে আসবেন?

শাফিন আহমেদ : বেশ অনেকদিন ধরেই চিন্তা করছিলাম। বেশ কয়েক বছর ধরেই এটা মাথায় ঘুরছিলো। এনডিএম-এর সঙ্গে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে গত এক বছর ধরে কাজ করছি। মনে হয় এখানে স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে আমার চিন্তাভাবনাগুলিকে প্রয়োগ করতে পারবো। 

আপনি সেক্ষেত্রে মূলধারার যে দুটি দল, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি’র সঙ্গে কেন যুক্ত হলেন না? এনডিএম দলটি কিন্তু একটু অচেনাই...

শাফিন আহমেদ : যেটা বললাম, এটা নতুন দল। এটাকে আমি আমার নিজের দল মনে করি। এটার শুরু থেকেই আমি জড়িত। এটা আমার দল। এখানে আমি কাজ করে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবো। আমার চিন্তা ভাবনাগুলিকে সামনে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে আমার জন্য। 

আজ হয়তো নতুন দল বলছেন, আগামী এক বছরে এই উপনির্বাচন হোক, বা সংসদ নির্বাচন হোক, এই সময়ের মধ্যে দেখবেন এটা অত্যন্ত পরিচিত দল হয়ে উঠেছে। এটাকে আর নতুন মনে হবে না।

কয়েকদিন আগেই মাইলস নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হলো- মাইলস ভেঙে যাচ্ছে, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তৈরি হলো, আপনি সংবাদ সম্মেলন করে জানালেন আপনার অভিযোগের কথা। এর কিছুদিনের মধ্যেই আপনি প্রার্থী হলেন। এইসব বিতর্ক কিছুটা হলেও কি নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না?

শাফিন আহমেদ : আমি মনে করি না। কারণ দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আমার ধারণা, আমার যা বলার ছিলো, যে বক্তব্য ছিলো, তা প্রেস কনফারেন্সে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছি। এ নিয়ে আমার আর কিছু বলার নেই। এর থেকে অনেক বড় বড় কাজ আমার সামনে রয়েছে। আমি মনে করি, এ নিয়ে নতুন কিছু সংযোজন করা আমার পক্ষে সম্ভব না। 

ভক্ত শ্রোতাদের বলছি, সময়ের সঙ্গে নিশ্চয়েই আপনারা বুঝতে পারবেন, আমার সিদ্ধান্তগুলো কী ছিলো, কেন ছিলো। কিন্তু একটার সঙ্গে আরেকটা সম্পৃক্ত নয়। 

রাজনীতির ময়দানে এলেন। কিন্তু সংগীত ছেড়ে দিচ্ছেন না তো?

শাফিন আহমেদ : আমার সংগীত জীবন চলবে। অবশই চলবে। এরকম শখের জিনিস আমি সারা জীবন করার পরে নিশ্চয়ই ফেলে দেব না। সংগীতের জগতে আমাকে পাওয়া যাবে আগামীতে। 

তারমানে আপনি যদি নির্বাচিত হন, তারপরেও আমরা গায়ক শাফিন আহমেদকে পাব?

শাফিন আহমেদ : কিছু কিছু কাজ করার নিশ্চয়ই সময় এবং সুযোগ পাব। গান চলবে, যতোখানি সম্ভব।

পরিবার এবং সংগীত জগত থেকে কতটা সমর্থন পাচ্ছেন নির্বাচনে?

শাফিন আহমেদ : পুরো জিনিসটা তো মাত্র শুরু হলো, কেবল তফসিল ঘোষণা হয়েছে। যেহেতু যাত্রা মাত্র শুরু হলো, সবদিকেই আমার যোগাযোগ হবে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। সুতরাং চলতে চলতে সবার সঙ্গে যোগাযোগ হবে খুব শিগগিরই।  

এমএ/১০:১০/১৩ জানুয়ারি        

সাক্ষাৎকার

আরও সাক্ষাৎকার

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে