Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (71 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ১২-৩০-২০১৭

নতুন বছরে টেলিযোগাযোগের চমকগুলো বাস্তব হবে: তারানা হালিম

নাসিমুল শুভ


নতুন বছরে টেলিযোগাযোগের চমকগুলো বাস্তব হবে: তারানা হালিম

ডাক ও টেলিযোগাযোগখাতে ২০১৮ সাল হবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বছর। এবছরে জনগণের জন্য উন্নত টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। দেশের গৌরব মহাকাশে পৌঁছে দিতে এবছরই উৎক্ষেপণ করা হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

নিজের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের জন্য নতুন বছরের উপহারগুলো সম্পর্কে বলার শুরুতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন: ২০১৮ সাল হবে আমাদের টেলিকমখাতের চমকগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে নিয়ে আসার বছর। কথোপকথনে ২০১৮ সালের এই আসন্ন চমকগুলো তুলে ধরেছেন তিনি।

আগামী বছরের শুরুতেই দেশের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত করতে যাচ্ছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। প্রতিমন্ত্রী এই ইতিহাস রচনার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ না জানালেও জানিয়েছেন স্বাধীনতার মাস মার্চে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে রওনা হবে।

তারানা হালিম বলেন: আমরা গত ২ বছর যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সেসবের মধ্যে অনেকগুলোই আমরা মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছি। ২০১৮ সালের মার্চ মাস হবে টেলিযোগাযোগের উদ্যোগে অন্যরকম এক উৎসবের মাস। কারণ এ মাসে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে বলে আশা করছি। আমি বার বারই বলছি আমাদের স্যাটেলাইটের প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ফ্লোরিডা ঝড়ের কারণে সময়সূচি পিছিয়ে মার্চে আনা হয়েছে। উৎক্ষেপণের ১৫ দিন আগে আমরা একটা সুনির্দিষ্ট তারিখ পাবো।

দু’বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এখন সময়ের ব্যাপার জানিয়ে তিনি বলেন: দু’বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। এই সময়ে চুক্তি সই হয়েছে, অর্থ যোগাড় হয়েছে, কোম্পানি গঠিত হয়েছে। দু’টি গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজও প্রায় শেষ। আমরা বেতবুনিয়ার চেয়ে তাড়াতাড়ি গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজ শেষ করতে চাইছি। সেখানে যন্ত্রপাতি বসানো হয়ে গেছে এখন কেবল বাইরের সমাপ্তি টানাটাই বাকি, বলা যায় ৯৫ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। মোবাইলফোন অপারেটরদের উন্নত নেটওয়ার্ক সেবা নিশ্চিতের পথ করে দিতে নতুন বছরে তরঙ্গ বরাদ্দে উদার উদ্যোগ আসছে।

নতুন বছরে দেশের মোবাইলফোন গ্রাহকদের জন্য নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনা দূর করতে সরকার আন্তরিক জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন: ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্পেকট্রাম নিলাম করবো। ফোরজি আসছে ফেব্রুয়ারিতে। এ মাসেই আমরা টেকনিউট্রালিটি দেবো। এর ফলে ১৮০০, ২১০০ এবং ৯০০ সবগুলো ব্যান্ডে টুজি, থ্রিজি, ফোরজি এলটিই সেবা দিতে পারবে টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো। মার্চ-এপ্রিলের দিকে টাওয়ার শেয়ারিংয়ের কাজ হয়ে যাবে। মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। আশা করছি এপ্রিলে নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তন করার এই সেবা চালু হবে।

সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ স্লোগানের ভিত্তি ইন্টারনেটকে আরও সুলভ-সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ নেয়া হবে ২০১৮ সালে।

নতুন বছরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন: আমরা দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছি। এই প্রথম বাংলাদেশের টেশিস, সাবমেরিন ক্যাবল এবং বিটিসিএল-তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করেছে। এখন আমরা প্রয়োজনমত ব্যান্ডউইথ আনতে পারছি। এখন একটি সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়লেও দেশে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা স্থবির হয়ে যাচ্ছে না।

সস্তায় ইন্টারনেট পাবে খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের মানুষ
তারানা হালিম খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের মানুষকে নতুন বছরের বিশেষ উপহারের কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন: প্রধানমন্ত্রী সাবমেরিন ক্যাবলের কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশনটি উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধনের সময় আমরা কথা দিয়েছিলাম কমমূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেবো। যেহেতু ল্যান্ডিং স্টেশনটি কুয়াকাটায় তাই আশেপাশের এলাকায় সংযোগবহন খরচ কম। আশা করছি সামনে বছর এই অঞ্চলের মানুষ কম দামে ইন্টারনেট সেবা পাবে। এব্যাপারে প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছি।

ইন্টারনেটের যৌক্তিক দাম যাচাই করা হবে
আমাদের দেশের ইন্টারনেটের মূল্য ঠিক আছে কিনা এটা যাচাই করতে আমরা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) থেকে পরামর্শক নিয়োগ করেছি। তারা ইতোমধ্যে আমাদের হাতে প্রতিবেদন দিয়েছে। এই প্রতিবেদন দেখে ২০১৮ সালে আমরা কাজ শুরু করে দেবো। দাম যৌক্তিক কিনা তা খতিয়ে দেখে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করবো।

সদর দপ্তর পাচ্ছে ডাক বিভাগ
শুধু টেলিযোগাযোগ নয় প্রচলিত ডাক ব্যবস্থাতেও নতুন বছরে যুক্ত হচ্ছে কিছু প্রাপ্তি।

তিনি জানান, ডাক বিভাগের কোন সদর দপ্তর ছিলো না। সদর দপ্তরের ৮ তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। আমরা এটা উদ্বোধন করতে চাই।

আরও টনটনে হবে টেলিটক
সরকারি মোবাইলফোন অপারেটর কোম্পানি টেলিটক নিয়ে নতুন বছরের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন: আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর দেখলাম কোথায় টেলিটকের রিচার্জই করা যায় না। আমি বললাম টেলিটকের একটা প্ল্যান থাকতে হবে। এখন টেলিটকের রিটেইলার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২৩ হাজার এবং ৩০ কাস্টমার কেয়ার বৃদ্ধি করা হয়েছে। টেলিটক নিয়ে এখন দু’টো প্রকল্প আছে। একটি প্রকল্প জুনে শেষ হবে। জুনে এই প্রকল্প শেষ হলে মহাসড়কগুলোতে টেলিটকের নিরবিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক পাওয়া যাবে।

আরেকটি প্রকল্পের জন্য আমরা অর্থ ছাড় পাচ্ছিলাম না। এজন্য বার বার চেষ্টা করে অবশেষে আমরা এই মাসে অর্থ বরাদ্দ পেয়েছি। একটি অপারেটর প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ছাড়া নেটওয়ার্ক টাওয়ার বসানো যায় না। এখন টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ আসবে। আশা করছি নির্বাচনের আগেই অন্তত বেশিরভাগ জেলা পর্যন্ত টেলিটকের নেটওয়ার্ক স্থাপনের আপ্রাণ চেষ্টা করবো। নারীদের জন্য ২০১৭ সালে অপরাজিতা প্যাকেজ ছিলো। সামনে বছর পুরুষ এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্যও এরকম প্যাকেজ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি। তবে আমার সর্বোচ্চ গুরুত্ব টেলিটকের নেটওয়ার্ক বিস্তৃতিতে। এজন্য কল্পনাতীত পরিশ্রম করছি।

নতুন বছরের আলাপে তারানা হালিম স্পষ্ট জানিয়ে দেন: সরকারের পক্ষ থেকে এমন কথা দেই না, যেটা রাখতে পারবো না। আমি সরকারের হয়ে ৫টা প্রতিশ্রুতি দেবো, ৬ টি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো। তখনই বলবো হয়েছে, যখন আসলেই হয়েছে।

এমএ/১০:৪০/৩০ ডিসেম্বর

সাক্ষাৎকার

আরও সাক্ষাৎকার

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে