Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (59 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ১২-২৩-২০১৭

ছাত্রদলের আহ্বায়কই জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক!

সালমান তারেক শাকিল


ছাত্রদলের আহ্বায়কই জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক!

সুনামগঞ্জ, ২৩ ডিসেম্বর- ‘ছাত্রদল ছাড়তে ইচ্ছে করে না, আবার আগামী নির্বাচনে প্রার্থিতার জন্য গণসংযোগ করতেও ভালোই লাগছে’— নিজের কাজ সম্পর্কে এমন মন্তব্য নুরুল ইসলাম নুরুলের। সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক তিনি। পাশাপাশি নির্বাচিত হয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও। গত বছরের ৯ মার্চ বিএনপির সবশেষ কাউন্সিলে দুই পদে থাকার বৈধতা বাতিল হয়। তবুও ছাত্রদলের পদ থেকে ইস্তফা দেননি তিনি।

২০১০ সাল থেকে নুরুল ইসলাম নুরুলের কাঁধে রয়েছে ছাত্রদলের জেলা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব। বর্তমানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। এই পদে তাকে নেওয়া হয় ২০১৭ সালের ২৫ মে। রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রস্তাবিত কমিটি এ অনুমোদন দেয়। পরে তার নির্দেশে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৫১ সদস্যের নতুন কমিটিতে স্বাক্ষর করেন।

সিলেট বিভাগের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলা আর সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি হয়েছে। তবে মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি এখনও করেনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদ। একইসঙ্গে স্থগিত আছে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের কমিটি।

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন এ প্রতিবেদকের কাছে মন্তব্য করেন, ‘সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর ছাত্রদলের পদে থাকার প্রশ্নই আসে না। খুব দ্রুত সময়ে ছাত্রদলের কমিটি আসবে। নুরুল ইসলাম নুরুল এখন বিএনপির সুনামগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান সাড়া দেননি। তবে সংগঠনের প্রথম সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট কল রিসিভ করেছেন ঠিকই, কিন্তু কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে একইসঙ্গে ছাত্রদল ও বিএনপির দায়িত্বে থাকলেও ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ বিএনপিসহ পুরো জেলার সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন নুরুল ইসলাম নুরুল। গত ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ শহরের একটি বাড়িতে বসে কথা হয় তার সঙ্গে। ছাত্রদলের পদ ধরে রাখার কারণ জানিয়ে তিনি প্রতিবেদককে বললেন, ‘গ্রহণযোগ্য কোনও নেতৃত্ব এখনও পাওয়া যায়নি। তবে খুব দ্রুত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

শুধু সাধারণ সম্পাদকই নয়, জেলা ছাত্রদলের কমিটির আরও কয়েকটি পদে নির্বাচিত হন নুরুল ইসলাম। এর মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত আর ২০০৩ থেকে ২০১০ পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এই দু’বার কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত করা হয় তাকে। এছাড়া টুকু-আলীম কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

কোন পদটি উপভোগ করেন বেশি? প্রশ্ন ছিল নুরুল ইসলাম নুরুলের কাছে। উত্তরে সুনামগঞ্জের এই নেতা বলেন, ‘দুটোই। ছাত্রদলের নেতা হিসেবে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছি। রাজনৈতিক পরিচিতিও এসেছে। ছাত্রসমাজের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি হয়েছে। আর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ হয়েছে। দল চাইলে সুনামগঞ্জ সদর আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে দাঁড়ানোর ইচ্ছে আছে আমার।’

জেলার দিরাই, সদর উপজেলার নীলপুর বাজার, গৌরারংসহ কয়েকটি এলাকার স্থানীয়রা জানান— জেলা ছাত্রদলের নেতা হিসেবে পুরো সুনামগঞ্জেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন নুরুল। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রবীণ নেতা ফজলুল হক আছপিয়ার পরিবর্তে সদর আসনে তাকেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তারা।

স্থানীয় গৌরারং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফুল মিয়ার ভাষ্য, ‘বয়সে তরুণ হলেও রাজনীতিতে অনেক পোক্ত হয়ে উঠেছেন নুরুল ইসলাম নুরুল। পুরো সুনামগঞ্জে সরকারবিরোধী বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনিই। আর বয়সে প্রবীণ হওয়ায় ফজলুল হক আছপিয়ার জায়গায় তিনি অনেক ভালো প্রার্থী। দলের উচিত তাকেই মনোনয়ন দেওয়া।’

স্থানীয় অধিবাসী গৌরারং ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মুহাম্মদ আইয়ূব আলী বললেন, ‘গত ৯ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন নুরুল ভাই। ৯ বছরে তার মতো আর কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি। তাকে মনোনয়ন না দিলে যদি আমরা হারি তাহলে দায়ী থাকবে দল।’

আরও পড়ুন: পূর্ব ঘোষণা দিয়ে হত্যা

জেলার সোনাপুর বেদেপল্লীর সর্দার হাজী মুহাম্মদ আক্কুল আলীর ভাষ্য, ‘সক্রিয় নেতা হিসেবে কর্মীরা নুরুল ভাইকে পছন্দ করে। ফজলুল হক আছপিয়া সাহেব বয়সের ভারে জর্জরিত। তাকে নিয়ে লড়াই করা কঠিন। তাছাড়া তিনি সব জায়গায় যেতেও পারবেন না।’

সুনামগঞ্জ সদর আসন থেকে মনোনয়ন চান উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীনও। যদিও গৌরারং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফুল মিয়া মনে করেন, মনোনয়নের টিকিট পেলে ৭০-৮০ শতাংশ ভোট বেশি পেয়ে জিতবেন নুরুল। তার ভাষ্য, ‘জাকেরীন দলের কোনও কার্যক্রমে অংশ নেন না। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই তিনি চলাফেরা করেন। আর নুরুল সবার চোখে সাহসী নেতা। তিনি সুনামগঞ্জে বিএনপির হাল না ধরলে এই দলের অস্তিত্ব থাকতো না। তাকে প্রার্থী করলে আলাদা করে ভোট চাওয়া লাগবে না।’

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মুনাজ্জির সুজন বলেছেন, ‘নুরুল ইসলাম নুরুলের জনপ্রিয়তা যে অনেক তা মানুষের সঙ্গে কথা বললেই স্পষ্ট হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা সদর আসনে তার মতো নেতাকে সংসদ সদস্য হিসেবে পেলে আরও অনুপ্রাণিত হবে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

আর/১০:১৪/২৩ ডিসেম্বর

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে