Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.4/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ১২-১৬-২০১৭

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী


মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর

বাঙালির জন্য স্বাধীনতা সবসময়ই জরুরি ছিল। কেননা সে পরাধীন ছিল। '৪৭-এর স্বাধীনতার পরও সেটা জরুরি হয়ে উঠেছিল একাধিক কারণে। প্রথম কারণ জাতিগত প্রশ্নের মীমাংসা। পাকিস্তান নামের এই অস্বাভাবিক রাষ্ট্রটিতে নিপীড়ন চলছিল বাঙালির জাতিসত্তার ওপরে। নিষ্ঠুর নিপীড়ন। রাষ্ট্রক্ষমতা যাদের দখলে ছিল তারা কেবল যে অবাঙালি ছিল তা নয়, ছিল তারা বাঙালি-বিদ্বেষী। শাসন ব্যবস্থার পুরোটাই ছিল এই বাঙালি-বিদ্বেষীদের হাতে। সামরিক বাহিনী, আমলাতন্ত্র, পুলিশ, আদালত, জেলখানা সবই তাদের অধীনে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ গোটা অর্থনীতি তারাই নিয়ন্ত্রণ করত। প্রচারমাধ্যমে তারা ছাড়া আবার কারা? শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তারা হাতে রাখতে চাইত। জাতিগত নিপীড়নের এই সমস্যার সমাধান না করে অন্য প্রশ্নগুলোর মীমাংসা করা সম্ভব ছিল না। সে জন্যই স্বাধীনতা অতি জরুরি ছিল। ওটি ছিল প্রথম পদক্ষেপ, সমষ্টিগত অগ্রযাত্রার। মূল লক্ষ্যটা কী? মূল লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় মুক্তি। 

স্বাধীনতা একবার '৪৭-এও এসেছিল। নতুন রাষ্ট্র, সংবিধান, রাজধানী, পতাকা, দালানকোঠা, ক্ষমতায় নতুন মানুষ- সবই হলো, ভূখণ্ডও পাওয়া গেল; কিন্তু যে জন্য মানুষ পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়েছিল, সেই আশাটা মিটল না। জনগণের মুক্তি এলো না। পাকিস্তানের দুই অঞ্চলের মধ্যে শত শত মাইলের দূরত্ব ছিল; কিন্তু ওই দূরত্বের কারণে পাকিস্তান ভাঙেনি, সামরিক বাহিনী, আমলাতন্ত্র, জুলফিকার আলী ভুট্টো ওদের তথাকথিত নির্বুদ্ধিতার কারণেও নয়, ভেঙেছে বৈষম্যের কারণে। এক অংশ সব ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল, রেখে বেড়ে ও ফেঁপে উঠেছিল, উঠে অন্য অংশের ওপর জাতিগত নিপীড়ন ও শোষণ চালাচ্ছিল। তাদের নিপীড়ন ও শোষণে পূর্ববঙ্গ শ্মশানে পরিণত হচ্ছিল। শ্মশান হওয়ার জন্য তো মানুষ স্বাধীনতা চায়নি, লোকে বাগান চেয়েছে, ফলের ও ফুলের; সে জন্য তারা ওই স্বাধীনতাকে প্রত্যাখ্যান করে নতুন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা যে প্রয়োজন, ক্রমে ক্রমে এই ধারণা গড়ে তুলল। দাবির ব্যাপারটা প্রথমে স্পষ্ট ছিল না তাদের কাছে, ঘটনাই শিখিয়ে দিল যে পুরনো রাষ্ট্রে তাদের মুক্তি নেই। 

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর প্রশ্ন দাঁড়াল, আমাদের মুক্তি কীভাবে আসবে? আসার একটা পথ বাংলাদেশের আদি সংবিধানে দেখানো হয়েছিল। চারটি মূলনীতি বের হয়ে এসেছিল। মুক্তিযুদ্ধের ভেতর থেকে। তারা পরিণত হয়েছিল রাষ্ট্রের মূলনীতিতে। কিন্তু পথের দিশা সংবিধানে থাকাই তো যথেষ্ট নয়, পথটা বাস্তব ক্ষেত্রে গড়ে তোলা অনিবার্য ছিল। উপযুক্ত ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রয়োজন ছিল। আবশ্যক ছিল একটি সামাজিক বিপ্লবের। 

স্বাধীনতার প্রয়োজন ছিল নতুন সমাজ গড়ার জন্যই। এই দাবিটা কোনো বিলাসিতা ছিল না। ছিল প্রাণের দাবি। আশা ছিল এই যে, জাতীয় প্রশ্নের মীমাংসা হয়ে গেলে, শ্রেণি প্রশ্ন মীমাংসা করাটা সহজ হবে। কিন্তু শ্রেণি এমনই বস্তু যে, সে মীমাংসিত প্রশ্নকেও অমীমাংসিত করে দেয়। বাংলাদেশ হওয়ার পর যারা অনেক টাকা করেছে এবং পাকিস্তান আমলে কিছুটা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার দরুন ও কিছুটা সাংস্কৃতিক পশ্চাৎপদতার কারণে যারা পাকিস্তানপন্থি ছিল, তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষাকারী যে প্রতিষ্ঠান বিএনপি পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের অনুকরণে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধ্বনি তুলেছে। অন্যদিকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ যে আওয়ামী লীগ, তারাও সমগ্র জনগণকে নিজের সঙ্গে নিতে পারছে না। জনগণ দূরে থাকছে। কেননা তারা গরিব, তারা এক হবে কী করে ধনীদের সঙ্গে? সমাজে বৈষম্য ক্রমাগত বাড়ছে। পাকিস্তান আমলে বৈষম্যটাকে স্থানীয়-অস্থানীয়র বৈষম্য বলে চিহ্নিত করা যেত। এখন সেটা করা সম্ভব নয়; কেননা এখন সকলেই স্থানীয়। বস্তুত জাতি এখন আর এক থাকছে না, দুই জাতিতে পরিণত হচ্ছে। আমরা এক নতুন দ্বিজাতিতত্ত্বের দিকে এগোচ্ছি। অর্থনৈতিক ক্রিয়াকর্ম জাতি গড়ছে না, শ্রেণি গড়ছে, জাতিকে সংহত না করে শ্রেণিকেই সংহত করছে। সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই দুটি দাবি এসেছিল মুক্তির জাগ্রত আকাঙ্ক্ষা থেকেই। পাকিস্তান আমলে তৈরি সাম্প্রদায়িক ও শ্রেণিগত বিভাজনকে নাকচ করে দিতে চেয়েছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। মূলনীতি দুটি যে বিদায় করে দেওয়া হলো, সেটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, স্বাভাবিক ঘটনা বটে। মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ, আমাদের ইতিহাসের একমাত্র জনযুদ্ধ। জনযুদ্ধে জনতার জয় হয়েছিল। কিন্তু বিজয়ী জনতা ক্রমাগত দূরে সরে যাচ্ছিল ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে, ক্ষমতা আগের মতোই চলে যাচ্ছিল অল্প কিছু মানুষের হাতে। পঁচাত্তরের নৃশংস পটপরিবর্তনের পর নতুন যারা ক্ষমতায় এলো তারা শুধু ক্ষমতাই বুঝেছে, অন্য কিছু বুঝতে চায়নি। তারা জনগণের লোক নয়, জনগণের আদর্শ তাদের নয়। তাদের আদর্শে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের স্থান ছিল না। তারা তাদের আদর্শকে জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে এবং সেটাই ছিল স্বাভাবিক। তারপর ক্ষমতার হস্তান্তর ঘটেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যারা ক্ষমতায় এসেছিল এবং আছেও, তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে পরিচিত। কিন্তু কই, তারাও তো সরিয়ে দেওয়া মূলনীতি দুটি ফেরত আনেনি। 

বাংলাদেশে বামপন্থিরা জনগণকে সঙ্গে নিতে পারেনি। যে জন্য তারা শক্তিশালী হয়নি। জনগণের আস্থা তাদের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তাদের এই ব্যর্থতার কারণ জনগণের মেজাজ, ভাষা, কল্পনা তারা আত্মস্থ করতে পারেনি এবং একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে কখন কার প্রধান দ্বন্দ্ব, সেটা অনুধাবনেও তারা অপারগ হয়েছে। ১৯৪৭ সালে বামপন্থিরা আওয়াজ তুলেছিল, ইয়ে আজাদী ঝুটা হায়, লাখো ইনসান ভুখা হায়। বক্তব্যটা একেবারেই সঠিক ছিল। মানুষ অভুক্ত রয়েছে। স্বাধীনতা কোথায়? স্বাধীনতা যে ভুয়া ছিল তা মানুষ পরে বুঝেছে, বুঝে নতুন করে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনে যোগ দিয়েছে; কিন্তু '৪৭-এ তারা প্রস্তুত ছিল না নতুন করে আন্দোলন করতে। তাদের চোখে তখনও স্বপ্নের ঘোর এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামার নির্মম স্মৃতি। জনগণ সাড়া দেয়নি। শাসকরা সুযোগটা নিল, তারা বামপন্থি দমনে তৎপর হয়ে উঠল। ব্যর্থ হয়ে বামপন্থিরা রণকৌশল বদল করা দরকার মনে করল। এবার চলে গেল তারা উল্টো মেরুতে। ঠিক করল কাজ করতে হবে ধীরে ধীরে, পরিচয় লুকিয়ে, উঠতি মধ্যবিত্তের স্বার্থরক্ষাকারী রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থেকে। তার পরও বাম আন্দোলন ছিল। ছিল তারা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে, ছিল ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে, ছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে। জনগণের স্বার্থে কথা তারাই মূলত বলেছে। কিন্তু তারা নিজেরা গেছে নানা ধারায় বিভক্ত হয়ে। জনতা বিভক্ত নয়, জনতার পক্ষের লোকেরা বিভক্ত। বামপন্থিরা সেটা হৃদয়ঙ্গম করতে পারেনি, সেটা হচ্ছে জাতিসত্তার নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্ব। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা জাতিগত প্রশ্নের মীমাংসা না করলে শ্রেণিগত প্রশ্নটি যে স্পষ্ট হবে না, এটা তারা খেয়াল করেনি। সঠিকভাবে ব্যাপারটির গুরুত্ব অনুধাবন করলে স্বাধীনতার যুদ্ধ তাদের নেতৃত্বেই হতো এবং তার পরিণতি হতো ভিন্ন রকমের, মুক্তিযুদ্ধ আরও এগিয়ে যেত, সমাজ এগোতো বৈপ্লবিক পরিবর্তনের অভিমুখে। 

বামপন্থিদের কোনো কোনো অংশ অবশ্য রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা যে প্রথম দরকার, সেটা বুঝেছিল। কিন্তু তারা সংগঠিত হতে পারেনি। তাছাড়া জনগণের ভাষা তারা জানত না। পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ববঙ্গের দ্বন্দ্বকে কীভাবে জাজ্বল্যমান করে তুলতে হবে, তা তাদের ধারণার মধ্যে ছিল না। জাতিগত দ্বন্দ্বের বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন না থাকায় বামপন্থিদের অংশবিশেষ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা পর্যন্ত করেছে। স্বাধীনতার পরে বামপন্থিদের কাছ থেকে এটা প্রত্যাশিত ছিল যে, সমাজ বিপ্লবের লক্ষ্যে তারা ঐক্যবদ্ধ হবে। তারা তা হয়নি। বরঞ্চ তাদের বিভাজন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একাংশ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে জাতীয় বুর্জোয়াদের খুঁজতে চেষ্টা করেছে এবং আশা করেছে, তথাকথিত এই বুর্জোয়াদের সাহায্যে বিপ্লব সংগঠিত করবে। কিন্তু পুঁজিবাদের সর্বাত্মক বিস্তারের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় বুর্জোয়া পাওয়া যায়নি, লুণ্ঠনকারী বুর্জোয়ারাই কর্তৃত্ব করেছে। এরা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত নয়, তাই বিশ্ব পুঁজিবাদের আগ্রাসনের মুখে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে বিক্রি করতেও তারা প্রস্তুত থেকেছে। লুণ্ঠনকারীরা সেটাই করে; মুফতে পাওয়া সম্পত্তির প্রতি তাদের কোনো মায়া, মমতা থাকে না। বাম উগ্রপন্থিদের কেউ কেউ আবার বলতে চেয়েছে যে, স্বাধীনতা আসেনি, রুশ-ভারত অক্ষশক্তি পূর্ব পাকিস্তান দখল করে নিয়েছে মাত্র। এসব বিচ্ছেদ ও বিভ্রান্তির কারণে জনগণের পক্ষে দাঁড়াবে এমন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি বিকশিত হতে পারেনি। 

একাত্তরের পরে যারা রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে পেয়েছিল, তাদের নিজেদের মধ্যেও দ্বন্দ্ব ছিল। তাদের দলীয় তরুণদের একাংশ দেখছিল, তারা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে পারছে না, অপরাংশের তুলনায় তারা সুবিচার পাচ্ছে না। হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে তারা বের হয়ে এসে নতুন সংগঠন গড়েছে; নাম দিয়েছে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল। তাদেরকেও যেহেতু শক্তি সঞ্চয় করা প্রয়োজন ছিল এবং এই শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতার কাছ থেকে পাবে বলে আশা করা যাচ্ছিল না, তাই তারা জনগণের কাছে গেল। জানত তারা যে জনগণ পুরাতন আওয়াজে আর সাড়া দেবে না। তাই নতুন রণধ্বনি তুলল সমাজতন্ত্রের এবং হাজার হাজার তরুণ, যারা সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছিল, যারা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে, কিন্তু মুক্তির পথ দেখতে পায়নি; তারা তৎক্ষণাৎ সাড়া দিয়েছে, যোগ দিয়েছে ওই দলে। ওই দলের ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ এখনও সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগোতে চাইছে; কিন্তু মূল দলসহ বাদবাকিরা ভিন্ন ভিন্নরূপে ও মাত্রায় বিলীন হয়ে গেছে। 

রাজাকাররা ফিরে এসেছে। মৌলবাদ শক্তিশালী হয়েছে। এর মূল কারণ ওই একটাই, সমাজে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসেনি। সমাজ একটা ধাক্কা খেয়েছে, সে নড়ে উঠেছে; কিন্তু এমনভাবে আধুনিক হয়নি যে রাজাকার ও মৌলবাদ অতীতের প্রাণী বলে চিহ্নিত হবে, পরিণত হবে এক দুঃস্বপ্নের স্মৃতিতে। ক্ষমতায় যারা যাতায়াত করে রাজাকার ও মৌলবাদ তাদের কাছে যথার্থ অর্থে দূরের নয়। কারও জন্য খুব কাছের, কারও জন্য ততটা কাছের নয়, ব্যবধান এটুকুই, সেটা মাত্রাগত, গুণগত নয়। সমাজে বৈপ্লবিক রূপান্তরের চেষ্টা যদি চলত, তাহলে এরা প্রশ্রয় পেত না। শাসকশ্রেণি ধর্মকে ব্যবহার করে চলেছে, দুই কারণে। এক. জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়েছে তাদেরকে নিজেদের রাজনৈতিক দলের কাছে নিয়ে আসার অভিপ্রায়ে; দুই. নিজেরাই যেসব অন্যায় করছে তার দরুন তৈরি অপরাধবোধ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আশায়। 

বলা হয়, গণতন্ত্রের মানে হচ্ছে সংখ্যাগুরুর শাসন। কিন্তু আমাদের দেশে সংখ্যালঘুরা অর্থাৎ ধনীরা শাসন করে সংখ্যাগুরুকে অর্থাৎ গরিবকে। গণতন্ত্রের স্বার্থেই এই ব্যবস্থা চলা উচিত নয়। এটা চলবেও না। এ জন্য যে সংখ্যাগুরু সচেতন ও বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে। তারা মুক্তি চায়। পরিবর্তন একটা ঘটবেই। প্রশ্ন হলো, কবে এবং কীভাবে। স্বাধীনতা ওই বড় পরিবর্তনের জন্যই প্রয়োজন ছিল। রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা নিজেই দুর্বল হয়ে পড়বে, যদি জাতীয় মুক্তি না আসে। মুক্তির প্রশ্নটি এখন আর আঞ্চলিক নয়। দ্বন্দ্ব এখন পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ববঙ্গের নয়, প্রশ্নটি এখন শ্রেণিগত, দ্বন্দ্ব এখন বাঙালি ধনীর সঙ্গে বাঙালি গরিবের। বিষয়টা এমন পরিচ্ছন্নভাবে প্রকাশ পেত না বাংলাদেশ যদি স্বাধীন না হতো। স্বাধীনতা আমাদের খুবই জরুরি ছিল, সমষ্টিগত অগ্রগতির পথে প্রথম সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ হিসেবে। 

এমএ/১০:২০/১৬ ডিসেম্বর

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে