Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ১১-১৫-২০১৭

কিভাবে রয়েছে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিধান 

উদিসা ইসলাম


কিভাবে রয়েছে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিধান 

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর- রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে সচেতনমহলে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এস কে সিনহার পদত্যাগ এবং নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না দেওয়ার মধ্যে এই পদে কোন শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে কিনা। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে একজন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, একটি সংসদ থাকবে, একজন প্রধান বিচারপতি থাকবেন। সেখানে শূন্যতার মেয়াদ সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি থেকে দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বপালন শুরু করেন বিচারপতি এস কে কুমার সিনহা। দায়িত্বগ্রহণের পর থেকেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রশংসা পাওয়া এই বিচারপতি দায়িত্ব পালনের মাঝামাঝি পর্যায়ে এসে জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন ধরনের বিতর্কে।অতীতের যে কোনও প্রধান বিচারপতির তুলনায় অনেক বেশি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ায় তার রাখা বিভিন্ন বক্তব্যে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলকে কখনও বিব্রত হতে হয়,কখনও সেগুলো বিতর্কের সৃষ্টি করে।তবে একেবারে শেষ সময়ে এসে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এস কে সিনহার বিরুদ্ধে। 

ফলে বাংলাদেশকে মুখোমুখি হতে হয় নতুন অভিজ্ঞতার।আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ায় তার সঙ্গে বসে বিচারকাজে অস্বীকৃতিও জানান। নানা নাটকীয়তার মধ্যে ৩৯ দিন ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় যান তিনি। এরপর ছুটির শেষ দিনে তিনি কানাডা থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করার পর বাংলাদেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি কে হবেন তাও রাষ্ট্রপতি নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, নিয়ম হচ্ছে, সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতিই নির্ধারণ করবেন কে হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি।

সংবিধান অনুসারে প্রধান বিচারপতির নিয়োগ পদ্ধতি কী হবে জানতে চাইলে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, আমেরিকার সংবিধান ১৫ পৃষ্ঠার আর আমাদের সংবিধান প্রায় ৮০ পৃষ্ঠার মতো।সংবিধানে বড় দাগে কিছু কথা লেখা থাকে, এর বেশি কিছু লেখা থাকে না। আমাদের সংবিধানে বলা আছে, একজন প্রধান বিচারপতি থাকবেন যাকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন। এর বেশি কিছু বলা নেই। 

প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের পর তার পদ শূন্য রাখার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংবিধানে শুধু বলা আছে, দেশে একজন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, একটি সংসদ থাকবে, একজন প্রধান বিচারপতি থাকবেন। সেখানে শূন্যতার মেয়াদ সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগে বিধান কী বলে প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সংবিধানের বিধান হলো রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। সেক্ষেত্রে তিনি কার সঙ্গে আলাপ করবেন বা আলাপ করবেন না, এটা তার বিষয়।

যে পরিস্থিতি উদ্ভব হয়েছে এতে নতুন কিছু করার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, রাষ্ট্রপতি যখন চাইবেন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিবেন। অনুচ্ছেদ ৯৫ অনুযায়ী, মহামান্য রাষ্ট্রপতির একক এখতিয়ার হচ্ছে বংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার। যতক্ষণ পর্যন্ত ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না দিচ্ছেন ততক্ষণ পর্যন্ত ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা দায়িত্ব পালন করবেন। 

সংবিধানের ৯৫, ৯৬, ৯৭ অনুচ্ছেদ একসঙ্গে পড়তে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পদ যদি শূন্যও হয়ে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতি ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগে তার যে ক্ষমতা সেটির প্রয়োগ না করছেন ততক্ষণ পর্যন্ত ৯৭ অনুচ্ছেদে যা লেখা আছে সেটা সেভাবে কাজ করবে। কোনও শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

আর/১২:১৪/১৫ নভেম্বর

আইন-আদালত

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে