Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (131 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ১০-১৭-২০১৭

এক টুকরো বাংলাদেশ আমার

এক টুকরো বাংলাদেশ আমার

রোহিঙ্গা সমস্যা, ডিমযজ্ঞ আর প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে হাজারো নেতিবাচক খবরের বাইরে একটা ভালো খবরের জন্য প্রায় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি সব সময় হা-পিত্যেশ করা মন নিয়ে বসে থাকেন। আশায় থাকেন, হয়তো হাজারো এই নেতিবাচক খবরের ভিড়ে দু-একটা ভালো সংবাদ পেয়ে যাবেন। কিন্তু বিধি বাম।

বেশির ভাগ সময়ই প্রবাসী বাংলাদেশিরা সেরকম কোনো খবর পান না। হয় বন্যা, কিংবা চাল ঘাটতি অথবা খাদ্য সংকট, নয়তো রোহিঙ্গা সমস্যা, ডিমযজ্ঞ আর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত খবর। তবে প্রবাসী পাঠকেরা যে মাঝে মাঝে একেবারেই সেরকম সংবাদ পান না সেটা বলা অন্যায় হবে।

তেমনি একটা মন ভালো করা, আশা জাগানিয়া সংবাদ গত শুক্রবারের (১৩ অক্টোবর) একটি জাতীয় পত্রিকায় সংবাদটা প্রধান খবর হিসেবে ছাপা হয়েছে, কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির কোনো কোনো বুভুক্ষু পাঠকের ভালো খবরের জন্য হা-পিত্যেশ করা মনকে উদ্বেলিত করেছে।

খবরটা এ রকম—‘নেদারল্যান্ডসের রাজধানী দ্য হেগে নির্মিত হতে যাচ্ছে স্থায়ী শহীদ মিনার। নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশ দূতাবাসের দীর্ঘ দুই বছরের প্রচেষ্টায় হেগের সবুজ ও সুবিশাল জাউদার পার্কে শহীদ মিনারের জন্য একটি স্থান বরাদ্দ করে নগর কর্তৃপক্ষ গতকাল (১১ অক্টোবর) দূতাবাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে। এর ফলে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের নেদারল্যান্ডসে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন বাস্তব রূপ লাভ করতে যাচ্ছে।’

নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশি দূতাবাস থেকে পাঠানো একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে দুটি ছবি দিয়ে যে সংবাদটি পরিবেশিত হয়েছে তার গুরুত্ব অনেক।

প্রথমত, এটি একটি সাফল্য! একটি সাফল্যকে পরবর্তী সাফল্যের সোপান বলা হয়। এটি আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষুদ্র প্রয়াসের একটি অনুকরণীয় সাফল্য। এতে নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশি দূতাবাসই প্রথম নয়, তবে তারা কানাডার এই প্রজন্মের ভাষাসৈনিক, যাদের কারণে ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল; তাদের সেই মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত করেছেন। নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশি দূতাবাসের সকল সদস্যকে এ জন্যে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন।

দ্বিতীয়ত, এই শহীদ মিনারই বিদেশের মাটিতে আমাদের বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব করবে, হয়ে উঠবে বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র, একটি প্রতীক। বিভিন্ন দেশের মাটিতে ঠিক যেমনটা করে থাকে চীনের কুনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, ফ্রান্সের আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, জার্মান গেটে ইনস্টিটিউট!

আর তৃতীয়ত, নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশি দূতাবাসের এই সাফল্য ধারা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে অবস্থিত আমাদের দূতাবাসকে উৎসাহিত করবে বলে আমার বিশ্বাস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত আমাদের রাষ্ট্রদূত মহোদয় এবং প্রবাসী বাঙালিরা এই কারণে উৎসাহিত হবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন করে শহীদ হয়েছিলেন বরকত, জব্বার, রফিক ও সালামসহ আরও অনেকে। আর বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পর দ্বিতীয় দফায় আরেকটি ভাষা আন্দোলন করেছিলেন কানাডাপ্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম।

সে কারণেই ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এরপর বাকিটা ইতিহাসের বিনির্মাণ। শুধু কানাডা নয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের পর নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশি দূতাবাস সেই দেশের রাজধানী দ্য হেগের জাউদার পার্কে শহীদ মিনারের জন্য যে জায়গাটি পেয়েছে সেখানে সুন্দর একটি শহীদ মিনার গড়ে উঠবে, নেদারল্যান্ডসের বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে সেটা—এমনটাই আমাদের আশা জাগানিয়া মন দাবি করতে পারে।

কিন্তু এই খবরে এত উদ্বেলিত হওয়ার কি আছে? এমন প্রশ্ন হতেই পারে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে কনসার্ট ফর বাংলাদেশ নামে যে সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল সেটা আমাদের বাঙালি জাতির ওপর হানাদার পাকিস্তানি আর্মির নির্মম অত্যাচার প্রতিরোধে সহায়ক হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছিল। মাত্র কয়েক দিন আগে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক অগ্রজ সাংবাদিক আনিসুল হক তার অরণ্য রোদন কলামে সেটা উল্লেখও করেছেন। আজ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এমন আয়োজন বড় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিশ্ব-জনমত তৈরি করতে এবং চাপ সৃষ্টি করতে পারত। আর সেটা সম্ভব হতো যদি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাঙালি সংস্কৃতির বন্ধন আরও শক্ত এবং মজবুত হতো। আর তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাঙালি সংস্কৃতির বন্ধন শক্ত ও মজবুত করতে শহীদ মিনার স্থাপন জরুরি—যাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে বাঙালি সংস্কৃতি।

পুঁজিবাদী দেশগুলো বিভিন্ন দেশে এই সমস্ত সাংস্কৃতিক দূতিয়ালি করতে যে ধরনের ইনস্টিটিউট নির্মাণ করে থাকে তার বিকল্প হতে পারে শহীদ মিনার। আমাদের এত টাকা নেই যে আমরা সাংস্কৃতিক দূতিয়ালির জন্য দেশে দেশে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করব। শহীদ মিনারই হতে পারে এর বিকল্প। যাকে ঘিরে আবর্তিত হবে প্রাণ, চাঞ্চল্যে ভরে উঠবে প্রবাসে বাঙালি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল। প্রবাসের মাটিতে সেটাই হবে আমার এক টুকরো বাংলাদেশ।

লেখকঃ আলী হোসেন, সুইডেন প্রবাসী সাংবাদিক।

আর/১৭:১৪/১৭ অক্টোবর

অন্যান্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে