Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৯-১৫-২০১৭

গোপনে সুনামগঞ্জের নাগরিক হয়েছেন ১২ রোহিঙ্গা  

গোপনে সুনামগঞ্জের নাগরিক হয়েছেন ১২ রোহিঙ্গা  

সুনামগঞ্জ, ১৫ সেপ্টেম্বর- সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গুটিলা গ্রামে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা একই পরিবারের ১২ রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।  এদের মধ্যে পাঁচজনকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নাগরিক সনদ ও তিনজনকে জন্মসনদ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ওই গ্রামের তোতা মিয়ার বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।  শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার দাশ।

আটকরা হলেন- মিয়ানমারের আকিদাবাদ জেলার মংদু থানার কুয়ান শিবং গ্রামের সাকির আহমদের ছেলে আবদুস সবুর (৫১), স্ত্রী আমিনা বেগম (৪২), ছেলে আবদুল হালিম (২৩), মেয়ে তালিহা আক্তার (১৫), মেয়ে হারিসা আক্তার (১৩), মেয়ে হালিমাতুস সাহিয়া (১১), মেয়ে সাবিহা আক্তার (৯), ছেলে আসলম শাহ (৭), মেয়ে উম্মা বেগম (২), আবদুল হালিমের স্ত্রী উম্মুল খাইরিন (২২) ও মেয়ে মোশারফা (১), হালিমের শ্যালক কাউছার (৭) প্রমুখ।

এসআই তপন কুমার দাশ বলেন, ‘প্রথমে স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে জানতে পারি, বড়দল ইউনিয়নের গুটিলা গ্রামে একটি রোহিঙ্গা পরিবার অবস্থান করছে।  পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই।  কর্তৃপক্ষ খোঁজ-খবর নিতে বলে।  পরে রাত ৯টায় তাদের ১২ জনকে আটক করে তাহেরপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।  তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঁচটি নাগরিক সনদ ও তিনটি জন্মসনদ নিয়েছেন।  এসব জন্মসনদ জব্দ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় তোতা মিয়ার বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।  তোতা মিয়ার ছেলে আল-আমীন চট্টগ্রামে পড়াশোনা করে।  সেখানেই রোহিঙ্গা নাগরিক আবদুস সবুরের দুই ছেলে পড়াশোনা করত।  সে সুবাদেই তাদের পরিচয় এবং বন্ধুত্ব হয়। পরে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়।  এ কারণে গত তিন মাস আগে আবদুস সবুর চট্টগ্রাম থেকে পরিবার নিয়ে গুটিলা গ্রামের তোতা মিয়ার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয় এবং স্থানীয়ভাবে কাজকর্ম করে দিনাতিপাত করছিল। ’

তিনি আরও বলেন, ‘১২ রোহিঙ্গা সদস্যকে আজকের মধ্যেই টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিবো। 

নাগরিক সনদ ও জন্মসনদ দেওয়ার ব্যাপারে বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আগে জানতাম না উনারা রোহিঙ্গা।  তোতা মিয়ার বাড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে।  সেখানকার ইউপি সদস্য মনির উদ্দিন তাদের কাগজপত্র ঠিকঠাক করে আমার কাছে নিয়ে আসে। আমি তাতে স্বাক্ষর করি। এখানে আমার তো কোনো দোষ নেই।’

ইউপি সদস্য মনির উদ্দিন বলেন, ‘এই পরিবারের সদস্যরা আগে চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।  সেখানেও তাদের নাগরিক সনদ ছিল।  সেখান থেকে এখানে এসে তারা বাড়িঘর করে বসবাস শুরু করেন। এমনটিই আমার জানা ছিল।’

এদিকে গত বুধবার রাতে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় একটি বাড়ি থেকে আরও ২০ রোহিঙ্গা মুসলিমকে আটক করে পুলিশ।  মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার মন্ডুকাদের বিল গ্রামের বাসিন্দা তারা।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।  এই ঘটনার পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে।  এরপর প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে ছুটে আসতে থাকে রোহিঙ্গারা।  ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।  অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে আরও প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা।  এসব রোহিঙ্গা যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়তে না পারে, তার জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সরকার।

আর/১৭:১৪/১৫ সেপ্টেম্বর

সুনামগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে