Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.3/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ১২-১৬-২০১২

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের সংখ্যা বাড়ছে


	মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের সংখ্যা বাড়ছে

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণটা এক সময় প্রায় থেমেই গিয়েছিল। স্বাধীনতার পর পর একসঙ্গে অনেক চলচ্চিত্র নির্মাণ হলেও ’৮০ ও ’৯০-এর দশকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। দীর্ঘ এই ২০ বছরে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি ছবি নির্মাণ হয়। রাজনৈতিক কারণে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলচ্চিত্রে প্রায় উপেক্ষিতই থেকে যায়। এই দুই দশকে উল্লেখ করার মতো যে ক’টি মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মিত হয় সেগুলোর মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের ‘আগুনের পরশমনি’, চাষী নজরুল ইসলামের ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ এবং খান আতাউর রহমানের ‘এখনো অনেক রাত’ উল্লেখযোগ্য। এর আগে স্বাধীনতার পর পরই নির্মিত হয়েছিল চাষী নজরুল ইসলামের ‘ওরা ১১ জন’ ও ‘সংগ্রাম’, সুভাষ দত্তের ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, আলমগীর কুমকুমের ‘আমার জন্মভূমি’, মমতাজ আলীর ‘রক্তাক্ত বাংলা’, আলমগীর কবিরের ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ফখরুল আলমের ‘জয়বাংলা’, আনন্দ’র ‘বাঘাবাঙ্গালী’, হারুনুর রশীদের ‘মেঘের অনেক রং’, নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘আলোর মিছিল’, কবির আনোয়ারের ‘স্লোগান’ এবং শহীদুল হক খানের ‘কলমিলতা’। এর সূচনা করেছিলেন শহীদ চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান ১৯৭০ সালে ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ’৬৯-এর গণআন্দোলন নিয়ে ‘জীবন থেকে নেয়া’ নামে একটি অবিস্মরণীয় ছবি নির্মাণ করে। এই ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবিটি স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ হিসেবে পর্দায় জনসম্মুখে আসে। স্বাধীনতা সংগ্রামকে বেগবান করেছিলেন জহির রায়হান। এরপর তিনি নির্মাণ করেন মুক্তিযুদ্ধের আরেক দলিল ‘স্টপ জেনোসাইড’। নির্মাণ শুরু করেছিলেন ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ নামে আরও একটি ছবির। কিন্তু স্বাধীনতার দেড় মাস পর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ায় ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ আর আলোর মুখ দেখেনি। তবে স্বাধীনতার পর স্বাধীনতা-পরবর্তী পটভূমিকায় ‘আবার তোরা মানুষ হ’ নামে একটি ছবি বানিয়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন খান আতাউর রহমান। মহান মুক্তিযুদ্ধের মহান কিছু যোদ্ধার পথভ্রষ্ট হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত সুপথে ফিরে আসার গল্প নিয়ে নির্মাণ হয়েছিল ‘আবার তোরা মানুষ হ’। এতো বড় মাপের না হলেও নায়ক পরিচালক আনন্দ একই ধরনের প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মাণ করেছিলেন ‘কার হাসি কে হাসে’। তারপর বিরতি। মাঝে মধ্যে দু’-একটি ছবি নির্মাণ। রাজনৈতিক কারণে নির্মাতাদের মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা ইত্যাদি অনেক প্রতিবন্ধকতা মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রে স্থবিরতা এনে দেয়। ২০০০ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে এই স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে সাহস নিয়ে এগিয়ে আসে সুস্থধারার চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লি.। তারা মাত্র ৯ বছরে ১২টি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করে। ছবিগুলো হচ্ছে- চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘মেঘের পরে মেঘ’ ও ‘ধ্রুবতারা’, হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘শ্যামল ছায়া’, তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘জয়যাত্রা’, মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ‘খেলাঘর’ ও ‘আমার বন্ধু রাশেদ’, শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘লাল সবুজ’ ও ‘বাঙলা’, বদরুল আনাম সৌদ পরিচালিত ‘খণ্ডগল্প ৭১’, রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘মেহেরজান’, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু পরিচালিত ‘গেরিলা’ এবং মাসুদ আখন্দ পরিচালিত ‘পিতা’। পাশাপাশি তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ পরিচালিত ‘মুক্তির গান’, তানভির মোকাম্মেল পরিচালিত ‘রাবেয়া’ নির্মাণ করেন। অসংখ্য মুক্তিযুদ্ধের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে নাসির উদ্দিন ইউসুফের ‘একাত্তরের যিশু’ এবং তানভির মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’র নাম উল্লেখযোগ্য। স্বাধীনতার ৪১ বছরে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে উল্লেখ করার মতো ছবির সংখ্যা মাত্র ৩৪। সংখ্যাটা আরও বেশি হতে পারতো। বিশেষ করে অন্তত ৪১টি হলে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে প্রশান্তির বাতাস বয়ে যেতো। তবে গত ১২ বছরে যে হারে মুক্তিযুদ্ধের ছবি নির্মিত হয়েছে এবং বেশ কিছু ছবি দেশ ও বিদেশে প্রশংসিত পুরস্কৃত হয়েছে তাতে নতুনভাবে আশাবাদী হওয়া যায়। স্বাধীনতার ৪১তম বিজয়ের রাষ্ট্রীয় স্লোগান ‘বিজয় থেকে বিজয়ে’। চলচ্চিত্রপ্রেমীরা আশা করছেন এ স্লোগানকে হৃদয়ে ধারণ করে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নিয়ে আরও বেশি করে চলচ্চিত্র নির্মিত হবে। নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস।

বলিউড

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে