Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (12 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-২৪-২০১৭

লিবিয়ায় ৮ বাংলাদেশিকে জিম্মি করে দালালদের মুক্তিপণ দাবি

লিবিয়ায় ৮ বাংলাদেশিকে জিম্মি করে দালালদের মুক্তিপণ দাবি

ত্রিপোলি, ২৪ আগষ্ট- অবৈধভাবে লিবিয়া যাওয়ার সময় দালালদের হাতে জিম্মি হয়ে নানা নির্যাতনের মুখে দিন পার করছেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার একই গ্রামের ৭ যুবকসহ ৮ জন। দালালের খপ্পরে পড়া এসব ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা আদায়ে তাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলেছে বলে জানা গেছে।

এসব যুবকদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে ইমোর মাধ্যমে ভিডিও কল দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে মুক্তিপণের টাকা।

এই ঘটনায় জড়িত থাকায় দালালচক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-৮।

জানা গেছে, স্বজনদের কান্না, আর্তনাদ কোনমতেই যেন থামছেনা। এই আহাজারি বলে দেয় কতটা কষ্টে দিন কাটছে তাদের। চলতি বছরের ৬ই মার্চ অবৈধভাবে বিমানপথে লিবিয়া যাবার সময় দালালদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার দক্ষিণ খালিয়া গ্রামের নগেন বাড়ৈর ২০ বছর বয়সী ছেলে নিতাই।

তখন থেকে দালালরা নিতাইকে শারীরিক নির্যাতন করে বিকাশের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছ থেকে দফায় দফায় আদায় করছে মুক্তিপণের টাকা। সবশেষ, দালালদের ৭ লাখ টাকা দিয়েও নিতাইয়ের মুক্তি না হওয়ায় আতঙ্কিত তার পরিবার।

নিতাইয়ের মা সুমিত্রা বাড়ৈ বলেন, ‘আমার সন্তানকে এনে দাও বাবা। আমার সন্তানকে তোমাদের কাছে ভিক্ষা চাই।’ নিতাইয়ের বাবা নগেন বাড়ৈ বলেন, ‘আমার আর মুক্তিপণ দেওয়ার সামর্থ্য নেই। যা ছিলিো সব বিক্রি হয়ে গেছে আর কিছু নেই।

শুধু নিতাই নয়, রাজৈর উপজেলার দক্ষিণ খালিয়া গ্রামের ৭ যুবক ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী এলাকার এক যুবক মানব পাচারকারী দালালচক্রের সদস্য শহিদুল মাতুব্বরের হাতে জিম্মি রয়েছে। এমন ঘটনায় দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যরা জানান তারা বলতে পারবেনা এ পর্যন্ত কত টাকা দিয়েছে দালালদের। মানুষের কাছথেকে এনে এনে শুধু দিয়েই গেছেন তারা।

দীর্ঘদিন ধরে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি দালাল শহিদুলের বাবা সিরাজ মাতুব্বরকে শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের ধুয়াটি গ্রামের বাড়ি থেকে আটক করেছে র‌্যাব।

মাদারীপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সৈয়দ ফারুক আহম্মেদ বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত সহযোগিতা করা হবে।

এই যুবকদের সাথে একই সময়ে জিম্মি হওয়া শিবচর উপজেলার আরো ১০জন যুবকের প্রত্যেকের পরিবার ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা করে দেয়ায় তাদের মুক্তি দেয়া হয়। এসব পরিবারের অভিযোগ, এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয় পুলিশ।

আর/১২:১৪/২৪ আগষ্ট

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে