Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.6/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-২১-২০১৭

প্রার্থী বদলের দাবি আ'লীগে বিএনপিও দ্বিধাবিভক্ত

মীর গোলাম মোস্তফা ও মোস্তাফিজুর রহমান


প্রার্থী বদলের দাবি আ'লীগে বিএনপিও দ্বিধাবিভক্ত

ময়মনসিংহ, ২১ আগস্ট- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে মাঠে রয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রায় এক ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী। এখানে প্রার্থী বদলের দাবিও উঠেছে বেশ জোরেশোরে। সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকিরের মৃত্যুতে এ আসনটি শূন্য হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে এখানকার এমপি। নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মধ্যেই তাকে নিয়ে দলে নানা অভিযোগ উঠেছে। নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। ক্ষমতাসীনদের এ অবস্থার মধ্যে বিএনপিও ভালো নেই। দলটি প্রকাশ্যেই দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে।

আসনটিতে ১৯৭৯ সালে বিএনপি, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ এবং ১৯৯৬ সালে বিএনপির প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হন। আসনটিতে ২০০১ সাল থেকে আমৃত্যু সংসদ সদস্য ছিলেন ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির। তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন নাজিম উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। কেন্দ্রের নির্দেশে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার কাজও চলছে। এ আসনে তিনি নিজে আবার প্রার্থী হতে চান। একই সঙ্গে বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তাকে জয়ী করার জন্যই সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন।

এ আসনে ২০১৪ সালে মজিবুর রহমান ফকিরের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে দ্বিতীয় হয়েছিলেন বিদ্রোহী প্রার্থী বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নাজনীন আলম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গণসংযোগ এবং নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে এলাকায় ক্লিন ইমেজ গড়ে তুলেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তন হলে আসন ধরে রাখার জন্য নাজনীনই এখানে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী। হাইকমান্ডের ভাবনাও এবার তাকে নিয়ে। নাজনীন আলম বলেন, ২০১৪ সালে বিপুল ভোট পেয়েও নির্বাচিত হতে পারিনি। আমার জয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অনেক নির্যাতনও সহ্য করেছি। সভানেত্রীর কাছ থেকে ভবিষ্যতে মনোনয়ন প্রাপ্তির আশ্বাসেই ২০১৬ সালের উপনির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করি। ত্যাগ এবং জনপ্রিয়তা বিবেচনায় আশা করছি এবার আর মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হবো না। জনগণও আমাকে এ আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চায়।

২০১৬ সালের উপনির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ২২ জন। এবার রয়েছেন এক ডজন। নাজিম উদ্দিন আহমেদ এবং নাজনীন আলম ছাড়াও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে আরও কাজ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ, গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ খান পাঠান সেলভী, ময়মনসিংহ জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবুল (ভিপি বাবুল), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাবেক ভিপি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ একেএম আবদুর রফিক, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মতিউর রহমান, বঙ্গবন্ধু পরিষদ গৌরীপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. সামিউল আলম লিটন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সাবেক সদস্য মুর্শেদুজ্জামান সেলিম, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরীফ হাসান অনু, উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাবেয়া ইসলাম ডলি প্রমুখ।

এদিকে গৌরীপুর উপজেলা বিএনপিতে রয়েছে দুটি কমিটি। একটি গ্রুপের আহ্বায়ক হচ্ছেন প্রকৌশলী মকবুল হোসেন বকুল। অন্য গ্রুপে নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির (উত্তর) যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণ। বিএনপির এ দুটি গ্রুপ প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে। দুই নেতা দুই মেরুতে অবস্থান নেওয়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা এলাকায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির একাংশের সভাপতি আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণের দাপটে উপজেলা সদর এলাকায় তেমন কর্মকাণ্ড চালাতে পারেন না প্রকৌশলী মকবুল হোসেন বকুল। দলটির কোন্দল চরম থাকায় আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে দলীয় কর্মীরা আশঙ্কা করছেন। এ আসন থেকে ২০০৮ সালে মনোনয়ন পান তৎকালীন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী এম ইকবাল হোসাইন। তিনি তখন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন। ১৯৯৬ সালের পর বিএনপি এ আসনে আর জয়ী হতে পারেনি।

সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন, উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির (উত্তর) যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মকবুল হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকট নুরুল হক বিএনপির প্রার্থী হতে মাঠে কাজ করছেন।

উপজেলার বিএনপির (একাংশের) আহ্বায়ক প্রকৌশলী মকবুল হোসেন জানান, উপজেলা বিএনপির যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ছিল তা মিটমাট হয়ে গেছে। এখন আর গ্রুপিং নেই। চেয়ারপারসনের নির্দেশে দলকে সুসংগঠিত করার কাজ চলছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনিসহ কয়েকজন প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে। বিএনপিতে বিভক্তির কথা স্বীকার করে উপজেলা বিএনপির (একাংশের) আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণ জানান, জেলা বিএনপির কারণে অধিকাংশ উপজেলাতেই বিএনপির দুটি কমিটি বিদ্যমান রয়েছে। তিনি দলের মনোনয়ন নিয়ে বিগত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। চেয়ারম্যান হওয়ার পর মামলা, জেল, নির্যাতনসহ নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। উপজেলা পরিষদের সরকারি ভাতাও পান না। তবু তিনি বিএনপির এই হারানো আসন পুনরুদ্ধার করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে তিনি মনোনয়ন পেলে আসনটি পুনরুদ্ধার হবে বলে জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন জানান, দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মনোনয়ন পেলে তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

ময়মনসিংহ (উত্তর) বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, গৌরীপুর বিএনপির কোনো কমিটির বৈধতা নেই। নিয়ম অনুযায়ী আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কের যৌথ স্বাক্ষরে কমিটি অনুমোদন হওয়ার কথা। কিন্তু ময়মনসিংহ (উত্তর) বিএনপির আহ্বায়ক খুররম খান চৌধুরীর স্বাক্ষরে প্রকৌশলী মকবুল হোসেনকে আহ্বায়ক ও তার স্বাক্ষরে আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা সম্পর্কে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিধুভূষণ দাস বলেন, দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনেকেই মাঠে কাজ করছেন। আগামী নির্বাচনে যে প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পাবেন তাকেই ঐক্যবদ্ধভাবে জয়ী করা হবে।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী অধ্যক্ষ একেএম আবদুর রফিক জানান, আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে এলাকায় গণসংযোগ করছেন। কেন্দ্রের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

গৌরীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অনেক প্রতিবন্ধকার মধ্যেই তিনি দু'বার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে ভালো করবেন বলে আশা করেন কৃষিবিদ ড. সামিউল আলম লিটন। রাবেয়া ইসলাম ডলির আশাবাদ, নারীর ক্ষমতায়নের ধারায় শেখ হাসিনা তাকেই মনোনয়ন দেবেন।

ময়মনসিংহ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে