Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 5.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-২১-২০১৭

মৌলভীবাজার-৩ : বড় দু’দলেই বাড়ছে প্রার্থী সংখ্যা

চৌধুরী ভাস্কর হোম


মৌলভীবাজার-৩ : বড় দু’দলেই বাড়ছে প্রার্থী সংখ্যা

মৌলভীবাজার, ২১ আগস্ট- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার-৩ আসনে বড় দু’দলেই সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ফলে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উপদলীয় কোন্দলও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে সরব হয়ে উঠেছে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন।

জেলা সদর থেকে শুরু করে হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যোগাযোগ শুরু করেছেন। সেইসঙ্গে নিজ নিজ বলয়ে নেতাকর্মীদের ধরে রাখার জন্য কৌশলে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উভয় দলের প্রার্থীরাই।

মৌলভীবাজার-৩ আসনটি রাজনগর উপজেলা ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এটি জাতীয় সংসদের ২৩৬ নম্বর আসন।

এই আসনটি মূলত বিএনপির ঘাঁটি বলেই পরিচিত ছিল। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম সাইফুর রহমান ছিলেন এখানকার নেতা।   

এম সাইফুর রহমান রাজনীতিতে আসেন জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। মোট চারবার তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। জিয়ার মন্ত্রিসভায় প্রথমে বাণিজ্যমন্ত্রী ও পরে অর্থমন্ত্রী হন। পরে ১২ বার তিনি বাজেট পেশ করেন। তিনি ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ঢাকা-সিলেট মহা সড়কের খড়িয়ালা নামক স্থানে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। এর আগে ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ আসনে আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ মহসীন আলীর কাছে পরাজিত হন সাইফুর রহমান।  

২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে মৌলভীবাজার-৩ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে উপ-নির্বাচনে তার সহধর্মিণী সৈয়দা সায়রা মহসিনকে আওয়ামী লীগ থেকে মোনোনয়ন দিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে বেশ ক’জন নেতা মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা সালিশ, বিবাহ অনুষ্ঠান, বন্যা উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান করে জনসংযোগ করছেন।

তবে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন। তিনি প্রয়াত স্বামী সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর জন্য কেন্দ্র এবং জেলা পর্যায়ের নেতাদের সুদৃষ্টিতে রয়েছেন।

এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকার অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বিট্রিশ কাউন্সিলার ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এম এ রহিম (সিআইপি), জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ, এনবিআর ব্যাংকের চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী ও জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন।

বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর ছিলেন আমার স্বামী সৈয়দ মহসিন আলী। তারই পথ অনুসরণ করে আমিও কাজ করে যাচ্ছি। তাই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড এর মূল্যায়ন করবেন।

মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী এমএ রহিমও (সিআইপি)। তিনি বলেন, স্বাধীনতাত্তোর সময়ে দেশ ও দলের জন্য অনেক ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন করেছি। সেসময় মৌলভীবাজারের প্রতিটি স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করি। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার কারণে কারাবরণ করতে হয়েছে। ৭ মে ২০০৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরলে আমাকে ১৮ দিন কারাবরণ করতে হয়।

তিনি আরো বলেন, আমার বিশ্বাস দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। যার জন্য নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।

মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আগামীতেও দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছি। আমার অবিচল বিশ্বাস হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেবেন।

অন্যদিকে মৌলভীবাজার জেলায় আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি সাংগঠনিকভাবে সুসংগঠিত না হলেও জনসমর্থনের দিক দিয়ে তেমন পিছিয়ে নেই। নির্বাচনী আগাম ডামাডোলে তাদের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও কম নয়।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান, সাবেক সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খালেদা রব্বানী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ওরফে ভিপি মিজান ও সাবেক পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন।

গেলো পৌর নির্বাচনে ময়ূনকে মৌলভীবাজার পৌরসভায় বিএনপির থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি রহস্যজনক কারণে মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

ধানের শীষ প্রতীক প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, মাধ্যমিক স্কুল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মানুষের ভালবাসায় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। চেয়ারপারসন ও দলের হাইকমান্ড আমার দলীয় আনুগত্যের প্রতি সুবিচার করলে দলীয় মনোনয়ন পাবো বলে বিশ্বাস করি।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে আমাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সারাদেশে বিএনপি প্রার্থীরা আড়াইশ’র বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করবে।

এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে জেলা সভাপতি সৈয়দ শাহাব উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নূরুল হকও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন। তবে ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ শাহাব উদ্দিন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। অবশ্য জোটগতভাবে ভোট হলে সেক্ষেত্রে চিত্র পাল্টাতে পারে।

মৌলভীবাজার

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে