Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-১৯-২০১৭

জহির রায়হানের ৮৪তম জন্মদিনে তার স্ত্রীর স্মৃতি

জহির রায়হানের ৮৪তম জন্মদিনে তার স্ত্রীর স্মৃতি

১৯৩৫ সালের এ দিনে ফেনীর মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দেশের বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, বুদ্ধিজীবী ও লেখক জহির রায়হান। আজ তার ৮৪তম জন্মদিন। ১৯৭১ সাল ১৪ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের দ্বারা অপহৃত ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।

স্বাধীনতা যুদ্ধে শিশুসন্তানসহ স্বামী জহির রায়হানের সঙ্গে চলচ্চিত্রকার সুচন্দাও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হলো। বাঙালি জাতি স্বতন্ত্র একটি পতাকা পেল। স্বাধীন দেশে বীরের বেশে জহির রায়হানও ফিরলেন। বিজয়ের রেশ না কাটতেই সুচন্দা হারান তার  প্রিয় স্বামীকে। সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও তাড়া করে ফেরে এই খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার সুচন্দাকে।

স্বামী হারানোর সেই দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বেদনাবিধুর সুচন্দা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি। মিরপুরে কারফিউ জারি করে সার্চ পার্টি পাঠানো হয়। ওই দিন জহির রায়হানকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মিরপুর ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল বেলায় তিনি বাসার নিচতলায় বসেছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন লোক আসে। তাকে বলা হয় শহীদুল্লাহ কায়সারসহ নিখোঁজ অনেককে মিরপুরে পাওয়া গেছে। তিনি দ্রুত দোতলায় উঠেন।

ওই সময় তাকে খুব অস্থির ও বিচলিত দেখাচ্ছিল। আগতরা তাকে এও বলেছিল, মিরপুরে অপারেশন হবে। ভারতীয় আর্মিরা যাবে সেখানে। জহির এক টুকরো রুটি মুখে দিয়ে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেলেন। নিচে কয়েকজন আর্মি অফিসার ও তার চাচাতো ভাই শাহরিয়ার কবীর অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ আবার ওপরে উঠে টাকা চাইলেন। বললেন টাকা নেই, গাড়ির পেট্রল কিনতে হবে। আমি টাকা দিলাম। ও চলে গেল। আমি নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে কেবল ওর চলে যাওয়া দেখলাম। 

তখন ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি সে যাওয়াই হবে জহিরের শেষ যাত্রা। সারা ঘরময় বিষাদের নীরবতা আর ভয়ার্ত অন্ধকার। মিরপুর থানায় ফোন দিলাম। রিসিভ করলেন মেজর মঈন। তাকে জহিরের কথা জিজ্ঞাসা করতেই তিনি মেজর মতিউরকে ফোন ধরিয়ে দিলেন। তিনি বললেন তিনি ব্যস্ত, এখন দেওয়া যাবে না। 

আবার ফোন দিলাম। কে একজন জানালেন মিরপুরে গোলাগুলি হয়েছে, জহিরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, আমরা ব্যস্ত, আর কিছু বলতে পারব না। নির্বাক হয়ে গেলাম। কাঁদতেও পারছিলাম না। কান পেতে থাকি, ওই বুঝি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে, এক্ষুনি ডাকবে। কিন্তু না, এভাবে এক সপ্তাহ কেটে গেল। ক্যান্টনমেন্ট গেলাম। মেজর মঈন ও মতিউরের সঙ্গে দেখা করলাম। 

তারা বললেন, ওইদিন মিরপুরে অপারেশন হয়েছে। কোথায় গেছেন, কি হয়েছে তার, কিছুই জানেন না তারা। কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে এলাম, কয়েক দিন পর মিরপুর থানায় গেলাম। ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য পুলিশের সাহায্য চাইলাম। পুলিশ দুজন অবাঙালিকে ধরে আনলো। তাদের বর্ণনায় সেদিন বিহারিদের সঙ্গে প্রচণ্ড গোলাগুলি হয়েছিল সেখানে। অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে। 

পুলিশ তাদেরসহ আমাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেল। অঝোর ধারায় বৃষ্টি হচ্ছিল। আশপাশের কয়েকটি কলাগাছের নিচে মাটি খোঁড়া হলো। বেরিয়ে এলো অসংখ্য মৃতদেহ। মৃতদের গায়ে কাপড় নেই। পচে বীভত্স হয়ে গেছে। চেনারও উপায় নেই। এরপর পুলিশ একটি কুয়ার কাছে নিয়ে গেল। মৃতদেহে ভর্তি ছিল কুয়াটি। আমি ভয়ে আঁতকে উঠলাম। কোথাও জহির রায়হানকে খুঁজে পেলাম না। তারপর অনেক সময় পেরিয়ে গেল। নিশ্চিত হলাম জহির রায়হানকে হারিয়ে ফেলেছি।

এমএ/ ০১:৫০/ ১৯ আগস্ট

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে