Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 5.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-১৬-২০১৭

মেহেরপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির অনেক হিসাব-নিকাশ

ফারুক হোসেন


মেহেরপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির অনেক হিসাব-নিকাশ

মেহেরপুর, ১৬ আগস্ট- এক অর্থে মেহেরপুর-১ (সদর) আসনের নির্বাচনী সমীকরণ খুব সহজ। গৃহদাহ ভুলে নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হলে এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল। আবার জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে একক প্রার্থী দিতে পারলে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন। তবে প্রশ্ন হলো, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিরোধ কাটবে তো? কিংবা জামায়াত বিএনপিকে সমর্থন করবে তো?

এ প্রশ্নের উত্তর না মিললেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগ শুরু করেছেন মেহেরপুর-১ আসনে। ছোট ছোট শোডাউন, গণসংযোগ, উঠান

বৈঠক, শুভেচ্ছা বিনিময় ও লবিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ভোটাররাও বিশ্লেষণ করছেন, কে কোন দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন, কে মনোনয়ন পেলে ভালো হয়। বিভিন্ন সময় এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থীও একবার সাংসদ হয়েছেন। তবে বর্তমানে এ দলটির অবস্থা বেশ নাজুক। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর অস্তিত্ব এখানে মূলত কাগজে-কলমে।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদের কারণে এই আসনে দীর্ঘদিন থেকেই আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বিভক্ত। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে এসব দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে। বিভক্ত নেতা-কর্মীদের এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান এমপি ফরহাদ হোসেন দোদুল। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন রয়েছেন আরেক পক্ষের নেতৃত্বে। যদিও সাংসদ ফরহাদের দাবি, দলে বিভক্তি নেই। আওয়ামী লীগ বড় দল। তাই ছোটখাটো ভুলত্রুটি কিংবা ভুল বোঝাবুঝি থাকাই স্বাভাবিক। তবে দলে কোনো গ্রুপিং নেই।

ফরহাদ হোসেন দোদুল ও জয়নাল আবেদীন দু'জনই চাইছেন দলের মনোনয়ন পেতে। একইভাবে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন সাবেক এমপি অধ্যাপক আবদুল মান্নান, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী, কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য এমএস ইমন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইবরাহীম শাহীন, কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুস সালাম। এই সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ স্পষ্টতই গৃহদাহে জড়িয়ে পড়েছেন।

ফরহাদ হোসেন দোদুল বলেন, আমি এমপি হওয়ার পর কোথাও সন্ত্রাস, মাস্তানি ও চাঁদাবাজি নেই। প্রতিদিনই আমি জেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে নেতা-কর্মীদের খবর নিই। দল তাই অতীতের তুলনায় এখন অনেক সংগঠিত। আমার সময়কালে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, নদী খনন, শিক্ষাসহ নাগরিক অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এসব কারণে তিনি প্রত্যাশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে আবারও দলের মনোনয়ন দেবেন।

জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তার সঙ্গেই রয়েছেন। তিনি মনোনয়ন পেলে এই আসনে নৌকা প্রতীক বিজয়ী হবেই। অধ্যাপক আবদুল মান্নানের দাবি, তার সময়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল। তাই তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাকেই আবার এমপি হিসেবে দেখতে চাইছে। তিনি তাই দলের মনোনয়ন চাইবেন।

অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী জানিয়েছেন, তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকার সময় দলকে সুসংগঠিত করেছেন। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকার সময় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন। আগামীতে দলের মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই তার ওপর আস্থা রাখবেন।

এমএস ইমন, অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ইবরাহীম শাহীন প্রত্যেকেই আলাদা আলাদাভাবে জানাচ্ছেন, স্থানীয় নেতা-কর্মী প্রত্যেকের সঙ্গেই তাদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বের পুরোভাগে তরুণদের দেখতে চাইছেন। এসব কারণে মনোনয়ন চাইতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন তারা। প্রধানমন্ত্রী তাদের ওপর আস্থা রাখবেন এবং মনোনয়ন দেবেন বলে প্রত্যেক প্রার্থীই সমকালকে জানান।

তবে জাতীয় শোক দিবস পালনের কর্মসূচিতে গতকাল মঙ্গলবার মেহেরপুর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা শপথ নিয়েছেন, দ্বিধা-বিভক্তি ভুলে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকেই মনোনয়ন দিন না কেন তার পক্ষেই তারা নির্বাচনী প্রচারণা চালাবেন এবং বিজয় সুনিশ্চিত করবেন।

এদিকে দলে তেমন কোনো বড় দ্বন্দ্ব না থাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা অনেকটাই সুসংহত। নিজেদের ঘর গুছিয়ে নিয়েছেন তারা। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনার পুরোভাগে রয়েছেন জেলা সভাপতি মাসুদ অরুণ ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেন। এ ছাড়াও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন মুজিবনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি কর্নেল (অব.) সামস, আনছারুল হক, ইলিয়াস হোসেন, হাফিজুর রহমান হাফি ও আলমগীর খান ছাতু।

এ প্রসঙ্গে মাসুদ অরুণ জানান, দলের সব কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন তিনি। সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি কারাভোগও করেছেন। এ বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে দল নিশ্চয়ই তাকে মনোনয়ন দেবে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বিএনপিতে কোনো বিভেদ নেই। নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।

বিএনপি নেতা জাকির হোসেন, আমিরুল ইসলাম ও আনছারুল হক প্রত্যেকেই জানিয়েছেন, বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকায় দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী তারা। তাদের প্রত্যেকেই আশা করছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাদের ওপর আস্থা রাখবেন।

জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি আবদুল হামিদ জানিয়েছেন, জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে তিনি জোটের পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলের মনোনয়ন চাইবেন। তবে স্থানীয় জাতীয় পার্টির কাণ্ডারি হিসেবে পরিচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আমিরুল ইসলাম পালু পদত্যাগ করায় এ সংগঠনের বেশিরভাগ নেতা-কর্মীই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ২০ দলীয় জোটগতভাবে সবুজ সংকেত পেলে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মাওলানা তাজউদ্দীন খানও এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন।

এমএ/ ০৮:২৫/ ১৬ আগস্ট

মেহেরপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে