Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-১৪-২০১৭

সিআইডি কর্মকর্তা:  'টাকা না দিলে পাল্টে যাবে মামলার ধারা'

সিআইডি কর্মকর্তা:  'টাকা না দিলে পাল্টে যাবে মামলার ধারা'

পটুয়াখালী, ১৪ আগস্ট- আমি কোনো আসামি ধরতে পারব না। আপনাদের মামলা চালিয়ে লাভ নাই। তাড়াতাড়ি মামলা শেষ করে দেব। পুলিশের চার্জশিট (অভিযোগপত্র) পাইতে মোটা অঙ্কের টাকা লাগে। টাকার বড়সড় বান্ডিল দিলে ঠিকঠাক চার্জশিট হবে, না হলে অন্য হিসাব। বোঝেন না, আকাশের তারার মতো পুলিশের ধারার শেষ নাই? টাকা না দিলে ধারা পাল্টে চার্জশিট দেওয়া হবে। জোড়া খুনের তদন্তকারী কর্মকর্তা পটুয়াখালীর অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক উথান চো এ কথা বলেছেন। নিহতদের স্বজন ইমরান মাঝি গত ২ আগস্ট সিআইডি কার্যালয়ে গেলে ওসি এ ঘুষ দাবি করেন।

২০১৬ সালের ৫ মে পটুয়াখালী সদর উপজেলার কুড়িপাইকা গ্রামের ছাদেম আলীর স্ত্রী মালেকা বেগম, ভাই রুস্তম আলী মাঝি, ভাইয়ের স্ত্রী রোকেয়া বেগম, ভাতিজা আফজাল ও ভাতিজি হেলেনা বেগমকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ ওহাব। ঘটনাস্থলে মারা যান মালেকা ও রুস্তম। বাকিরা উন্নত চিকিৎসায় বেঁচে যান।

স্ত্রী ও ভাই হত্যায় ছাদেম আলী ৬ মে পটুয়াখালী সদর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ ও চারজন অজ্ঞাতপরিচয়কে আসামি করে মামলা করেন।
খুনের পর আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছিল। পুলিশ ছিল উদাসীন। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর মালেকের মেয়ে ডালিয়া ও তাঁর চাচাতো ভাই আফজাল পটুয়াখালী সদর থানায় যান। পুলিশকে আসামি গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানান। তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল বাশারের পাশে ছিলেন ওই থানায় কর্মরত পুলিশের সহকারী উপপরির্দশক (এএসআই) ফয়সাল (বর্তমানে পটুয়াখালী ডিবিতে কর্মরত)। ফয়সাল বলেন, আসামি ধরাতে হলে টাকা লাগে। কয়েক হাজার টাকা নিয়ে আসো। আসামি গ্রেপ্তার হয়ে যাবে। ফুয়েল ছাড়া এসব কাজ হয় না। এর প্রতিবাদ করলে ফয়সাল দুজনকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দেন।

এদিকে পুলিশের উদাসীনতায় হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় জনতা আসামি হাফেজ মুন্সি, রাবেয়া বেগম ও ওহাব মুন্সিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে তাদের মধ্যে রাবেয়া এবং ওহাব জামিনে বের হয়ে আসে। বাকি আসামিরা প্রকাশ্যে থাকলেও তাদের ধরতে পুলিশের কোনো তৎপরতা নেই। ফলে বাধ্য হয়ে মামলাটি আদালতের মাধ্যমে সিআইডিতে স্থানান্তর করেন বাদী। কিন্তু সিআইডি প্রায় এক বছরের অধিক সময়ে কোনো তৎপরতা দেখাতে পারেনি।

এদিকে আসামিরা বাদীসহ সাক্ষীকে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছে। এ নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে আলাদা মামলা করে পরিবার। নিহতের ছেলে মো. আফজাল মাঝি বলেন, মোটা অঙ্কের টাকা চান সিআইডির পরিদর্শক। আর পুলিশ আমাদের সঙ্গে শুরু থেকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছে। সিআইডির পরিদর্শক উথান চো বলেন, তাদের কাছ থেকে আমি একটি টাকা কখনো চাইনি।   আরেক অভিযুক্ত ডিবির এএসআই ফয়সাল বলেন, ওই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এমএ/ ১১:০৪/ ১৪ আগস্ট

পটুয়াখালী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে