Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (82 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-০৮-২০১৭

বিদেশে উচ্চ শিক্ষা : প্রতারিত স্বপ্ন আর কনসালটেন্সির বাস্তবতা : আর আপনার করনীয়

মাহবুবুল আজাদ


বিদেশে উচ্চ শিক্ষা : প্রতারিত স্বপ্ন আর কনসালটেন্সির বাস্তবতা : আর আপনার করনীয়

বিদেশে যাবার প্রবনতা নতুন কিছু নয়, প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ পাড়ি জমাচ্ছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, কেউ কাজের খোঁজে কেউ উচ্চ শিক্ষার জন্য। দেশের জন্য অনেক অর্জন ও রয়েছে তাদের মাঝ থেকে। তবে ইদানিং কালে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ যাবার প্রবনতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। সে অর্থে প্রতারিত হবার সংখ্যাটাও আগের চেয়ে বেড়ে গিয়েছে। আমরা এতটাই মরিয়া বিদেশ যাবার জন্য- যে সাধারন জ্ঞ্যানটুকু ও হারিয়ে ফেলি, কেন? আমরা তো লেখাপড়া জানা মানুষ, স্টুডেন্ট ভিসায় যাব পড়তে, তাহলে কেন যে যা বলে তাতেই আমরা রাজি, কোন ভাবে একবার পাড়ি জমাতে পারলেই হল। ব্যাস অন্ধের মত কাড়ি কাড়ি টাকা কারো হাতে তুলে দিতে একবার পেছন ফিরে তাকাই না, পরিবারের সবার স্বপ্ন যে লুকিয়ে আছে এর মাঝে, হয়ত একটা ভুল সব তছনছ করে দিবে। বিদেশ যাবার জন্য স্বপ্ন নয় বাস্তবে বসবাস করুন তাহলে সফলতা পাবেন। 

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন ভাই অনেক কিছুই তো বুঝিনা, কোথায় কিভাবে এপ্লাই করব। কাগজপত্র কিভাবে তৈরি করব, অনেক কঠিন মনে হয় ইত্যকার যাবতীয় বিষয়। 
আমার কথা হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে জানেন? ফ্রেন্ডশিপ করতে জানেন, কিভাবে পটাতে হয় জানেন, কিভাবে বেশি বেশি সম্পর্কে জড়ানো যায় জানেন, সব জানি জানি, কেন জানেন কারণটা খুব সোজা, এটাতে অনেক আগ্রহ আর যার সাথে বাস্তবতা জড়িয়ে আছে। তাই খুব সহজে এগুলো করতে পারেন। 
এখন কথা হচ্ছে তাহলে বিদেশে যাবার ক্ষেত্রে সব কেন স্বপ্ন থাকে এখানে কেন বাস্তবতার কমতি? যাই হোক নিজেকে বাঁচাবেন কি করে? 

একটু সচেতন হোন, একটু চোখ কান খোলা রাখুন, অনেক ভাল করবেন অনেক উপকার পাবেন, নিজেও করতে পারবেন। বর্তমানে ইন্টারনেট সবার হাতে হাতে, এবং আমরা সবাই কোন না কোন সামাজিক যোগাযোগের সাইট এ যুক্ত আছে, এটাই আপনার সবথেকে বড় প্লাটফর্ম এখানে কি নেই? যাই লিখে সার্চ দেন কিছু না কিছু তথ্য পাবেন ই। তার জন্য আলাদা কোন টাইম লাগেনা, যখন যা মন চায় করতে পারেন। তো সেটা নিজের উপকারে লাগান। 
কিছু বিষয়ের উপর আলোকপাত করা যাকঃ
১। আমি কোন দেশে কোন ইউনিভার্সিটি যাব?

 এখানে সবার আগে গুরুত্ব দিন আপনার পরিবারের আর্থিক অবস্থা। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দেশ এবং ইউনিভার্সিটি নির্বাচন করুন। 
 তারপর আপনার কোয়ালিটি অফ এডুকেশন, যে আপনার রেজাল্ট কোন দেশের জন্য উপযুক্ত। 
 যে দেশে যাবেন , বা আপনার যাবার ইচ্ছা সে সব দেশ সম্পর্কে নেটে খোঁজ নিন। ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে খোঁজ নিন, আমাদের আরেকটা উদাসীনতা হচ্ছে এজেন্সির হাতে কাগজ দিয়ে নিজে চোখ বন্ধ করে রাখা। কোন ইউনিভার্সিটি তে যাচ্ছেন তার সম্পর্কে আগে জানুন দেখুন কি কি লাগবে, এজেন্সি দেয়া তথ্য আর ইউনিভার্সিটির সাইটে দেয়া তথ্যে মিল আছে কিনা দেখে নিন। 
 হ্যা আমাদের হয়ত অনেকের সময় হয়না বা সব কিছু গুছিয়ে করার সুযোগ থাকেনা তাই আমরা বিভিন্ন এজেন্সির কাছে যাই, যান আমি না করার কেউ না বা সব এজেন্সি ই খারাপ না, অনেকেই আছে সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। তবে সম্পূর্ণ দায়িত্ব ওদের হাতে ছেড়ে দিবেন না, কিছুটা নিজের দায়িত্বের মধ্যে রাখুন তাতে আপনার ভাল ব্যতীত খারাপ হবে না।

২। আমি তো ইংরেজি ভাল পারিনাঃ 

ইংরেজির দক্ষতা, এখানে একটা জরুরী বিষয় লক্ষ্য রাখুন যেটা কে পুঁজি করে অনেক বড় একটা অর্থের ধাক্কায় পরতে হয়, কিভাবে? ইংরেজির দক্ষতা প্রমান করা আমাদের অনেকের জন্যই বিরাট সমস্যা বলে মনে হয়, এই দুর্বলতাটাই কাজে লাগায় সুযোগ সন্ধানীরা। আপনাকে না না ভাবে বোঝানো হয় অনেক কাঠখড় পোড়ানো দেখানো হয়, আর আপনিও সদা “আই ই এল টি এস” ব্যাতিত বিদেশ যেতে আগ্রহী। দয়া করে এসবে গলে যাবেন না। “আই ই এল টি এস” আহামরি কোন বিষয় না, একটু চেষ্টা করলে সবই হয়ে যায়, নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখুন আপনি পারবেন। এও ঠিক যে কিছু কিছু ইউনিভার্সিটি আছে যারা “আই ই এল টি এস” ছাড়া ও এডমিশন দেয়, তবে এখন তো অনেক প্রতিযোগিতা, ভিসা অফিসার যার “আই ই এল টি এস” আছে অবশ্যই তাকে গুরুত্ব দিবে।

৩। ওরে বাবা ভিসা ইন্টার্ভিউঃ

এখানে আমাদের ভয়ের সীমা পরিসীমা নেই, কেন ভাই? ভিসা অফিসার কি আপনাকে মারবে না কাটবে? তাহলে কিসের এত ভয়। আপনি যাবেন পড়তে তো আপনাকে জিজ্ঞেস করার আছে কি? নিজেকে শান্ত রাখুন আর দেখুন কি কি জিজ্ঞেস করতে পারেঃ
যথারীতি কমন কিছু প্রশ্ন 
1. Why This Country?
2. What is the benefit you will get after this study this country?
3. What is your program name? 
4. Is it related to your previous study?
5. Is this subject is available in your country?
6. Your University name 
7. What is your major subject
8. What is the duration of your course?
9. What will you do after completing this course
10. Your financial source
11. How much you tuition fees.
12. How you paid it.
13. How you will manage your living cost?
এ গুলো হচ্ছে কমন প্রশ্ন। এর বাইরে কিছু প্রশ্ন থাকে যা সবাই কে করা হয়না মাঝে মাঝে আটকানোর জন্য করা হয় অথবা যাচাই করে স্টুডেন্ট কতটা সিরিয়াস। 
1. যেমন ধরুন আপনার ইউনিভার্সিটির নাম কোন একজন বিখ্যাত মানুষের নামে- তাহলে তার সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করবে।
2. আপনার ইউনিভার্সিটির ইনফো। যেমন এটি কত সালে প্রতিষ্ঠিত, ছাত্র সংখ্যা কত, এই শহরের বিখ্যাত কিছু জিনিস, আবহাওয়া কেমন। আপনি কোথায় থাকবেন হোস্টেল নাকি অফ ক্যাম্পাস? 
3. যে দেশে যাবেন তার সম্পর্কে কিছু সাধারন জ্ঞ্যান যেমন এর আশে পাশে কি কি দেশ আছে? প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী, সে দেশে বিখ্যাত কি কি আছে? কালচার কেমন? আপনি কতটা নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন ইত্যাদি।

একটা জিনিস বিদেশিরা সবসময় ফলো করে তারা যদি কোথাও স্টাডি করতে যায় তাহলে সে দেশ, শহর আর ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে সম্পূর্ণ খোঁজ খবর নেয়, যা আমরা খুব কম সময়ই করে থাকি- ভাবটা এমন এজেন্সি তো সব করেই দিবে, আমি কি আর সেখানে থাকব নাকি এত জেনে কি হবে? ইত্যাদি ইত্যাদিঃ আরে ভাই ইন্টারভিউ টা তো আপনি ফেস করবেন ।

সমাধানঃ এবার আসুন কি করবেনঃ

 এখন এমন একটা সময় যে দেশেই যেতে চান না কেন সব জায়গায় বাংলাদেশি স্টুডেন্ট পাবেন, আর সবাই যুক্ত আছে ফেসবুকে র উচ্চ শিক্ষার গ্রুপে, এবং সব দেশেই বাংলাদেশি স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন এর গ্রুপ আছে অনলাইনে যারা অনেক একটিভ এবং হেল্পফুল, অনেক অনেক তথ্য পাবেন তাদের কাছ থেকে,অনেক ডিসকাশন হয় বিভিন্ন বিষয়ের উপর স্ট্যাটাস কমেন্টে, পাবেন অনেকের বাস্তব অভিজ্ঞতা যা আপনাকে সাহায্য করবে সঠিক সিন্ধান্ত নিতে। 
 এবার আসুন ভিসা ইন্টার্ভিউ এর প্রশ্নে, উপরে অনেক গুলি প্রশ্ন দেয়া হয়েছে, যে দেশে/ইউনিভার্সিটি তে যাবেন তার সম্পর্কে সব তথ্য নিন, এবং প্রশ্ন গুলোর সমাধান করুন, নিজের সাথে নিজেই আলাপ আলোচনা করুন, দেখুন অনেক কিছুই সহজ হয়ে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করুন উত্তর দিন। 
 ব্যাংক একাউন্ট খুলুন নিজের নামে, যেদিন বিদেশ যাবার কথা ভাববেন ওইদিন ই ব্যাংক একাউন্ট খুলবেন বিদেশ যান আর না যান। কিছু টাকা লেনদেন করুন সব সময়। ভিসা এপ্লাইয়ের ৩/৪ মাস আগে থেকে একটা ভাল এমাউন্ট জমা করতে থাকুন। তবে বাবা মায়ের একাউন্ট ও দেখাতে পারেন ।
 নিজে নিজে এডমিশন নেয়ার চেষ্টা করুন, দরকার হলে অনলাইন স্টুডেন্ট গ্রুপ গুলো থেকে হেল্প নিন। কোন বিষয় জানার থাকলে সরাসরি ইউনিভার্সিটি তে ইমেইল করুন, ভিসা সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট এম্বেসিতে মেইল করে জানতে পারেন। তাহলে কেন পারবেন না, যেখানে সব কিছু আপনার নাগালের মধ্যে আছে। 
 পাসপোর্ট করার সময় অবশ্যই একাডেমিক সার্টিফিকেটের সাথে মিল রাখবেন, জন্ম সনদ না ভোটার আই ডি তে ভুল থাকলে আগে তা সংশোধন করে নিন। বাবা মায়ের নামের বানান লক্ষ্য রাখবেন। একই ভাবে হুবুহু নাম ব্যবহার করবেন ব্যাংক একাউন্ট খোলার সময়। অনেকেই এগুলো নিয়ে বিপদে পড়েন। শেষ মুহূর্তে এসে সামান্য ভুল অনেক সময় অর্থ আর স্বপ্নের ব্যর্থ পরিণতি ঘটায়। 
 হুজুগে চলবেন না , অমুক দেশের ভিসা হচ্ছে তমুক দেশের ভিসা হচ্ছে ব্যাপক হারে এসবে না মেতে আগে খেয়াল করে দেখুন আপনার আশে পাশে কতজন ভিসা পেয়েছে। গ্রুপগুলো থেকে খোঁজ নিন আদত সত্য কিনা।
 মোটামুটি ভাল মানের ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবার চেষ্টা করুন। ভিসা পেতে সুবিধা পাবেন। 
 সকল একাডেমিক ডকুমেন্টস বোর্ড মিনিস্ট্রি এটাস্টেড করে রাখুন,কয়েক সেট করে রাখুন। 
 এজেন্সি কে কখনোই অরিজিনাল সার্টিফিকেট আর পাসপোর্ট দেবেন না, এরা এগুলো রাখার কোন অথরিটি রাখেনা। 
 যে সকল দেশে এম্বেসি দিল্লীতে তারা আগে থেকেই ইন্ডিয়ার ভিসা করে রাখুন। 

সূত্র: somewhereinblog

এমএ/ ০৮:৪৫/ ০৮ আগস্ট

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে