Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-০৬-২০১৭

কুষ্টিয়ায় চলছে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ

কুদরতে খোদা সবুজ


কুষ্টিয়ায় চলছে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ

কুষ্টিয়া, ০৬ আগষ্ট- কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় দেশীয় পদ্ধতিতে চলছে গরু মোটাতাজাকরণ। ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহার না করে ঘাস-খড়ের পাশাপাশি খৈল, ছোলা ও ভূষি খাইয়ে গরু মোটাতাজা করছেন খামারিরা। ঈদে দেশীয় গরুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় খামারের পাশাপাশি গরু মোটাতাজা করছেন জেলার অনেক কৃষক।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, কোরবানি উপলক্ষে কুষ্টিয়া অঞ্চলের ২০ হাজার ৬৮৬টি খামারে ৯২ হাজার ৭৪১টি গরু, ৬৩ হাজার ২৯৭টি ছাগল এবং ২ হাজার ৭৯১টি ভেড়া মোটাতাজাকরণ চলছে।

স্থানীয় খামারি ও কৃষকরা জানান, গরুকে প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা ও সুস্থ রাখতে খড়, লালি-গুড়, ভাতের মাড়, তাজা ঘাস, খৈল, গম, ছোলা, খেসারি, মাসকলাই, ভুসিসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়মে গরু মোটাতাজা করা হলে গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। আবার প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা গরুর চাহিদা থাকে বেশি এবং দামও পাওয়া যায় ভালো।

সদর উপজেলার খোদ্দ আইলচারা গ্রামের খামারি নাজমুল হোসেন জানান, আড়াই থেকে তিন মাসেই সহজ উপায়ে গরু মোটাতাজা করা সম্ভব। প্রথমেই কৃমিমুক্ত করা, এরপর নিয়মিত খাবার পদ্ধতি ও স্বাস্থ্যসম্মত ওষুধ ব্যবহার করেই স্বাস্থ্যবান পশু তৈরি করা যায়।

মিরপুর পৌর সভার বাজারপাড়া এলাকার গরু খামারি কারিবুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে আমি ৬টি গরু মোটাতাজা করেছি। খামারের এই ৬টি গরু প্রকারভেদে ৩ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছি। স্থানীয়ভাবে বিক্রি না হলে গরুগুলো সরাসরি ঢাকার বাজারে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি।’

সুলতানপুর গ্রামের ইসাহক আলী বলেন, ‘দেশি গরু মোটাতাজা করার কাজ শুরু হয় কোরবানির ঈদের পরপরই। প্রথমে রোগমুক্ত করার পর গরুকে খাওয়ানো হয় পুষ্টিকর খাবার। এছাড়াও নিয়মিত চলে যত্নআত্তি। প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা গরুর মাংসে কোনও ক্ষতিকর উপাদান না থাকায় বাজারে এর চাহিদাও থাকে বেশি। তবে প্রতি বছর ভারতীয় গরু বাজারে আসায় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন কৃষক ও খামারিরা। কয়েক বছর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে এ পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অনেকেই।’

একই গ্রামের খামারি সুমন আলী বলেন, কোরবানিতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় এখন গরুকে ভালোভাবে যত্ন করা হচ্ছে। একেকটি গরুর জন্য প্রতিদিন ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় ১শ’ টাকার বেশি।

তিনি জানান, এ বছর তার গরু প্রায় লাখ টাকার উপরে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মো. আশাদুল হক জানান, পশু মোটাতাজাকরণে কৃষক ও খামারিরা যাতে বিষাক্ত কোনও রাসায়নিক ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়াও খামারগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করছি। ওষুধের দোকানগুলোতে যাতে ক্ষতিকর কোনও ওষুধ বিক্রি না হয় সেজন্যও মনিটরিং করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পশুর রোগ প্রতিষেধক ভ্যাকসিন খামারি ও কৃষকদের মাঝে চাহিদামতো সরবরাহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কৃষক ও খামারিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

আর/১০:১৪/০৬ আগষ্ট

কুষ্টিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে