Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-০৩-২০১৭

অজ্ঞাত মেয়েটি প্রিয়া, প্রেমের কারণে খুন হন তিনি 

অজ্ঞাত মেয়েটি প্রিয়া, প্রেমের কারণে খুন হন তিনি 

পাবনা, ০৩ আগস্ট- গত মাসের ১৮ তারিখ সকালে পাবনার আটঘরিয়া থানার বাঐখোলা থেকে অষ্টাদশী অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে লাশ উদ্ধারের ১৪ দিন পর এ হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। 

বুধবার বিকেলে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শামীমা আক্তার সাংবাদিকদের সাথে এক বৈঠকে এ তথ্য জানান। ইতোমধ্যে এ ঘটনার সাথে জড়িত তিন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত অষ্টাদশীর নাম পরিচয়ও মিলেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

অজ্ঞাত অষ্টাদশীর নাম প্রিয়া ওরফে শেফালী ওরফে সিমা। তিনি বগুড়া জেলার গাবতলী থানার সুকানপুকুর গ্রামের মৃত অমূল্য এবং পালক বাবা আপেল চন্দ্র দাসের মেয়ে। তার মায়ের নাম পূর্ণিমা রাণী দাস। 

এ ঘটনায় আটককৃতরা হলেন- জেলার আটঘরিয়া উপজেলার খামার কোদালিয়া গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে মো. একরামুল হক ওরফে সাগর (২২), সদরের হেমায়েতপুর নতুনপাড়ার তাইজাল সরদারের ছেলে সেলিম সরদার (৩২) ও হেমায়েতপুর বোর্ডঘর এলাকার মিনহাজ প্রামাণিকের ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (৩০)।

পুলিশের লিখিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গত ১৮ তারিখ ভোর সোয়া ৬টায় পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানাধীন বাঐখোলা এলাকার হামিদের বাড়ির সামনে থেকে একটি অজ্ঞাত মেয়ের লাশ পাওয়া যায়। এ সময় পুলিশ ধারণা করে মেয়েটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মেয়েটির পরিচয় না পাওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে আটঘরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার ৮ থেকে ৯ দিন পর আটঘরিয়া থানা পুলিশ চাটমোহর থানা এলাকা এবং বগুড়া জেলার গাবতলী ও শেরপুর থানা এলাকা হতে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই বাছাইয়ের পর জানতে পারে মেয়েটির নাম প্রিয়া।

পরিচয় শনাক্তের পর প্রযুক্তির সহায়তায় তথ্য পাওয়া যায় প্রিয়ার সাথে আটঘরিয়া থানার খামার কোদালিয়া গ্রামের একরামুল হক সাগরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তদন্তকালে আরও জানা যায়, সাগর ২টি বিয়ে করেছে এবং মাঝে মধ্যেই দৌলদিয়া পতিতা পল্লীতে যাতায়াত করে। সেখানে যাতায়াতের সময় পাবনা থানার হেমায়েতপুরের সেলিম ও জিয়ারুলের সাথে বন্ধুত্ব হয় তার।  

এদিকে হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনার পর থেকেই আসামি সাগর বিভিন্নভাবে স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপন করার চেষ্টা করছিল। আটঘরিয়া থানা পুলিশ আসামি সাগরকে পাবনা সদরের বাইপাস টার্মিনাল থেকে গ্রেপ্তার করে। 

সাগরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, সাগর কুমিল্লায় একটি ওয়ার্কশপে কাজ করে। প্রিয়াকে বিয়ে করবে বলে গত ১৫ জুলাই সাগর কুমিল্লা থেকে পাবনায় পৌঁছায়। অপরদিকে প্রিয়া চাটমোহর থেকে পাবনা পৌঁছালে তারা দুজন মিলে ওই দিনই চট্টগ্রামগামী একটি বাসে উঠে কুমিল্লায় যায়। কিন্তু বিষয়টি আসামি সাগরের মহাজন বাবু ভালোভাবে নেয় না। তাই ১৬ তারিখ সাগর চাটমোহর ফেরত পাঠানের জন্য প্রিয়াকে কুমিল্লা থেকে গাড়িতে তুলে দেয়। মেয়েটি কিছুদূর গিয়ে আবার গাড়ি থেকে নেমে বাবুর ওয়ার্কশপে সাগরের কাছে যায়। তখন সাগর নিজে মেয়েটিকে নিয়ে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে আসে। সেখানে এসে প্রিয়াকে চাটমোহরের ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে চলে যায়। কিন্তু কৌশলে ওই ট্রেন থেকে নেমে পরদিন আবার কুমিল্লায় সাগরের কাছে যায় প্রিয়া।

তখন বিয়ে করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাগরকে চাপ দেয় প্রিয়া। এ কারণে আবারও কুমিল্লা থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে প্রিয়াকে নিয়ে আসে সাগর। কমলাপুর রেলস্টেশনে অপেক্ষা করার সময় দৌলদিয়া পতিতা পল্লীতে পরিচয় হওয়া বন্ধু সেলিম ও জিয়ারুলের সাথে বিষয়টি মোবাইল ফোনে শেয়ার করে সাগর।

তখন সেলিম ও জিয়ারুল মোবাইল ফোনে প্রিয়াকে দৌলদিয়া পতিতা পল্লীতে বিক্রি করে দিতে বলে। যেহেতু প্রিয়া সাগরকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল এবং সাগর বিবাহিত ছিল তাই সাগর তাদের কথায় রাজি হয়ে গেল। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী সাগর প্রিয়াকে নিয়ে চাটমোহর রেলস্টেশনে ফিরে গেল এবং সেলিম ও জিয়ারুলের সাথে দেখা করল। এরপর তারা তিনজন মিলে প্রিয়াকে নিয়ে করিমনযোগে পাবনার উদ্দেশে রওনা হয়।

গাড়িতে আসার সময় দৌলদিয়া পতিতা পল্লীতে প্রিয়াকে কীভাবে পৌঁছানো যায় সে বিষয়ে তাদের মধ্যে ইশারায় কথা চলতে থাকে। তবে তাদের এই ধরনের কথোপকথন মেয়েটি বুঝতে পারে এবং সাগরকে উচ্চস্বরে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে জিজ্ঞাসা করে। চিৎকার করার কারণে তারা মেয়েটিকে নিয়ে বাঐখোলা মোড়ে করিমন থেকে নেমে পড়ে এবং করিমন চালককে ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে বিদায় করে দেয়। পরে তারা তিনজন মিলে প্রিয়াকে রাস্তার পাশে নিয়ে যায় ও ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা প্রিয়ার মাথা কাদার মধ্যে চেপে ধরে। পরে তারা একটি সিএনজি যোগে টেবুনিয়া মোড়ে এসে নামে। সেলিম ও জিয়া চলে যায় তাদের বাড়ি হেমায়েতপুরের দিকে এবং সাগর যায় গাছপাড়া তার নানার বাড়িতে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শামীমা আক্তার জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

পাবনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে