Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-৩১-২০১৭

দুই বছরে বদলে গেছে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর জীবনমান

খোরশেদ আলম


দুই বছরে বদলে গেছে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর জীবনমান

পঞ্চগড়, ৩১ জুলাই- পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলের মানুষের স্বাধীন দেশের ঠিকানা পাওয়ার দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। স্বাধীন দেশের মুক্ত আবহাওয়ায় পাল্টে গেছে তাদের জীবন-মান। শিশুরা পেয়েছে পড়া-লেখার সুযোগ। সাধারণ মানুষ পেয়েছে কাজের ঠিকানা। এখন আর মিথ্যা পরিচয় দিয়ে কোনো দেশে স্বাস্থ্যসেবার জন্য ছুটতে হয় না তাদের। ৬৮ বছর ছিটমহল নামক ভূখণ্ডে অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি মিলেছিল ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে।

স্বাধীন দেশের মানচিত্রে মাত্র দু’বছরে পাল্টে গেছে পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলের ২০ হাজার ৭১ মানুষের জীবনমান।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলের আয়তন ১১ হাজার ৯৩২ দশমিক ৮০ একর। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের(এলজিইডি) মাধ্যমে এই ছিটমহলগুলোতে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের আওতায় ১০৫ দশমিক পঁচিশ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ, ১৯৩ মিটার সেতু নির্মাণ, দশ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল খনন, ১১টি বাজারে শেড স্থাপন, সাতটি মসজিদ ও ৫টি মন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে। ৮২ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্পের প্রথম ধাপের এক তৃতীয়াংশ কাজ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে।

জেলা পরিষদের মাধ্যমে ১৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ছিটমহলবাসীদের উন্নয়নে ২৫টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রকৃতিতেও পাল্টে গেছে চিরচেনা সেই দৃশ্যপট। সরু মেঠোপথ এখন পাকা সড়কে রুপান্তরিত হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। স্বাস্থ্যসেবার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক, প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আলিয়া মাদ্রাসাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।

প্রত্যাশার ঘর প্রাপ্তি দিয়ে ভরে গেছে দুই বছরের ব্যবধানেই। কাজহীন বেকার শ্রমিকেরা পেয়েছে কাজের সন্ধান। তবে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিলুপ্ত গারাতি ছিটমহলে।

ছিটমহলবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য ৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের কাজ চলছে। সরকারিভাবে পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় ৪২টি শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে শিশুরা পাঠ নিচ্ছে। এছাড়া বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠেছে প্রায় অর্ধশতাধিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানে ছিটমহলের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষা গ্রহণ করছে।

এছাড়া কৃষকদের উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিবন্ধিদের দেওয়া হচ্ছে ভাতা।  হতদরিদ্রদের দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। শুরু হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কাজ।

এছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দখলের ভিত্তিতে প্রাক-জরিপ সম্পন্ন করা হয়েছে। মাত্র দুই বছরে এতকিছু পেয়ে ভীষণ খুশি এসব এলাকার বাসিন্দারা।

বিলুপ্ত গারাতি ছিটমহলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, আগে আমাদের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করতে হতো। এখন আর মিথ্যা পরিচয় দিতে হয় না। স্কুল, কলেজ মাদ্রাসায় পড়তে পেরে আমরা খুব আনন্দ পাচ্ছি। এখন আমাদের কেউ আর বলতে পারে না যে আমরা ছিটমহলের মানুষ। এখন বাংলাদেশি নাগরিক।

বিলুপ্ত ছিটমহলের স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, একসময় সরু রাস্তায় কাদা মাটিতে চলতে হচ্ছিল। এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান হওয়ায় মূর্খতার জীবনের অবসান হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে সব সুযোগ-সুবিধা পেয়েছি। আমরা আগে কারেন্ট কি জানতাম না। এখন আমাদের ঘরে ঘরে কারেন্টের বাতি জালাইতে পারছি।

সাবেক ৭৮ নং গারাতি ছিটমহলের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক বলেন, আগে এখানে কোনো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ছিল না। সরকার এখানে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছে।

ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি পঞ্চগড় ও নীলফামারী শাখার সভাপতি ও বাংলাদেশ ইউনিট’র যুগ্ম সাধারণ সম্পদক মফিজার রহমান বলেন, বড় ছিটমহলগুলোতে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে তুলনামূলক ছোট ছিটমহলগুলোতেও যেন সমানুপাতিক হারে উন্নয়ন ঘটে সরকার যেন সেদিকে দৃষ্টি দেয়।

প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্ত করণসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা দ্রুত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, পঞ্চগড়ের সাবেক ছিটমহলগুলো বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমারেখায় অন্তভুর্ক্ত হওয়ার পরপরই কম সময়ের মধ্যে প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে গেছে।

তিনি বলেন, আমরা তাদের নাগরিকতা প্রদান করেছি। তাদের ভোটার তালিকা হয়েছে। ছিটমহলগুলোতে ডিজিটাল জরিপ কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের নিদের্শনা মোতাবেক সব ডিপার্টমেন্ট বিলুপ্ত ছিটমহলের উন্নয়নের জন্য একযোগে কাজ করছে।

পঞ্চগড়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে