Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-৩০-২০১৭

ভোলায় ভাঙনে নিঃস্ব ৬শ পরিবার, বিলীন ৯৬০ হেক্টর বন

ভোলায় ভাঙনে নিঃস্ব ৬শ পরিবার, বিলীন ৯৬০ হেক্টর বন

ভোলা, ৩০ জুলাই- ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় মেঘনা নদীবেষ্টিত একটি ইউনিয়ন হচ্ছে ঢালচর। এখানে গত তিন মাসে (মে-জুন-জুলাই) দুটি বাজার, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, বনবিভাগ অফিস ও স্কুল-মাদরাসাসহ শত শত ঘরবাড়ি, একাধিক প্রতিষ্ঠান, ৩১০ হেক্টর শ্বাসমূলীয় (ম্যানগ্রোভ) বন মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে নতুন একটি বাজার, আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আরও ৩টি গ্রাম।

গত পাঁচ বছরে নিঃস্ব হয়ে গেছে এ ইউনিয়নের ছয় শতাধিক পরিবার। বিলীন হয়েছে ৯৬০ হেক্টর বন।

ঢালচরে ভয়াবহ ভাঙনের কথা স্বীকার করে চরফ্যাশন পানি উন্নয়ন বোর্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাইছার আলম জানান, চরটি সাগরের মধ্যে হওয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ইতিবাচক হলে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢালচর ইউনিয়নের উত্তর-পশ্চিমে নির্মাণ করা গবাদি পশুর কিল্লা, আশ্রয়ণ প্রকল্প, ঢালচর মাছঘাট, কেরামতগঞ্জ, দালালপুর ও মোহাম্মদপুর হয়ে পূর্ব-দক্ষিণে ‘ফরেস্টবন’ পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার মেঘনার ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙছে।

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সূত্র জানায়, গত মে থেকে জুলাই পর্যন্ত ইউনিয়নের কেরামতগঞ্জ, দালালপুর, আদর্শপাড়া, শান্তি নগর ও মোহাম্মদপুর গ্রামের ৩৫০টি বাড়িসহ ঢালচর রেজিস্টার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি পাকা ভবন, ঢালচর লঞ্চঘাট, ঢালচর কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বন বিভাগের একাধিক ভবন মেঘনাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙন অব্যাহত থাকায় পশ্চিম ঢালচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, ৭টি আশ্রয়ণ প্রকল্প, মুজিব কিল্লাহ সরকারি, বেসরকারি বহু স্থাপনা যেকোনো সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে।

ঢালচর বন বিভাগের রেঞ্জার সোহেব খান জানান, বন বিভাগের ছয়টি কার্যালয় মেঘনায় বিলীন হয়েছে। এছাড়া গত পাঁচ বছরে বন বিভাগের ৬৫০ হেক্টর বন ও শ্বাসমূলীয় গাছ ভাঙনে বিলীন হয়েছে। চলতি বছরে ৩১০ হেক্টর বন বিলীন হয়ে গেছে।

ঢালচর ইউপির ৪-৫-৬ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য জানান, ঢালচরের মোহাম্মদপুরে তার বাড়ি ছিল। সেই বাড়ি সম্প্রতি ভেঙে যাওয়ায় পরিবারসহ তিনি এখন অন্যের বাড়িতে ভাড়া হিসেবে বসবাস করছেন। 

ভাঙনের শিকার ঢালচর লঞ্চঘাটের মনিরুল ইসলাম, আব্দুস সালাম মাঝিসহ অনেকে জানান, নদী ভাঙনে ঘর বাড়ি হারিয়ে তারা নিঃস্ব। এখন তাদের নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই দরকার।

ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার জানান, ভোলা দক্ষিণের সর্ববৃহৎ মাছঘাট ঢালচর। ভাঙনের ফলে তিনটি মাছঘাট ও জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল খাল মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। তাদের জরুরি পুনর্বাসন দরকার। বনের মধ্যে ফাঁকা জমি আছে। সরকার ইচ্ছা করলে জমি বরাদ্দ দিতে পারে। ঢালচরের ১০টি গ্রামের মধ্যে ৫টি গ্রামের অর্ধেকের বেশি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনসহ শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এমএ/ ০৬:০২/ ৩০ জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে