Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-১৭-২০১৭

অপুষ্টিতে ভুগছে ৮০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শিশু

অপুষ্টিতে ভুগছে ৮০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শিশু

নেপিদ, ১৭ জুলাই- মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রোহিঙ্গা মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় পাঁচ বছরের কম বয়সী ৮০ হাজারেরও বেশি শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। অাগামী বছরের মধ্যে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগতে থাকা ওই শিশুদের চিকিৎসার প্রয়োজন হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য বিষয়ক সংস্থা ডব্লিউএফপি।

সংস্থাটির ওই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন রাজ্যের গ্রামগুলোতে জরিপের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। সেখানে প্রায় ৭৫ হাজার সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা দেশটির রক্তাক্ত সেনা অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

নির্যাতিত রোহিঙ্গারা এখন চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা জরিপে উঠে এসেছে, মংডু এলাকার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ চরম খাদ্য সংকটের মধ্যে রয়েছেন। সেখানকার একটি জেলা ভয়ঙ্করভাবে সহিংসতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো কোনো বাড়িতে ২৪ ঘণ্টায় একবার খাবারেরও ব্যবস্থা নেই।


সামরিক বাহিনীর অভিযানে মংডুর প্রাপ্ত বয়স্ক অধিকাংশ পুরুষ সদস্যরা পালিয়ে গেছেন। এক চতুর্থাংশ নারী সদস্য তাদের পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পুরুষ সদস্যদের হারিয়ে ওই পরিবারগুলো চরম খাদ্য সংকটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে।

দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ন্যূনতম খাবারের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে না রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায়। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা বলছে, রাখাইনে ২ লাখ ২৫ হাজার মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

বিশ্ব খাদ্য সংস্থার ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আগামী ১২ মাসের মধ্যে সেখানকার ৮০ হাজার ৫০০ শিশুকে অপুষ্টিজনিত চিকিৎসা সেবা দেয়ার প্রয়োজন হবে। সংস্থাটির মুখপাত্র মিয়ানমারে যাওয়ার পর বলেছেন, তাদের স্বাস্থ্য একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে, এই পরিস্থিতির পরিণতি প্রাণঘাতী হতে পারে। এমনকি প্রতিষেধক দিয়েও তা সারানো কঠিন হয়ে পড়বে।

জরিপে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের শেষের দিকের সহিংসতার কারণে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি একেবারে ভেঙে পড়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে রাখাইনের সীমান্ত এলাকায় অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। এরপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ব্যাপক অভিযান শুরু করে। বিভিন্ন গ্রামে বিমান হামলাও চালানো হয়।

এর আগে রোহিঙ্গা নিপীড়নের জেরে দেশটির সাবেক গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী ও বর্তমান স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়ার দাবি উঠে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের খুন, নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে গত মাসে জাতিসংঘ রাখাইনে তদন্তকারী দল পাঠাতে চাইলে সু চি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সরকার তা নাকচ করে দেয়।

তবে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার কারণে ক্ষতিগস্ত হওয়ার প্রমাণ পেয়েছে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা। সহিংসতা সংঘটিত হওয়া এলাকার বাজারগুলোতে চড়া দামে খাদ্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে। সেখানে শুটকি মাছ প্রোটিনের চাহিদা পূরণের একমাত্র উপায়।

আসন্ন বর্ষায় সেখানকার পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিগগিরই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া না হলে,  রোহিঙ্গা মুসলমানরা মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ডব্লিউএফপি।


এআর/১৯:১০/১৭ জুলাই

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে