Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-১৭-২০১৭

আরও শক্তিশালী হচ্ছে সেনাবাহিনী, যোগ হবে নয়া ৯৭টি ইউনিট

আরও শক্তিশালী হচ্ছে সেনাবাহিনী, যোগ হবে নয়া ৯৭টি ইউনিট

ঢাকা, ১৭ জুলাই- সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বর্তমান বাহিনীর সঙ্গে আগামী ৪ বছরে আরও ৯৭টি ইউনিট যোগ করবে। তিনটি ক্যান্টনমেন্টের অধীনে এই ইউনিটগুলোর পত্তন করা হবে। এরই সমান্তরালে সংগঠিত করা হবে একটি পদাতিক ব্রিগেড। এছাড়া ৬৬টি পদাতিক ব্যাটালিয়নকে সজ্জিত করা হবে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র আর গোলাবারুদে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে এসব তথ্য জানান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী আনিসুল হক।  
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য রহিম উল্লাহর (ফেনী-৩) প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত এই মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার সিলেট সেনানিবাসের অধীনে ১৯টি, রামু সেনানিবাসের অধীনে ২২টি ও লেবুখালীতে শেখ হাসিনা সেনানিবাসের জন্য ৫৬টি ইউনিট গড়ে তুলবে।

একইসঙ্গে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে প্রস্তাবিত একটি ক্যান্টনমেন্টের অধীনে একটি রিভারাইন (নদী তীরবর্তী) ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নও গড়ে তোলা হবে।

এরই মধ্যে কর্তৃপক্ষ ৫৩টি ইউনিট হেডকোয়ার্টার্স গঠন করেছে যার মধ্যে আছে ২টি আর্টিলারি (গোলন্দাজ) ব্রিগেড, চারটি ইনফ্যান্ট্রি (পদাতিক) ব্রিগেড ও একটি কম্পোজিট (মিশ্র বা যৌগিক) ব্রিগেড।

সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞের বিস্তার ও উন্নতি ঘটাতে সম্প্রতি সিলেট ও কক্সবাজারে আরও দুটি পদাতিক ডিভিশন গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে সেনা কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক সময়ে যেসব অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে তার মধ্যে আছে আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি), আর্মার্ড রিকভারি ভেহিকল (এআরভি), এপিসি অ্যাম্বুলেন্স, হেলিকপ্টার, হুইল লোডার, আর্মার্ড ভেহিকল, ট্যাঙ্ক, ট্যাঙ্ক ট্রান্সপোর্টার, উইপন লোকেটিং রাডার (শত্রুর অস্ত্রের অবস্থান চিহ্নিতকারী রাডার), মেশিনগান জিপ, সেল্ফ প্রপেলড গান (এসপি গান), অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড উইপন (ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী দূরনিয়ন্ত্রণযোগ্য অস্ত্র বা এটিজিডব্লিউ), ট্যাঙ্ক ডেস্ট্রয়ার আর্মস, সাউন্ড রেঞ্জিং ইকুইপমেন্টস (শব্দ বিন্যাসকারী বা বিশ্লেষক যন্ত্রপাতি), মাল্টি লঞ্চ রকেট, ডফিন (DAUPHIN) হেলিকপ্টার, ফোর্থ জেনারেশন ট্যাঙ্ক এমবিটি-২০০০, এমআই ১৭১ মিলিটারি হেলিকপ্টার, এফএম-৯০ স্যাম (এসএএম বা ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য মিসাইল) সিস্টেম, আর্মার্ড স্পিডবোট ও হাল্কা উড়োজাহাজ। এসব সামরিক সরঞ্জামাদি ক্রয় করা হয়েছে গত ২০০৯ সাল থেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে। অর্থাৎ ওই সময়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরবর্তী সময়ে থেকে এখন পর্যন্ত একই সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদ পর্যন্ত এসব অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করা হয়।  

প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক আরও জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান জনবল এক লাখ ৬২ হাজার জন। 
সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ।

‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ বাস্তবায়নকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তিনটি ইনডিপেন্ডেন্ট কর্পসের অধীনে তার কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। এই তিনটি কর্পস হচ্ছে সেন্ট্রাল কর্পস, ইস্টার্ন কর্পস এবং ওয়েস্টার্ন কর্পস।

একজন করে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদার সিনিয়র কর্মকর্তা হবেন প্রতিটি কর্পসের প্রধান (কমান্ডার)। এসব কর্পসের কমান্ডাররা প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন- গুরুত্বপূর্ণ বা প্রধান বিষয়গুলো বাদে।

বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত হচ্ছে ৯টি এরিয়া কমান্ড এবং ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনসমূহের মাধ্যমে। এগুলো হচ্ছে- সাভার এরিয়া কমান্ড এবং ৯ম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন, কক্সবাজার এরিয়া কমান্ড এবং রামুর দশম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন, বগুড়া এরিয়া কমান্ড এবং ১১তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন, সিলেট এরিয়া কমান্ড এবং ১৭তম ইনফ্যান্ট্রি ভিভিশন, ঘাটাইল এরিয়া কমান্ড এবং ১৯তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন, চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ড এবং ২৪তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন, কুমিল্লা এরিয়া কমান্ড এবং ৩৩তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন, যশোর এরিয়া কমান্ড এবং ৫৫তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন, রংপুর এরিয়া কমান্ড এবং ৬৬তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন ও ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডক্ট্রিন কমান্ড (আর্টডক বা এআরটিডিওসি)। এছাড়াও সেনাসদরের সরাসরি কমান্ডে আছে স্বতন্ত্র ইউনিটসমূহ।

দেশজুড়ে বর্তমানে ২৮টি ক্যান্টনমেন্ট আছে যেখানে সেনাসদস্যরা কর্মরত আছেন, প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ও বসবাস করছেন। এগুলো হচ্ছে- কক্সবাজারে আলীকদম সেনানিবাস, বান্দরবান সেনানিবাস, চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ), চট্টগ্রাম সেনানিবাস, কুমিল্লা সেনানিবাস, ঢাকা সেনানিবাস, রাঙামাটির দীঘিনালা সেনানিবাস, চট্টগ্রাম সেনানিবাস, খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাস, বগুড়ার জাহাঙ্গিরাবাদ সেনানিবাস, সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাস, যশোর সেনানিবাস, রাঙামাটির কাপ্তাই সেনানিবাস, খাগড়াছড়ি সেনানিবাস, দিনাজপুরের খোলাহাটি সেনানিবাস, বগুড়ার মাঝিরা সেনানিবাস, ঢাকার মিরপুর সেনানিবাস, ময়মনসিংহ সেনানিবাস, ঢাকার পোস্তগোলা সেনানিবাস, নাটোর সেনানিবাস, গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাস, রাজশাহী সেনানিবাস, কক্সবাজারের রামু সেনানিবাস, রাঙামাটি সেনানিবাস, রংপুর সেনানিবাস, নীলফামারীতে সৈয়দপুর সেনানিবাস, ঢাকার সাভার সেনানিবাস ও ঘাটাইলের শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাস।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখার মধ্যে সেনাবাহিনী হচ্ছে বৃহত্তম। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কৌশলে প্রয়োজনীয় শক্তি ও সক্ষমতার যোগান দেওয়া এবং একইসঙ্গে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের অঞ্চলগত সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে বাংলাদেশকে তিনদিক থেকে ঘিরে থাকা প্রতিবেশী ভারতের সেনাবাহিনী রেজিমেন্টাল পদ্ধতিতে বিন্যস্ত, কিন্তু পরিচালনগত ও ভৌগলিকভাবে সাতটি কমান্ডের অধীনে বিভক্ত যার মৌলিক ফিল্ড ফর্মেশন হচ্ছে ডিভিশনভিত্তিক।

এআর/১৮:০০/১৭ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে