Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-১৬-২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কর্মপরিকল্পনা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কর্মপরিকল্পনা

ঢাকা, ১৬ জুলাই- জানুয়ারি ২০১৯ মাসের মধ্যে ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা অনুষ্ঠানের জন্য দৃঢ়তার সাথে এবং সুচিন্তিত পন্থায় এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের এই নির্বাচনটি নিয়ে জনমানুষের প্রশ্ন, প্রত্যাশা এবং আশঙ্খার মধ্যে রয়েছে- নির্বাচন মাঠে সকল রাজনৈতিক দলের সমান সুযোগ, সর্বব্যপী অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, আইনের সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন, অর্থ এবং পেশি শক্তির ব্যবহার দমন, আইনি কাঠামোর সংস্কার, নির্বাচনি সীমানা পুনঃনির্ধারণ, সঠিক ভোটার তালিকা সরবরাহ, নিরাপেক্ষ ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। নিঃসন্দেহে এ ক্ষেত্রগুলো নির্বাচনে বহুমাত্রিক প্রভাব বিস্তার করে।

কাঙ্খিত নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো হিসেব-নিকেশ শুরু করে দিয়েছে। গণমাধ্যম নানামুখি সংবাদ, প্রবন্ধ, আলোচনা-সমালোচনা প্রকাশ করছে। সুশিল সমাজ সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ অব্যহত রাখছে। সরকারের উন্নয়ন সহযোগি সম্প্রদায় আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ভোটারগণ উৎসুক হয়ে নির্বাচনের জন্যে অপেক্ষা করে আছে। সবকিছু মিলিয়ে দেশে জাতীয় নির্বাচনের যে একটি মৃদু আবহ সৃষ্টি হয়েছে তা নিশ্চত করে বলা যায়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গিকার ধারণ করে নির্বাচন কমিশন একটি কর্ম পরিকল্পনা হাতে নিয়ে ৭টি করণীয় বিষয় সনাক্ত করেছে। কর্ম প্রকল্পনা-

১। আইনি কাঠামোসমূহ পর্যালোচনা ও সংস্কার।
২। কর্ম-পরিকল্পনার উপর পরামর্শ গ্রহণ।
৩। সংসদীয় এলাকার নির্বাচনী সীমানা পুনঃনির্ধারণ।
৪। জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত করণ এবং বিতরণ।
৫। ভোটকেন্দ্র স্থাপন।
৬। নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নীরিক্ষা এবং
৭। নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সকলের সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ।

কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নঃ

নির্বাচনের মূল উপরকারভোগি সংগঠন- রাজনৈতিক দল, শুভাকাঙ্খি, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ সম্প্রদায়, গণমাধ্যম এবং সুশিল সমাজ সমীপে কর্মপরিকল্পনাটি উপস্থাপন করা হবে। তাদের সাথে মতবিনিময় করার জন্য এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নির্বচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দায়িত্ব প্রদান করা হবে। কাজগুলো সম্পন্ন করণের লক্ষ্যে একটি সময়-কঠামো নির্ধরণ করে দেয়া হয়েছে। সমগ্র কর্মযজ্ঞ তদারকি এবং তা চূড়ান্ত করণের জন্য মাননীয় কমিশনারগণের নেতৃত্বে আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এভাবে নির্বাচন সংশ্লিষ্টজনের পরামর্শ এবং সুপারিশ পুজি করে আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে বলে নির্বাচন কমিশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

১। আইনি কাঠামোসমূহ পর্যালোচনা ও সংস্কারঃ

ধাপে ধাপে নির্বাচন কমিশন একটি উপযুক্ত আইনি কাঠামো প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিশ্বাস করে নির্বাচনের জন্য এযাবৎ প্রণীত আইন, বিধি, প্রবিধি এবং নীতামালা সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনার জন্য যথেষ্ঠ। তা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক সক্ষমতাও মানসমম্মত যার সাহায্যে ইতিপূর্বে গ্রহণযোগ্য এবং প্রশংসিত নির্বাচন অনুষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বর্তমান প্রয়াসে আইনি কাঠামোর কোন পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়নি। কালের গতিপথ ধরে পরিবেশ পরিপরিস্থিতির পরিবর্তনের মুখে আইন, বিধি ইত্যাদি সংস্কারের প্রয়োজন অনুভুত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের জন্যে তৈরি করা আইন, বিধিগুলোর কোন কোনটি অংশ বিশেষ আরো উপযোগি করে তোলার প্রয়াস গ্রহণ করা হবে। মূল আইন, বিধি সঠিক রেখে ক্ষেত্রবিশেষে কতিপয় যুগোপুযোগি ধারনা প্রববর্তন করা হয়েছে। তাতে ভোট প্রক্রিয়া আরো অর্থবহ এবং সহজ হবে বলে নির্বাচন কমিশন বিশ্বাস করে।

যেমন কমিশন মনে করে জাতীয় সংসদ আসনের সীমানা পুননির্ধারনে কেবল জনসংখ্যা বিবেচনায় না রেখে ভোটার সংখ্যা বিবেচনাভুক্ত হওয়া জরুরি। আবার জনসংখ্যাধিক্যে উপর গুরুত্ব দিত গিয়ে গ্রাম অঞ্চলের আসন সংখ্যা হ্রাস পেয়ে যাচ্ছে এবং বড় বড় শহরের আসন সংখ্য বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে। তাতে গ্রাম অঞ্চল সুবিধা বঞ্চিত হয়ে পড়ছে। এমন বৈষম্যের অবসান করতে আইনগত সংস্কারের প্রয়োজন।

আবার বিদেশে বসবাসকারি বাংলাদেশী নাগরিকগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। পোষ্টাল ব্যালোট মাধ্যমে তাদের ভোট প্রদানের ব্যবস্থা থাকার পরেও তা ব্যপক এবং আস্থার অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যায়নি। কী উপায়ে তাদেরকে ভোট প্রদানের অধীনে আনা যায় তার বাস্তবসম্মত আইনি ব্যবস্থা থাকা বাঞ্চনীয়।

যে কোন সরকারি নির্বাচনে প্রাথীর নামের পার্শে প্রার্থীর বা ক্ষেত্রমতে রাজনৈতিক দলের মার্কা/প্রতিক ছাপানো থাকে। ভোটার তার পছন্দের মার্কর উপর সীল মেরে প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রদান করে থাকে। অবশ্যই দেশে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন জনগণের ভোটদানে সুবিধার জন্য এ ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে। এমন ভোটদান পদ্দতি জাতির জন্য সম্মানবহ নয় বলে নির্বাচন কমিশন মনে করে।

সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য পন্থায় পর্যায়ক্রমে ব্যালট পেপার থেকে মার্কা তুলে দিয়ে কেবল প্রার্থীর নাম ছাপিয়ে ভোট গ্রহণ প্রবর্তনে নির্বাচন কমিশন আগ্রহী। বর্তমানে শিক্ষিত লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে চলছে। কোন কোন এলাকায় শতভাগ লোক শিক্ষিত হয়েছে বলেও জানা গেছে। আবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে যারা ভোটর তারা অক্ষরজ্ঞান শুন্য নয়। জেলা পরিষদ নির্বাচেনে মার্কাবিহীন ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণ করে এমন যাত্রার শুভ সূচনা করা যেতে পারে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোন নির্বাচনে সকল প্রার্থী এবং প্রার্থীর সমর্থনকারি রাজনৈতিক দল সেচ্ছাপ্রণোতি হয়ে সম্মত থাকলে সেখারকার নির্বাচনে মার্কাবিহিন ব্যালট পেপার সরবরাহ করে ভোট গ্রহণ করা যেতে পারে। এভাবে অদূর ভবিষ্যতে সকল নির্বাচনে মার্কবিহিন ব্যালট পেপার সরবরাহ করে ভোট গ্রহণ করা যাবে। এ জাতীয় কার্যক্রমে সর্বসম্মতভাবে আইন, বিধির সংশ্লিষ্ট ধারা-উপধারায় পরিবর্তন আনয়ন করার প্রয়োজন হবে।

জোড়ায় জোড়ায় কতকগুলো বিদেশি শব্দ আষ্টেপিষ্ঠে নির্বাচেন প্রক্রিয়ার ঘারে চেপে বসে আছে। যেমন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড কাউন্সেলর, পৌরসভা মেয়র, সিটি কর্পোরেশন মেয়র ইত্যাদি ইত্যাদি। সেগুলোকে অনাদিকাল পর্যন্ত বহন করে নেয়ার ‍যুক্তি নেই বলে নির্বচন কমিশন মনে করে। সেগুলোকে সড়িয়ে পরিবেশগত যুৎসই শব্দ সংযোজন অপরিহার্য বলে বিবেচনা করা দরকার।

উদাহরণ স্বরুপ ‘ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান’ শব্দ তিনটি ‘পল্লী পরিষদ প্রধান/অধিকর্তা/আধিকারিক’ শব্দ তিনটি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে পারে। ‘ওয়ার্ড কাউন্সেলর’ শব্দ দুটি পল্লীর ক্ষেত্রে ‘গ্রাম প্রধান’ এবং পৌর এলাকার ক্ষেত্রে ‘মহল্লা প্রধান’ শব্দ দুটো দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে পারে। ‘পৌরসভা মেয়র’ শব্দ দুটি ‘নগর আধিকারিক’ শব্দ দুটো দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে পারে। ‘সিটি কর্পোরেশন মেয়র’ শব্দ তিনটি ‘মহানগর আধিকারিক’ শব্দ দুটো দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে পারে।

কতিপয় দাপ্তরিক পদবি ব্যবহার করা হয় যা অতি সহজে বাংলায় রূপান্ত করা সম্ভব। রিটার্নিং অফিসার (নির্বাচন পরিচালক), প্রিজাইডিং অফিসার (কেন্দ্র পরিচালক), পোলিং অফিসার (গোপনকক্ষ সংরক্ষক), বুথ (গোপনকক্ষ) পোলিং এজেন্ট (নির্বাচন সহায়ক), ব্যালোট বক্স (ভোট বাক্স), ব্যালোট পেপার (ভোট পত্র), মার্কা (প্রতীক) ইত্যাদি।

কয়কটি আইন বাংলায় রূপান্তর করা প্রয়োজন বলে নির্বাচন কমিশন মনে করে। তার মধ্যে Delimitation of Constituencies Ordinance, 1976 (Ordinance No. XV of 1976) এবং The Representation of the People Order 1972 (President’s Order No 155 of 1972) (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২) দুটো উল্লেখ করা যায়। তার মধ্যে ঐতিহাসিক গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ টি নির্বাচন সম্পৃক্ত সকল মানুষের জন্য একটি অপরিহার্য দলিল।

এ যাবতকালের আনয়ন করা সংশোধনি সহকারে মূল আইনটি মাতৃভাষায় রূপান্তর করা গেলে তা প্রার্থী, ভোটার এবং নির্বাচন পরিচালকদের কাছে সহেজবোধ্য হবে। নির্বাচন পরিচালনকে যুগোপযোগী এবং গ্রহণযোগ্য করার উদ্দেশ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ -এ বহুবিধ সংশোধনী আনয়ন করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর আলোকে যে সকল আইন বিধি, প্রবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে তা রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত সংগঠনগুলোকে অবহিত করা প্রয়োজন।

আইনি দুটো নির্বাচন কমকান্ডের সাতে গভরিভাবে সম্পৃক্ত যার প্রতিপালনীয় দিকগুলো সাধারণ ভোটারদের জন্যে ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অথচ ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছর এবং স্বাধীতার ৪৫ বছর পরেও আইন দুটো ইংরেজিতে লিপিবদ্ধ রয়ে গেছে। আইন দুটো বাংলা ভাষায় রূপান্তর সর্বজনবোধগম্য করে পুনঃ তৈরি করা দরকার। সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলা প্রয়োজন।

এসকল উপস্থাপনের জন্য রাজনৈতিক দল, সুশিল সমাজ, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, ভাষা বিশেষজ্ঞ বর্গের মরামর্শ অত্যাবশ্যক। যে সকল আইন, বিধিতে এসকল পরিবর্তন আনয়ন করার সপক্ষে মতামত চূড়ান্ত হবে সেগুলোর উপর সংশোধন আনয়ন করতে হবে।

সে উদ্দেশ্যে বর্তমানে বলবৎ আইন, বিধিগুলো পর্যালোচনা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাতীয় পর্যায়ে এবং স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনকে গ্রহণযোগ্যকরণ বিতর্কের উর্দ্ধে রাখার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের হাতে বহু সংখ্যক আইন, বিধি, প্রবিধি এবং সরকারি আদেশ রয়েছে। তার মধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ আইনের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনকে যুগোপযোগী এবং গ্রহণযোগ্য করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অধীনে এবং গণপ্রতিনিধত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর আলোকে যে সকল আইন, বিধি, প্রবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে তা রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত সংগঠনগুলোকে অবহিত করা প্রয়োজন। এ সকল আইন, বিধি বিধান সংকলন করে জাতীয় সংসদ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য আলাদা আলাদা ম্যানুয়েল তৈরী করা হয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনার যাবতীয় নির্দেশিকা সন্নিবেশন করা হয়েছে। সে সকল আইন, বিধি, বিধান সংশ্লিষ্ট নির্বাচন পরিচালনায় মেনে চলা হলে এবং নির্বাচনকালীণ কর্তৃপক্ষ তা প্রয়োগ করতে সামর্থ হলে ভোটারগণ স্বাচ্ছন্দে এবং নির্দ্বিধায় তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। একই সাথে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের প্রার্থী, তাদের এজেন্ট এবং তাদের সমর্থনকারী ভোটারগণ যদি সে নিয়ম-কানুন বা বিধি নিষেধ সুচারুরুপে পালন করেন তা হলে ভোট কেন্দ্রে অরাজক পরিস্থিতির উদ্ভব হবে না। এ সকল আইন এবং ভোটার ও প্রার্থীদের ভোট দানের দায়িত্ব সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করে তোলা উদ্দোগ গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রণয়ন করা আইন ও বিধি-বিধানের তালিকা-

(ক) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (২০১৩ পর্যন্ত সংশোধিত)
(খ) নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮
(গ) সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮
(ঘ) রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮ (২০১২ পর্যন্ত সংশোধিত)
(ঙ) নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জন্য সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকা
(চ) স্বতন্ত্র প্রার্থী (প্রার্থীতার পক্ষে সমর্থন যাচাই) বিধিমালা, ২০১১ (সংশোধিত)
(ছ) নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১
(জ) নির্বাচন পর্যবেক্ষেণ নীতিমালা, ২০১০ (নভেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত সংশোধিত)
(ঝ) Guidelines for Foreign Election Observer 2013
(ঞ) ভোটারদের জন্য নির্দেশিকা
(ট) নির্বাচনী এজেন্ট এবং পোলিং এজেন্টদের জন্য নির্দেশাবলী
(ঠ) ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ নির্দেশাবলী
(ড) প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ভোটার প্রতি নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারণের প্রজ্ঞাপন
(ঢ) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ২৭ এবং ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ধারা ৮ এর
সংশ্লিষ্ট অংশ
(ণ) Representation of the People (Amendment) Act, 2013
(ত) নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর সংশোধনির গেজেট
(থ) রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর সংশোধনির গেজেট
(দ) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০
(ধ) ভোটার তালিকা আইন, ২০১০
(ন) The Delimitation of Constituencies Ordinance, 1976. Ordinance No. XV of 1976

এই সকল আইন-বিধি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে নির্বাচনকালীন সময়ে অর্থ ও পেশী শক্তির ব্যবহার দমন করা সম্ভব হবে। বিগত নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় এ সকল আইনের কোথাও কোথাও পরিবর্তন এবং সংস্কারের প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের আইনের কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনয়নের প্রয়োজনে চারজন মাননীয় কমিশনারের নেতৃত্বে চারটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আইনের যে সকল বিষয় ধারা, উপধারাগুলি যুগোপযোগী প্রয়োজনীয়তা পরীক্ষা করে দেখবেন এবং তার উপর সুপারিশ প্রনয়ন করবেন।

অতপর নির্বাচন কমিশনের নিয়মিত সভায় তা উপস্থাপন করা হবে। নির্বাচন কমিশন বিষয়গুলো বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত প্রণয়ন করবে। অতপর তা রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি পর্যায়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য বৈঠকের আয়োজন করা হবে। উপর্যুক্ত সংস্কার কার্যক্রমের প্রয়োজনে সারণি ১ -এর সময় রেখা অনুসরণ করা হবে।

সারণি ১
ক্রমিক সময়সীমা কার্যক্রম বাস্তবায়ন

১.১ জুলাই ২০১৭ আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়গুলি চিহ্নিত করণ নির্বিাচন সহায়তা ও সরবরাহ অধিশাখা/আইন অধিশাখা।
১.২ জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৭ আইনি কাঠামো সংস্কারের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ নির্বাচন পরিচালনা অধিশাখা/জনসংযোগ।
১.৩ ডিসেম্বর ২০১৭ আইন সংস্কারের প্রাসঙ্গিক খসড়া প্রস্ত্তুতকরণ নির্বিাচন সহায়তা ও সরবরাহ অধিশাখা/আইন অধিশাখা।
১.৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ।

২ কর্ম-পরিকল্পনার উপর পরামর্শ গ্রহণঃ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনুচ্ছেদ ১ এ উল্লেখ করা কিছু কিছু আইন, বিধি-বিধান পরিবর্তনের প্রযোজনীয়তা অনুভূত হছেছে। এছাড়া উপকারভোগী, সুবিধাভোগী শ্রেণীর নাগরিকগণ নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের উপর পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্র সৃস্টি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে প্রেক্ষিতে জুলাই/২০১৭ থেকে পর্যায়ক্রমে সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, নির্বাচন বিষয়ে অভিজ্ঞ বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তা থেকে প্রাপ্ত পরামর্শ বা মতামত অবাধ এবং সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভুমিকা রাখতে পারবে বলে কমিশন বিশ্বাস করে।

রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশনের প্রধান সুবিধাভোগি কর্তৃপক্ষ (stakeholder)। সরকার গঠণের এবং দেশ পরিচালনের দায়িত্ব তাঁদের হাতে ন্যস্ত থাকে। তাদের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার একমাত্র সিঁড়ি নির্বাচন। সে কারণে নির্বাচন সক্রান্ত যে কোন আইন প্রণয়নের এবং তা সংস্কারের প্রয়োজনে তাঁদের পরামর্শ থাকা অপরিহার্য বলে নির্বাচন কমিশন বিশ্বাস করে।

দেশ ও জাতির কল্যাণে সুশিল সমাজ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে থাকে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের পরামর্শ এবং সুপারিশ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। ১১তম সংসদীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের গ্রহন করা কর্মপরিকল্পনায় তাদের পরামর্শ প্রত্যাশা করা হয়।

দেশের গণমাধ্যকে জাতির বিবেক হিসেবে দেখা হয়। তারা সমস্যার অতি গভীরে প্রবেশ করে সমস্যার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সুচারু সমাধানের পথ খুজে দিতে সিদ্ধ হস্ত। বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গণমাধ্যম বহুবিধ প্রতিবেদন, টকশো, খবর প্রকাশ, প্রবন্ধ প্রকাশ নির্বাচনের গুরুত্ব প্রচার করেছে। তাদের মতামত নির্বাচন কমিশন বিবেচনা করবে।

নিম্নে উল্লেখ করা ছক অনুসারে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন সংগঠনের সাথে আলাপ-আলোচনার প্রস্তুতি নিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে সারণি ২ এ বর্ণিত সময় রেখা অনুসরণ করা হবে।

সারণি- ২
ক্রমিক সময়সীমা কার্যক্রম বাস্তবায়ন

২.১ জুলাই ১৬, ২০১৭ কর্ম-পরিকল্পনা উন্মোচন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়
২.২ জুলাই ২৩, ২০১৭ সুশীল সমাজ নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা/জনসংযোগ
২.৩ আগস্ট ৩,২০১৭ প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা/জনসংযোগ
২.৪ আগস্ট ১৮,২০১৭ গণমাধ্যম নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা/জনসংযোগ
২.৫ আগস্ট ২৫-অক্টোবর ২,২০১৭ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা/জনসংযোগ
২.৬ নভেম্বর ১৮,২০১৭ সুপারিশমালার প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা/জনসংযোগ
২.৭ ডিসেম্বর ১৮,২০১৭ সুপারিশমালার চূড়ান্ত করণ নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা/জনসংযোগ

৩. সংসদীয় এলাকার নির্বাচনী সীমানা পুনঃনির্ধারণঃ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ মতে সমগ্র দেশে প্রত্যক্ষ নির্বাচন ভিত্তিক ৩০০ সংসদীয় আসনের কথা উল্লেখ রয়েছ। ফলে দেশের জনসংখ্যার ভিত্তিতে ৩০০ টি আসন নির্ধারণ করা আছে।নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ একটি চলমান কাজ। সাধারণত প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সীমানা নির্ধারনের কাজ সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। এর অনুকূলে Delimitation of Constituencies Ordinance, 1976 (Ordinance No. XV of 1976) জারী করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নথিপত্র এবং লেখ্যপ্রমাণ থেকে দেখা গেছে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচন প্রাক্কালে ২০০১ সালের আদমশুমারির জনসংখ্যার উপর ভিত্তি করে নির্বাচন সীমানার ব্যপক পরিবর্তন আনয়ন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০১১ আর একটি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০১১ সালের আদমশুমারির উপর ভিত্তি করে নির্বাচনি সীমানা পরিবর্তেনের দৃশ্যমান তেমন কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। অর্থাৎ ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রায় সকল ক্ষেত্রে ২০০৮ সালে অণুসৃত নির্বাচনি সীমানা বলবৎ রাখা হয়েছে।

বর্তমান অধ্যাদেশের ৬ ধারায় সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র প্রশাসনিক সুবিধা এবং ভৌগলিক এলাকা যতখানি সম্ভব অখন্ড রাখার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সংশোধনীতে জনসংখ্যার কথা বলা হলেও ভোটারদের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি।

এগারতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বে ২০১১ সালের আদমশুমারির প্রকাশিত প্রতিবেদন বিবেচনায় প্রয়োজন বলে নির্বাচন কমিশন মনে করে। সে লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক নির্বাচনী এলাকাসমূহের সীমানা উপরোক্ত অধ্যাদেশের ধারা ৬ এর উপ-ধারা (২) অনুসারে প্রশাসনিক সুবিধা, আঞ্চলিক অখন্ডতা এবং জনসংখ্যার বিভাজনকে যতদুর সম্ভব বিবেচনায় রাখিয়া প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকা সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে ধারা ৬ এর উপ-ধারা (৩) অনুায়ী নির্বাচন কমিশন একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরির মাধ্যমে সীমানা নির্ধারনের কাজ শুরু করতে চাচ্ছে।

সময়ের পরিবর্তনে এবং জনমানুষের শহরমুখী প্রবণতার কারণে বড় বড় শহরগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যার আধিক্য অথবা ঘনত্ব বিবেচনা করা হলে শহুরে এলাকায় সংসদ সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। পল্লী অঞ্চলে আসন সংখ্যা কমে যাবে। ফলে শহর এবং পল্লী অঞ্চলের সংসদীয় আসনের বৈষম্য সৃষ্টির সুযোগ হবে। সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র জনসংখ্যার উপর ভিত্তি না করে জনসংখ্য ও ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা যেতে পারে। কেননা ভোটার তালিকা প্রতিবছর হালনাগাদ হয়। জনসংখ্য ও ভোটার সংখ্যা উভয়কে প্রধান্য দিয়ে বড় বড় শহরের আসনসংখ্যা সীমিত করে দিয়ে আয়তন, ভৌগলিক অখন্ডতা ও উপজেলা ঠিক রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনি সীমানা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি ইংরেজীতে লিপিবদ্ধ রয়ে গেছে। সর্বস্তরে বোধগম্য করে তোলার প্রয়োজনে অধ্যাদেশটি ভাষান্তর করে বাংলায় লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অতঃপর সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি সময়পুযোগি আইন প্রণয়ন করার উদ্দোগ গ্রহণ করা হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনি সীমানা নির্ধারণ বিষয়ক প্রস্তাব নিয়ে সারিণি ২ এর সময় রখায় ভুক্তোভোগি, উপরকারভোগি সহ সংশ্লষ্টজনের সাথে আলোচনার উপাক্ষণ রাখা হয়েছে। তাদের সুপারিশ প্রধান্য দিয়ে নির্বাচনি এলাকা পুনঃনির্ধারেণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনি সীমানা নির্ধারণ সম্পন্ন করার জন্য সারনি ৩ এর সময় রেখা অনুসরণ করা হবে।

সারণি- ৩
ক্রমিক সময়সীমা কার্যক্রম বাস্তবায়ন

৩.১ আগস্ট, ২০১৭ নির্বাচনী এলাকা পুনঃ নির্ধারণের জন্য পূর্বের নীতিমালা পর্যালোচনা করে একটি নতুন নীতিমালা প্রস্তুত করণ নির্বাচন ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-১ ও আইসিটি অনুবিভাগ
৩.২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ নির্বাচনী এলাকা পুনঃনির্ধারণ কল্পে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমস (GIS) সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনাপূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
৩.৩ অক্টোবর, ২০১৭ নীতিমালার আলোকে বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তায় ৩০০টি আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে খসড়া তালিকা প্রণয়ন
৩.৪ নভেম্বর , ২০১৮ ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার খসড়া তালিকা প্রকাশ করে দাবি/আপত্তি/সুপারিশ আহবান
ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ থেকে সারণি ১ (১.৪) এর সিদ্ধান্ত আমলে নেয়া, দাবি/আপত্তির বিষয়ে অঞ্চলভিত্তিক শুনানি শেষে নিষ্পত্তিকরণ
৩.৫ এপ্রিল, ২০১৮ ৩০০ টি আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ

৪ জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত করণ এবং বিতরণ

দেশ মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ১৭ লক্ষ। কোন নাগরিক প্রতি ডিসেম্বর মাসে ১৮ বছর বয়সে পদার্পন করলে তিনি নতুন ভোটার হবার যোগ্যতা অর্জন করেন। তাতে মোট ভোটারের প্রায় ২.৫% নতুন মুখ ভোটার তালিকায় অন্তরভুক্তির সুযোগ পায়। আবার প্রতি বছর কোন না কোন ভোটার মৃত্যু বরণ করেন। তাদের নাম ভোটর তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। তা ছাড়া প্রতি বছর অনেক ভোটারকে স্থান পরিত্যাগ করতে হয়। তাদের নাম পুরতন তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নতুন তালিকায় অন্তরভুক্ত করতে হয়। এ সকল প্রক্রিয়া বছরে গড়ে মোট ভোটারের ৪% নাম পরিবর্তন করতে হয়।

নিরলস এবং অব্যহত প্রচেষ্টার ফলে নির্বাচন কমিশন ব্যপক ভোটারদের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে। এখনো সকল নতুন ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহকৃত পেপার লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্রের স্থলে প্রতিস্থাপিত হবে। তবে নানা জটিলতার কারণে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ তরান্বিত করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিবছর জুলাই ২৫ তারিখ থেকে নতুন করে ভোটারযোগ্য নাগরিকগণকে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ বছররে জুলাই ২৫ তারিখ জামালপুর জেলা শহরে নতুন ভোটারগণের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হবে। একই সাথে সেমগ্র দেশে হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়ে যাবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত করণ এবং বিতরণ তদারকি করার জন্য জাতীয় পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যন্ত তত্বাবধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সাথে এক বছরের মধ্যে যে সকল ভোটার মৃত্যু বরণ করেছে তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কর্তন করার উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই কার্যক্রম পরিচালনায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ –এর অনুচ্ছেদ ২৭ এবং ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ অনুসরণ করা হয়। ভোটর তালিকা হালনাগাদ করার জেন্য সারণি ৪ এ একটি সময় রেখা উপস্থাপন করা হয়েছে।

সারণি ৪
ক্রমিক সময়সীমা কার্যক্রম বাস্তবায়ন

৪.১ জুলাই ২৫, ২০১৭ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ এর তথ্য সংগ্রহকরণ নির্বাচন সহায়তা ও সরবরাহ অধিশাখা
৪.২ ডিসেম্বর, ২০১৭ সংগৃহীত তথ্য ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্তকরণ
৪.৩ ০২ জানয়ারি ২০১৮ খসড়া ভোটার তালিকা প্রষ্তুত ও প্রকাশ
৪.৪ ২-১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ খসড়া ভোটার তালিকার উপর সংশোধনকারি কর্তৃপক্ষের দাবি- আপত্তি গ্রহণ
৪.৫ ১৬-২০ জানুয়ারি, ২০১৮ দাবি- আপত্তি নিস্পত্তিকরণ
৪.৬ ২১-৩০ জানুয়ারি ২০১৮ চূড়ান্ত তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র ডাটা বেইজে এ অন্তর্ভুক্তকরণ নির্বাচন সহায়তা ও সরবরাহ অধিশাখা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র অণুবিভাগ
৪.৭ ৩১ জানুয়ারি, ২০১৮ হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ
৪.৮ জুন, ২০১৮ থেকে ৩০০ টি নির্বাচনী এলাকার জন্য ভোটার তালিকা মুদ্রণ, ছবিসহ ও ছবিছাড়া ভোটার তালিকার সিডি প্রণয়ন ও বিতরণ

৫ ভোটকেন্দ্র স্থাপন

নির্বাচনকালীন সময়ে ভোটকেন্দ্র স্থাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫ বলে সংসদ সদস্যদের আসন সংখ্যা ৩০০। বর্তমান আইন অনুসারে একই দিন এবং একই সময়সীমার মধ্যেই ৩০০ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩০০ টি আসনের জন্য দেশব্যাপী প্রায় ৪০,০০০ ভোট কেন্দ্র স্থাপন করার প্রয়োজন হয়।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনের সময়সূচির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন ভোট কেন্দ্র স্থাপন করে থাকে এবং তার চুড়ান্ত তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করে থাকে। সাধারণত আগেকার নির্বাচন গুলোতে যে সকল কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে সে গুলোকে অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে নদী ভাঙ্গনজনিত অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে ভোট কেন্দ্র বিলুপ্ত হয়ে গেলে তৎপরিবর্তে নতুন ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।

ভোট কেন্দ্র স্থাপনকালে নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ জরীপ করে দেখেন যে নির্বাচন কেন্দ্রগুলো ভোটারদের ভোট প্রদানের উপযুক্ত কী না। আবার নির্বচন তফসীল ঘোষণার যদি অভিযোগ থাকে যে কোন কেন্দ্র প্রার্থীর বাড়ির কাছে অথবা প্রভাব বলয়ের মধ্যে হয়ে পড়েছে তখন রিটানিং অফিসার তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করলে নির্বাচন কমিশন তা পরিবর্তন করে দিতে পারে। তা ছাড়া কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার বৃদ্ধি পেলে নতুন ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়ে থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী, আধা সরকারী, স্বায়ত্বশাষিত প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার, ঘুর্নীঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, সরকারী অফিস, ক্লাব ইত্যাদি ভোটকেন্দ্রের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়।
ভোট কেন্দ্র স্থাপনের জন্য একটি সময় রেখা সারণি ৫ এ উপস্থাপন করা হলো।

সারণি ৫
ক্রমিক সময়সীমা কার্যক্রম বাস্তবায়ন

৫.১ জুন, ২০১৮ সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করে ন্যূনতম সুবিধাদি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান নির্বাচন সহায়তা ও সরবরাহ অধিশাখা
৫.২ জুলাই, ২০১৮ ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক খসড়া তালিকা প্রকাশ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নিকট প্রেরণ
৫.৩ আগস্ট, ২০১৮ খসড়া কেন্দ্র তালিকার উপর দাবি/আপত্তি গ্রহণ ও নিস্পত্তিকরণ
৫.৪ ভোট গ্রহণের ৩৫ দিন পূর্বে কমিশনের অনুমোদন গ্রহনপূর্বক গেজেটে প্রকাশ
৫.৫ তফসিল ঘোষণার পর গেজেটে প্রকাশিত ভোটকেন্দ্রের তালিকা সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিকট প্রেরণ
৬ নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নীরিক্ষা

নির্বাচনের কমিশনের কাছে এ যাবৎ মোট ৪০টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর তালিকা-

১। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি - এলডিপি
২। জাতীয় পার্টি - জেপি
৩। বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল)
৪। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ
৫। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
৬। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
৭। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বি.এন.পি
৮। গণতন্ত্রী পার্টি
৯। বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
১০। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি
১১। বিকল্পধারা বাংলাদেশ
১২। জাতীয় পার্টি
১৩। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক রিট পিটিশন নং ৬৩০/২০০৯ এর উপর
০১ আগস্ট ২০১৩ তারিখে প্রদত্ত রায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হয়েছে)
১৪। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি
১৫। জাকের পার্টি
১৬। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ
১৭। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি
১৮। বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন
১৯। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন
২০। বাংলাদেশ মুসলিম লীগ
২১। ন্যাশনাল পিপলস্‌ পার্টি (এনপিপি)
২২। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ
২৩। গণফোরাম
২৪। গণফ্রন্ট
২৫। প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি)
২৬। বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ
২৭। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি
২৮। ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন
২৯। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ
৩০। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
৩১। ইসলামী ঐক্যজোট
৩২। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
৩৩। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
৩৪। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট
৩৫। জাতীয় গণতান্ত্রিক পাটি-জাগপা
৩৬। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি
৩৭। খেলাফত মজলিস
৩৮। বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল
৩৯। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)
৪০। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ

এর মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা ২০০৮ (২০১২ পর্যন্ত সংশোধিত) আলোকে তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। একই সাথে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো যে বিধি বলে নিবন্ধন অর্জন করেছে তা সঠিকভাবে প্রতিপালন হয় কী না তা পর্যালোচনা করা হবে।

সারনি ৬ এর সময় রেখা অনুসারে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রদান করা হবে এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর হালনাগাদ অবস্থা পরীবেক্ষণ করা হবে।

সারনি ৬
ক্রমিক সময়সীমা কার্যক্রম বাস্তবায়ন

৬.১ অক্টোবর ২০১৭ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন শর্তাদি প্রতিপালন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ নির্বাচন সহায়তা ও সরবরাহ অধিশাখা
৬.২ জানুয়ারি, ২০১৮ প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনা করে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বহাল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
৬.৩ অক্টোবর, ২০১৭ নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহবান
জানুয়ারি, ২০১৮ নতুন রাজনৈতিক দলের আপত্তি আহবান এবং আপত্তি নিষ্পত্তিকরণ
৬.৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ নতুন রাজনৈতিক দলের জন্য প্রাপ্ত

এআর/২২:৪৫/১৬ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে