Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-১৬-২০১৭

মেয়র আনিস টেন পারসেন্ট নন, ব্যথিত হলেও আস্থা রাখতেই পারি

পীর হাবিবুর রহমান


মেয়র আনিস টেন পারসেন্ট নন, ব্যথিত হলেও আস্থা রাখতেই পারি

ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের প্রতি আমরা আস্থা হারাতে পারি না, আমরা আস্থা হারাইনি। আনিসুল হককে জিততেই হবে। হতাশ হলে হবে না, হারলে চলবে না। মেয়র আনিস জয়ী হলে, নগরবাসী জয়ী হয়। নগরবাসী আনিসের হাত ধরে সেই বিজয়ের অর্জন দেখতে চায়। একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, সবুজ নগরী তার অঙ্গীকার। সেই নগরী গড়তে তিনিই পারবেন। তিনি ব্যর্থ হলে, তিনি হতাশ হলে নগরবাসী ব্যর্থ হবে, নাগরিকেরা বিষাদগ্রস্ত হবে। মেয়র আনিসুল হককে নিয়ে আমার একান্ত অনুভূতি এমনই। 

সম্প্রতি এডিস মশাবাহিত ভাইরাস জ্বর চিকুনগুনিয়ায় ঘরে ঘরে মানুষ শয্যা নিচ্ছেন, আতঙ্কগ্রস্ত হচ্ছেন। নগরপিতা হিসাবে, নির্বাচিত নেতা হিসাবে, একজন দক্ষ অভিভাবক হিসাবে নোংরা, ময়লা, অপরিচ্ছন্ন নগরীতে ব্যাপক প্রজনন ক্ষমতা নিয়ে যে এডিস মশা বিস্তার লাভ করেছে, তার থেকে নগরবাসী পরিত্রাণ পেতে মেয়রের দিকে প্রত্যাশার দু’হাত বাড়িয়েছেন। এই দু’হাত নগরবাসীর অধিকারের হাত। এই দু’হাত যার কাছে চাইতে পারে, তার কাছে প্রাপ্তির জন্য ভালোবাসার হাত। এই হাত শূণ্য ফিরিয়ে দিতে তিনি পারেন না। 

এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আনিসুল হক মশার বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত কর্মকাণ্ডের চিত্রপট তুলে ধরতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশা মারতে পারি না, মশারি লাগিয়ে দিয়ে আসতে পারি না।’ ভাইরালের মতো আনিসুল হকের এই বক্তব্য ছড়িয়ে পরার সঙ্গে সঙ্গে তার একজন ভক্ত হিসাবে আমার মনে হয়েছে এটি নগরবাসীকে ব্যথিত করেছে, বিক্ষুদ্ধ করেছে এমনকি হতাশ করেছে। তার মতো বিবেচক মানুষের কাছে এমনটি কেউ আশা করতে পারেন না। 

কিন্তু আমার এটিও মনে হয়েছে, অনেক সময় মানুষকে যদি প্রশ্নবানে জর্জরিত করা হয়, তার তিনি কিছু করতে না পারার বেদনায় আহত হৃদয় নিয়ে কিছুটা হলেও হতাশাগ্রস্ত হন তার প্রিয়জনদের জন্য। তখন বুকের ভিতর থেকে যে আর্তনাদ বেরিয়ে আসে সেটি প্রিয়জনদের ব্যথিত করে। নগরবাসী যেমন আনিসুল হকের কাছে প্রিয়জন তেমনি নিজেও নগরবাসীর শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসার মঞ্চে অভিষিক্ত। 

আনিসুল হক একটি স্বচ্ছ, ক্লিন ইমেজই নয়, একজন সৃজনশীল মানুষ হিসাবেই নয়, একজন দক্ষ, সৎ, পরিশ্রমী, কমিটেড এবং প্রথাভাঙার নেতৃত্বের ভাবমূর্তি নিয়ে মানুষের সামনে নিজেকে তৈরি করে আজকের জায়গায় এসেছেন। তিনি রাজনৈতিক সচেতন ব্যবসায়ী হলেও রাজনীতি করে আসেননি। তার যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তিনি নির্বাচিত হয়ে দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য দেখাননি। হৃদয়নিঃসৃত বিবেককে জাগ্রত রেখে তার অঙ্গিকার ও নগরবাসীর কাছে কমিটেড হয়ে কাজ করছেন। 

যুগের পর যুগ সমস্যা কবলিত ঢাকা নগরীতে অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যে জঞ্জাল ও সমস্যার পাহাড় তৈরি হয়েছে সেখানে প্রবল আত্নবিশ্বাস নিয়ে তিনি পূর্বসূরীদের গদবাঁধা পথ অনুসরণ করেননি। তিনি টেন পারসেন্ট হওয়া দূরে থাক সিটি কর্পোরেশন ঘিরে কোনো ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট তৈরি করেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য রেখেছেন সর্বাত্নক সহযোগিতাও পেয়ে আসছেন। নরমে-গরমে পথ চলতে গিয়ে প্রতিরোধের মুখে পরেছেন। কিন্তু পথ হারাননি, বিচলিত হননি; লক্ষ্য অর্জনে অবিচল থেকেছেন। একজন আনিসুল হক তার মেধা ও নেতৃত্ব দিয়ে নগরবাসীর সামনে একটি আধুনিক নগরীর পরিকল্পনা এবং শ্রমের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। 

তেজগাঁয়ে যে মাফিয়া চক্র অবৈধ যে ট্রাকস্ট্যান্ড যুগের পর যুগ দখলারিত্ব দিয়েছিল, সেটি ঘুরিয়ে দিয়েছেন। কোরবানীর হাট বসাতে পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ব্যবস্থা নিয়েছেন। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে তিনি একেকটি সড়ক, গলিপথকে অনেক বড়সড় ও দৃষ্টিনন্দন করেছেন। ভাঙাচোরা ফুটপাতগুলোকে দৃষ্টিনন্দনভাবে নির্মাণ করেছেন। পরিবেশ দূষণ থেকে নগরবাসীকে এক নতুন যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতার ৪৬ বছর ধরে দখল হয়ে যাওয়া, বন্ধ হয়ে যাওয়া, ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলোকে উদ্ধারের ডাক দিলেও তিনি উপলব্ধি করছেন বিদ্যমান বাস্তবতায় এটি কত কঠিন কাজ! বনানী কবরস্থান এলাকায় গেলে রাজউক যেখানে ব্যর্থ তিনি সেখানে কতটা সফল তার নজির দেখে অভিভূত হতে হয়। বৃষ্টি নামলেেই নগরবাসীর মন রোমান্টিক হয়ে উঠে। হৃদয়ে কবিরা আসন পাতেন। কিন্তু বের হলেই জলাবদ্ধ নগরীকে নোংরা পানিতে ভাসা নদী মনে হয়। সৃষ্ট হয় চরম জনদুর্ভোগ। এই জলাবদ্ধতা, এই বিপর্যয় শুধু ঢাকা নয় চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ সকল নগরীতেই একই চিত্র দেখা যায়। এই জলাবদ্ধতা থেকে, যানজটের কবল থেকে এককভাবে রাতদিন পরিশ্রম করেও নগরবাসীকে মুক্তি দেয়া একজন আনিসুল হকের পক্ষে সম্ভব নয়। এরজন্য সরকার, সকল সেবা সংস্থা এবং নগরবাসীকে জোটবদ্ধ হয়ে অর্জন করার বিষয়। 

ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র, নন্দিত জননেতা মরহুম মোহাম্মদ হানিফও লক্ষাধিক ভোটে অভিষিক্ত হয়ে এসে মশার কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পতিত হয়েছিলেন। ডেঙ্গু একসময় নগরবাসীর আতঙ্ক ছিল। দেশবরেণ্য মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ আর মানুষের শক্তি সেটিকে রুখে দিয়েছে। চিকুনগুনিয়াকেও আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে রুখতে হবে। আমি আনিসুল হকের প্রতি মুগ্ধ যে তিনি যে তার মন্তব্যে নগরবাসীকে ব্যথিত ও ক্ষুদ্ধ করেছে সেটি উপলব্ধি করার জন্য এবং ২৪ ঘন্টা পার হতে না হতেই তিনি ‍দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, একজন সংবাদকর্মী প্রশ্ন করেছিলেন মশারি ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টিতে তারা কি করছেন? এর জবাব দিতে গিয়ে মশারিশোভিত পোস্টার দেখিয়ে কথা বলেছেন, সেখানে তার বক্তব্য ভুলভাবে এসেছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এর বিরুদ্ধে তার লড়াইকে আরো গতিময় করবেন। নগরবাসীও সচেতন হবার ব্যাপার রয়েছে। আকাশছোঁয়া এ্যাপর্টমেন্ট নির্ভর এই নগরীতে শিশুরা খেলার মাঠ পায় না, আমরা আকাশ ও চাঁদ দেখতে পাই না। কিন্তু আমাদের ছোট্ট এ্যাপার্টমেন্টগুলোতে, বাড়ির ছাদে, টবের মধ্যে ফুলের বৃক্ষ, সবিজ, ক্যাকটাসের কৃত্রিম বাগান করে মনের সুখ আহরণ করি, চিত্ত প্রফুল্ল করি। কিন্তু ওখানের জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয়া এডিস মশার কারণে অতীতে আমাদের ডেঙ্গু হয়েছে, এখন হচ্ছে চিকুনগুনিয়া। এই ভাইরাস জ্বরে সারাগায়ে ব্যাথা শরীর শেষ করে দিচ্ছে। 

আমরা বিশ্বাস করি আনিসুল হক যেভাবে সততা, দক্ষতা, মেধা, সৃজনশীলতা ও সাহসের সঙ্গে ঢাকা উত্তরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেখানে অবশ্যই বিজয়ী হবে। অন্যদের জন্যও তার পথ অনুসরণযোগ্য হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ, লোভ যেখানে নেই সেখানে অবশ্যই তিনি পারবেন, তাকে পারতেই হবে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

মুক্তমঞ্চ

  •  1 2 > 
Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে