Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-০৮-২০১৭

ফেসবুকের মাধ্যমে নিখোঁজ মায়ের সন্ধান মিলল

ফেসবুকের মাধ্যমে নিখোঁজ মায়ের সন্ধান মিলল

হবিগঞ্জ, ০৮ জুলাই- চুয়াডাঙ্গা থেকে নিখোঁজের ১৪ বছর পর ফেসবুকের মাধ্যমে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে মাকে খুঁজে পেয়েছেন সন্তান হাফিজুর রহমান।

আজ শুক্রবার বিকেলে চুনারুঘাট উপজেলার গোড়ামী গ্রামে এসে মায়ের দেখা পান হাফিজুর রহমান। মা বাকপ্রতিবন্ধী রহিমা খাতুনকে (৫৫) পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে ছিল হাফিজুরের বোন-জামাই আব্দুল জলিল। তিনিও আনন্দে কেঁদে ফেলেন। রহিমা খাতুন চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের শৈলবাড়ী গ্রামের মৃত ভরস মন্ডলের স্ত্রী।

হাফিজুর জানান, তার মা রহিমা খাতুন স্বজনদের সঙ্গে অভিমান করে ২০০৩ সালে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। তারা অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান পাননি। তবে ভ্যান চালক হাফিজুর রহমান মনে মনে তার মাকে খুঁজে বেড়াতেন ঠিকই।

গত বৃহস্পতিবার ফেসবুকের পেইজে নিখোঁজ এক নারীর ছবি দেখতে পান  হাফিজুরের ভাগ্নে। এ বিষয়টি মামা হাফিজুরকে জানায় সে। তারা ফেসবুকে লেখা দেখতে পান- বাকপ্রতিবন্ধী এক নারী হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের গোড়ামী গ্রামের দুলাল তরফদারের বাড়িতে রয়েছেন। এই ছবি দেখে হাফিজুর তার মাকে শনাক্ত করেন। পরে ফেসবুক থেকে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে হাফিজুর তার বোন-জামাই আব্দুল জলিলকে সঙ্গে নিয়ে গোড়ামী গ্রামে আসেন। 

সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিষয়টি জানার পর দুলাল তরফদারের বাড়িতে লোকজনের ঢল নামে। মাকে পেয়ে হাফিজুর মহাখুশি। সবার উপস্থিতিতে হাফিজুর তার মাকে শনাক্ত করেন। মাও সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।

তাৎক্ষণিকভাবে এলাকার মেম্বার মো. আব্দুল মান্নান, মুরুব্বি হাজী হাছন আলী, সমাজসেবক আব্দুল মালেক, সায়েম তালুকদারসহ এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে লিখিত দিয়ে রহিমা খাতুনকে তার সন্তান হাফিজুর রহমান নিয়ে যান।

দুলাল তরফদার জানান, ২০০৩ সালে তার আত্মীয় একই উপজেলার মজলিশপুরের বাসিন্দা আব্দুল মতিন মিয়া রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। শাকির মোহাম্মদ বাজারের কাছে তিনি এক নারীকে পেয়ে বাড়ি নিয়ে যান। তিনি এ নারীর স্বজনদের সন্ধান পেতে চেষ্টা করেন। কিন্তু সে সময়ে তার কোনো স্বজনকে পাওয়া যায়নি। তাই মতিন মিয়া নিজ বাড়িতে এ নারীকে প্রায় ৮ বছর রাখেন। পরে এ নারীকে দুলাল নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছেন ৬ বছর হলো। এরমধ্যে পত্রিকায় এ নারীর স্বজনদের সন্ধান পেতে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন।

তিনি জানান, গত ৫ জুলাই রহিমার ছবিসহ লেখা গোড়ামী তালুকদার বাড়ির শাহনেওয়াজ তালুকদার ফেসবুকে পোস্ট করেন। এ ছবিটি শেয়ার করেন একই বাড়ির রায়হান তালুকদার। তারপর এই ছবি শেয়ার করেন শায়েস্তাগঞ্জের শফিউল রাহাদ। পরে তিনি এ ছবিটি খুলনা ক্রিকেট পেইজে পোস্ট করেন। সেই পেইজে হাফিজুরের এক ভাগ্নে ছবিটি দেখতে পান। ছবিটি দেখে হাফিজুর ১৪ বছর পর তার নিখোঁজ মায়ের সন্ধান পেলেন।

হবিগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে