Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-০৫-২০১৭

শিল্পায়নের পথে হবিগঞ্জ জেলা

পাবেল খান চৌধুরী


শিল্পায়নের পথে হবিগঞ্জ জেলা

হবিগঞ্জ, ০৪ জুলাই- বৃহত্তর সিলেটের প্রবেশদ্বার হাওর-বাঁওড়-পাহাড়ে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হবিগঞ্জ। জমি ও শ্রম সস্তার ফলে শিল্প মালিকদের দৃষ্টি এখন হবিগঞ্জে। সৌন্দর্যের এ লীলাভূমিতে ঘটেছে শিল্প বিপ্লব। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক শিল্প কারখানা। এসব শিল্প কারখানা স্থাপনের ফলে কর্মস্থানের মাধ্যমে সচ্ছল হয়ে উঠছেন কয়েক লাখ মানুষ। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই হবিগঞ্জে শিল্প বিপ্লব ঘটেছে. যা এক বিস্ময়কর বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার পেছনে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির, অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী, এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু ও প্রশাসনসহ অন্য জনপ্রতিনিধিরা।

তবে শিল্পায়নের পথে বাদ সেধেছে মধ্যস্বত্বভোগী দালালরা। জমি ক্রয় থেকে শুরু করে শ্রমিক নিয়োগ পর্যন্ত তাদের নিয়ন্ত্রণ। আর দালালদের কারণে জমি ক্রয় করতে গিয়ে নানাবিধ ভোগান্তিতে পড়ছেন অনেক প্রতিষ্ঠান মালিক। দালালদের হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক মালিক অন্য এলাকা প্রতিষ্ঠান গড়তে চলে যাচ্ছেন। আবার দালালরা অনেক জমির মালিকের সঙ্গে প্রতারণা করে নিজেরা বনে যাচ্ছে লাখোপতি। তাদের মধ্যে অনেকে বনে গেছে শিল্পপতি।

জানা যায়, বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের ফলে বদলে যাচ্ছে হবিগঞ্জ। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর থেকে মাধবপুর উপজেলা পর্যন্ত ৮৫ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশের ধানের জমিগুলোতে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠছে বিশাল শিল্প কারখানা। পাশাপাশি ৫১১ একর জমিতে চুনারুঘাট উপজেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ- এই তিন খাত শিল্প কারখানা গড়ার উপযোগীসহ শিল্পবান্ধব পরিবেশের কারণে এ জেলাকে বেছে নিয়েছে বহুজাতিক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। আর এ তিনের পাশাপাশি জেলায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নূরপুর, শায়েস্তাগঞ্জ, মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা, নয়াপাড়া, জগদীশপুর, নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার মহাসড়ক সংলগ্ন ইউনিয়নগুলোতে গ্যাস সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগিতামূলকভাবে গড়ে উঠছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির কারখানা। আর এর সঙ্গে সুযোগ তৈরি হচ্ছে লাখো বেকারের কর্মসংস্থান। ইতোমধ্যে স্কয়ার, প্রাণ, বাদশা, আরএকে, স্টার সিরামিক্স ও ফরসেলিন, গ্রেটওয়াল-চারু সিরামিক্স, বেঙ্গল গ্রুপ, আরএফএল, যমুনা গ্রুপ, রূপায়ণ, এজি সিরামিক্স, চায়না সিরামিক্সসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে উৎপাদন শুরু করেছে।

সম্প্রতি মাধবপুর উপজেলার কররা গ্রামে ২৬ বিঘা জমির ওপর প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয়েছে শতভাগ রফতানিমুখী ও স্বয়ংক্রিয় এসএম স্পিনিং মিল। এ মিলে প্রতিদিন উৎপাদন হবে ৩২ থেকে ৩৫ মেট্রিকটন সুতা। তার মধ্যে ৩০ হাজার স্পিন্ডেল কটন ও ২৪ হাজার স্পিন্ডেল সিনথেটিক সুতা উৎপাদন হবে। বছরে শুধু এই মিল থেকে ৪৫-৫০ মিলিয়ন ডলারের সুতা বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। আর মিলে কর্মসংস্থান হবে প্রায় ৩ হাজারেরও অধিক লোকের। তার আগে আশির দশকে মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়ায় সায়হাম টেক্সটাইলের মাধ্যমে শিল্পায়নের যাত্রা শুরু হয়।

হবিগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোতাচ্ছিরুল ইসলাম বলেন, এখানে নতুন নতুন শিল্পায়নের সব উপকরণ থাকায় ইতোমধ্যেই হবিগঞ্জ শিল্পনগরীতে পরিণত হয়েছে। আমরা হবিগঞ্জ চেম্বারের পক্ষ থেকে শিল্প মালিকদের কারখানা গড়ে তুলতে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। পাশাপাশি হবিগঞ্জ কারখানা স্থাপনের জন্য অন্য শিল্প মালিকদের আহ্বান জানাচ্ছি।

সরেজমিন জানা যায়, ২০০৩ সালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে সংস্কার করে বিশ্ব রোডে পরিণত করার পরই এই সড়কের দুই পাশের জমি কেনার প্রতিযোগিতা লেগে যায় শিল্প উদ্যোক্তাদের মাঝে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার অলিপুর এলাকায় ৭শ’ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এ পার্ক থেকে উৎপাদিত পণ্য দেশে ও দেশের বাইরে রফতানি করে যাচ্ছে।

প্রাণ-আরএফএল জেলারেল ম্যানেজার (হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক) এইচএম মঞ্জুরুল হক বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে ১৯ হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ শ্রমিক স্থানীয় এবং ৫৫ শতাংশ নারী শ্রমিক রয়েছে।

হবিগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে