Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৬-১৫-২০১৭

নওগাঁর টুপি যাচ্ছে বিদেশে

নওগাঁর টুপি যাচ্ছে বিদেশে

নওগাঁ, ১৫ জুন- ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁর নারী টুপি কারিগররা। ঈদকে সামনে রেখে এ ব্যস্ততা। সারা বছর টুপি সেলাইয়ের টুকটাক কাজ হলেও রমজান এবং ঈদে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। সুঁই-সুতা দিয়ে তৈরি চমৎকার এসব টুপির চাহিদাও ব্যাপক। ঈদের আগে তাদের ব্যস্ততা ছিল আরো বেশি। গৃহবধূসহ স্কুল-কলেজে পড়ুয়া মেয়েরাও টুপি তৈরির কাজ করে। তাদের তৈরি টুপি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির পাশাপাশি রফতানি হচ্ছে সৌদি আরব, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, কুয়েত ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

উপজেলার সিদাইন গ্রামের ১৮০টি পরিবারের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবারের নারীরা এই টুপি তৈরির কাজে যুক্ত। শুধু সিদাইন নয়, পাশের আমইল, পাইকড়া, ধর্মপুর ও ছাতড়াসহ ৮/১০টি গ্রামের নারীরা আজ তাদের দেখাদেখি টুপি তৈরি করছেন।

টুপি কারিগর গৃহবধূ সাবিনা ইয়াসমিন ও মোরশেদা বেগম বলেন, সাংসারিক কাজের পাশাপাশি এ টুপি তৈরির করেন থাকেন। তবে রমজান এবং সামনে ঈদের জন্য ব্যস্ততা একটু বেশি। মূলত বোতাম সেলাই ও চেইন সেলাই দিয়ে টুপি তৈরি করা হয়। বোতাম সেলাই টুপির পরিশ্রম একটু বেশি এবং পারিশ্রমিক ৪০০-৫৫০ টাকা। আর সময় লাগে ১৫/২০ দিন। চেইন সেলাই টুপি সহজ ও সময় কম লাগে। কাজও দ্রুত হয়। এর পারিশ্রমিক ৩০০-৩৫০ টাকা। তবে পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক খুবই কম।

৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমি সুলতানা জানায়, পড়াশুনার পাশাপাশি সে টুপি তৈরির কাজ করে। এ থেকে যে আয় হয় তা দিয়ে কাগজ-কলম ও হাত খরচসহ আনুষঙ্গিক কাজে ব্যয় হয়।

উপজেলার মধুবন গ্রামের গৃহবধূ সাজেদা খাতুন বলেন, এক থান কাপড় থেকে প্রকারভেদে ৯০-১০০টি টুপি তৈরি হয়। পলিথিনের কাগজে সোনামুখি সুই দিয়ে বিভিন্ন ফুলের গ্রাফিক্স করা হয়। এরপর সাইজ করা টুপির কাপড়ে গ্রাফিক্স পলিথিন রেখে তেল ও ব্লু (নীল রং) দিয়ে ছাপ দেওয়া হয়। ছাপ দেওয়া ফুলের উপর সেলাই মেশিন দিয়ে সেলাই করা হয়। এ কাজটি করতে ১-২ দিন সময় লাগে। যার মজুরি পান ৭০০ টাকা। এরপর এ টুপিগুলো বিভিন্ন কারিগরদের কাছে হাতের কাজ করতে দেওয়া হয়।


মহাদেবপুরের টুপি ব্যবসায়ী মাজহারুল ইসলাম বলেন, আগে শুধু এক ডিজাইনের টুপি তৈরি হতো। এখন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টুপিরও বাহারি নাম ও ডিজাইন দেওয়া হয়েছে। যেমন- নব্বইফুল, কলারফুল, বকুলফুল, তালাচাবি, স্টার, গুটি, বিস্কুট, আনারস, মৌচাক ও মাকড়শার জাল ইত্যাদি। সবচেয়ে বেশি দাম নব্বইফুল ও আনারসের।

এসব টুপি ঢাকার চকবাজার, বাইতুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে পাঠানো হয়। সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রেও রফতানি করা হয়। গত আট বছর থেকে এ টুপির ব্যবসা করে আসছেন। প্রকারভেদে প্রতিটি টুপি ৫শ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়।

আর/০৭:১৪/১৫ জুন

নওগা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে