logo

জার্মানির বিপজ্জনক নারী

জার্মানির বিপজ্জনক নারী

বার্লিন, ০১ ফেব্রুয়ারী- সিরিয়া যুদ্ধ এবং অভিবাসী ইস্যু রাতারাতি বদলে দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্বের অনেক চিত্র। যেমন মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাবের কারণে এবছর অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠেছেন ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঠিক তেমনি জার্মানি রাজনীতিতে হঠাৎই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন ডানপন্থী জিনোফোবিক পার্টির এক নেত্রী। ৪০ বছর বয়সী ওই নেত্রীকে বলা হচ্ছে, জার্মানির সবচেয়ে বিপজ্জনক নারী। কারণ তার মতামত হচ্ছে, অভিবাসীদের দেখা মাত্র গুলি করতে হবে। অকপটে জনসম্মুখে এ কথা বলে ফেললেন ফ্রাউক পেট্রি।

এমনকী তিনি দাবি জানান, জার্মান পুলিশদের জন্য অভিবাসীদের গুলি করার অনুমতি থাকা প্রয়োজন। সপ্তাহের শেষে হ্যানওভারে রাজনৈতিক সভায় বিতর্কিত এই বক্তব্য দেয়ার পর থেকে পেট্রির জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে।

বার্লিন থেকে এক সূত্রে জানা যায়, পেট্রির দল ডানপন্থী জিনোফোবিকের জনপ্রিয়তা নজরকাড়া।

পেট্রি বলেন, সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশকে অনুমতি দিতে হবে, যেনো কোন অভিবাসী জার্মানিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে গুলি করা হয়।

দেশটির এক পত্রিকাকে পেট্রি বলেন, ‘পুলিশের উচিত অস্ট্রিয়া থেকে অবৈধভাবে অভিবাসীদের প্রবেশ বন্ধ করা। প্রয়োজন হলে বন্দুকের ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে আইন কি বলে! অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে শেষ পদ্ধতি।’

অপরদিকে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের অভিবাসীদের জন্য ‘দরজা খুলে দাও’ নীতি এরই মধ্যে দেশটিতে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। এমনকী অভিবাসী ইস্যুতে মের্কেলের জনপ্রিয়তাও খর্ব হয়েছে।

২০১৫ সালে জার্মানিতে ১১ লাখের বেশি অভিবাসী প্রবেশ করে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই দেশটিতে এসেছে সেপ্টেম্বরে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা যায়, এই মুহূর্তে মের্কেল পদত্যাগ চায় দেশটির ৪০ শতাংশ জনগণ।

অপরদিকে অভিবাসী বিরোধী অবস্থানের জন্য দেশটিতে জনপ্রিয় জেনোফোবিক এএফডি (অলটারনেটিভ ফর জার্মানি) অর্থাৎ পেট্রির দল। জার্মানি স্টেট পার্লামেন্টে এদের পাঁচটি আসন রয়েছে।

অপরদিকে অভিবাসীদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করার পক্ষে নয় উদারপন্থী মের্কেল। মের্কেলের এই নীতির কারণেই মূলত তিনি এই মুহূর্তে সমচেয়ে বেশি সমালোচিত হচ্ছেন।

তবে দেশটির প্রত্যেকটি দলই যে পেট্রিকে সমর্থন দিচ্ছে এমনও নয়।

জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্রেট দলের ভাইস-চ্যান্সেলর সিগমা গ্যাব্রিয়েল বলেন, ‘আমার গভীর সন্দেহ রয়েছে যে এএফডি কি গণতান্ত্রিক নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।’

সেই সঙ্গে তিনি পুলিশের উদ্দেশে এও বলেন, আপনারা পেট্রির অমানবিক নির্দেশ শুনে  অভিবাসীদের গুলি করবেন না।