logo

নেপালকে মাটিতে নামালো ভারত

শান্ত মাহমুদ


নেপালকে মাটিতে নামালো ভারত

ঢাকা, ০১ ফেব্রুয়ারী- ম্যাচটা ছিল ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের। আর আগের দুই ম্যাচ জেতায় নেপালকে নিয়ে সতর্কই থাকতে হচ্ছিল ভারতকে। কিন্তু ম্যাচে গিয়ে দেখা মিলল অন্য এক নেপালের। আগের দুই ম্যাচে দারুণ লড়াই করা নেপাল কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারলো না ভারতের বিপক্ষে। উল্টো ভারতের কাছে দুমড়ে মুচড়ে গেল আগের দুই ম্যাচ দিয়েই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা নেপাল।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাত উইকেটে হার মানা নেপাল এই ম্যাচে ঝড়ের কবলেই পড়েছিল। তাদের বোলারদের ওপর দিয়ে একপ্রকার সুনামিই বইয়ে দিয়েছে ভারত যুবারা। ১৬৯ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৮.১ ওভারেই টপকে যায় যুব বিশ্বকাপের তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত।   

কুয়াশার কারণে ৪৮ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা নেপাল আট উইকেট হারিয়ে করে ১৬৮ রান। আর তার জবাবে, মাত্র ১৮ ওভার এক বলেই ১৭৫ রান করে ফেলে ভারত। উইকেট হারায় তিনটি।

লক্ষ্যটা মামুলিই ছিল ভারতের জন্য। আর সেটা তাড়া করতে নেমে নেপালের বোলারদের রীতিমতো পাড়ার বোলারে পরিণত করে ফেলেন ভারতের দুই ওপেনার ঋষভ পান্ত ও অধিনায়ক ইশান কিষাণ। ভারতের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেছে তারা। অবশ্য টি- টোয়েন্টিতেও সচরাচর এমন ব্যাটিংয়ের দেখা মেলে না। মাত্র ৭.৩ ওভারে বিনা উইকেটেই দলীয় ১০০ রান পূরণ করেন পান্ত ও কিষান।

নেপালের বোলারদের কাছে পান্ত ছিলেন যমদুতের ভূমিকায়। মাত্র ১৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করে নেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যান। যা যুব ওয়ানডের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি। এর আগে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ট্রেভন গ্রিভিথের। ২০০৯-১০ মৌসুমে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন এই উইন্ডিজ যুবা।

পান্তর সাথে ভারত অধিনায়ক কিষানও ছিলেন মারকুটে ভূমিকায়। উদ্বোধনী জুটিতে এ দুজন যোগ করেন ১২৪ রান। কিন্তু ওভার খরচ করেছেন মাত্র ৯.১ ওভার। তখনই জয় হাতের মুঠোয় ছিল ভারতের। এ সময় কিছুটা দিক হারায় ভারত। রেকর্ড গড়ে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করা পান্ত ফেরেন সাজঘরে।

অবশ্য এর আগেই মাত্র ২৪ বলে ৭৮ রানের দানবীয় ইনিংস খেলে নেন  ঋষাভ। অনবদ্য সেই ইনিংসে পাঁচ ছক্কার সাথে ছিল নয়টি চার।

৫২ রান করা অধিনায়ক কিষান ও রিকি ভুই ১৪২ রানে আউট হলে ৩ উইকেট খোয়ায় ভারত। তবে বাকি কাজটুকু সেরে নেন সরফরাজ খান ও আরমান জাফর। মাত্র ১৮.১ ওভারেই ১৭৫ রান তুলে নেয় ভারত যুবারা।

এরআগে ব্যাট হাতে ভালো শুরু করতে পারেনি নেপাল। উইকেট পতনের শুরুটা দলীয় ৫ রানেই। এরপর থেকেই নিয়মিত ধারায় উইকেট বিলিয়েছে আইসিসির সহযোগি দেশটি। ব্যাট হাতে ব্যতিক্রম ছিলেন মাত্র চারজন। এরমধ্যে অন্যতম ওপেনার সন্দীপ সুনার। ভারতের বোলিং তোপে অন্যপাশ ছত্রখান হয়ে গেলেও দলের জন্য লড়ছিলেন সুনার। খেলেন ৩৭ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস। এরপর আরিফ শেখ ২৬, রজবীর সিং ৩৫ ও প্রেম তামাং ২৯ রান করলে ১৬৯ রানে পৌঁছায় নেপাল।

সাত উইকেটের বড় জয় নিয়ে ভারত হয়েছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। দুই জয় নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপ থেকে ভারতের সঙ্গী হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নেপালও। বাদ পড়েছে নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড।