logo

পর্যাপ্ত ঘুমের উপকারিতা

পর্যাপ্ত ঘুমের উপকারিতা

মানুষের কর্মক্ষমতা বাড়াতে দরকার উপযুক্ত ঘুম। আর কর্মক্ষমতা বাড়লে কাজের ক্ষেত্রে সাফল্য আসবে। অথচ সাফল্য পেতে ঘুম হারাম করে শ্রম দেন অনেকে। তাদের বিশ্বাস- কাজ বেশি, ঘুম কম, সাফল্য তবে দ্রুত। কাজ ফেলে ঘুমের সময় কোথায়? কিন্তু এটা আপনার অনেক বড় ভুল ধারনা। সাফল্যের জন্য দরকার শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। এজন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম। সম্প্রতি এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে পর্যাপ্ত ঘুমের উপকারিতা সম্পর্কে উঠে এসেছে এসব তথ্য। তারা জানান-

কার্যক্ষমতা বাড়ায় ঘুম
সহজভাবে চিন্তা করলে মনে হবে, ঘুমের সময় কমিয়ে দিলে কাজ করার সময় বেড়ে যাবে। আসলে ঘুম কম হলে মানুষের মস্তিষ্ক তার ক্ষমতার সবটুকু দিয়ে কাজ করতে পারে না। বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের নিয়মিত কমপক্ষে সাত ঘণ্টার ঘুম দরকার হয়। তা না হলে ঘুম ঘুম ভাবটা থেকেই যায়। শরীর বিশ্রামের অভাবে ভুগতে থাকে।

সহজে নতুন কিছু শেখা
আধুনিক যুগে কর্মক্ষেত্রে চলে দক্ষতা প্রদর্শনের ইদুর দৌড়। সেখানে সাফল্য পেতে আপনিও রীতিমতো দৌড়াচ্ছেন। তাই সফল হতে হলে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন কিছু শিখতে হবে। শেখার মাঝেই কাটাতে হবে জীবন। আর শেখার জন্য দরকার সঠিক মনোযোগ। ঘুমের অভাব আমাদের মনোযোগ ক্ষমতা নষ্ট করে এবং নতুন কিছু শেখা কষ্টকর করে ফেলে। নতুন নতুন তথ্য মনে রাখার জন্যেও ঘুমটা উপকারী।

সৃজনশীলতা বাড়ায়
সৃষ্টিশীল বা সৃজনশীল হওয়াটা অনেক ক্ষেত্রেই সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর নিয়মিত ঘুম সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। কিন্তু ঘুম না হওয়া থেকে সৃষ্ট ক্লান্তি মস্তিষ্কের গতি কমিয়ে দেয় এবং নতুন কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতেও সাহায্য করে ঘুম। আপনি যখন ঘুমের অভাবে ভুগছেন তখন আপনার শরীলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে সহজেই আপনার জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি,কাশি হবে। তাই শরীরকে সতেজ ও রোগ মুক্ত রাখতে দৈনিক ৭ ঘণ্টা ঘুমান।

ভুল কমায়
আপনার ঘুম না হলে ভুলের সংখ্যা নিঃসন্দেহে বাড়বে। কোনো কিছু মনে করতে ভুল হবে, কাজ করতে ভুল হবে, সিদ্ধান্ত নিতেও ভুল হবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এটা তাদের ফলাফল খারাপ করে দেয়। একমাত্র সঠিক ঘুম আপনার কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়াতে পারে এবং ভুল করা কমাতে পারে।

দুর্ঘটনা কমায়
ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে গাড়ি চালানোর ফলে প্রতিবছর প্রচুর মানুষ মারা যান। একটানা ১৬ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে থাকলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এছাড়াও বিরতীহিনভাবে ২৪ ঘণ্টার টানা কাজ করলেও দুর্ঘটনা সম্ভাবনা বাড়ে।