logo

মাসের শেষে টান পড়েছে পকেটে?

 

মাসের শেষে টান পড়েছে পকেটে?

 

বেতন ১০ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজারে। শুধু পাল্টায়নি একটাই ব্যাপার- মাস শেষে খালি পকেট। এমন অবস্থা শুধু বিশেষ কোনো ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এমন অবস্থার শিকার হন অধিকাংশ চাকরিজীবী।

যেমনই হোক, দিনতো চলছে। তবে ফাঁকা পকেটে থাকা দিনগুলোতে নিজেকে অথৈ সমুদ্রে একলা মাঝি মনে হয়। তবে কিছু কৌশল অবলম্বন করলে হয়তো পার পেয়েও যেতে পারেন। অপরদিকে একটু কষ্ট করে কিছু অভ্যাস ত্যাগ করলে একেবারেই বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা। তাই জেনে নিতে পারেন প্রয়োজনীয় কিছু কৌশল-

খুচরো জমান
ছোটবেলার কথা মনে পড়ে, যখন একটা একটা পয়সা জমাতেন? আবার শুরু করুন। প্রতিদিন বাড়ি ফিরে পকেট ঝেড়ে, পার্স থেকে খুচরো পয়সা বের করে নিন। এগুলো ব্যাঙ্কে জমাতে থাকুন। এই জমা খুচরোই প্রয়োজনে আপনার সাহায্যে আসবে।

সেকেন্ড হ্যান্ড
প্রতি মাসেই এমন কিছু জিনিস কেনার তীব্র প্রয়োজন পড়ে। এসব জিনিস হয়তো পরে আর তেমন কাজে লাগে না। অনেক জিনিস  আছে যা নতুন না হলেও চলে। বেশ কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে যারা বই, ডিভিডি-র মতো জিনিস সেকেন্ড হ্যান্ড বিক্রি করে। অর্ধেকেরও কম দামে পেয়ে যাবেন আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস। এখান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে অর্থ ব্যয় কমিয়ে আনতে পারেন অর্ধেকেরও বেশি।

মাসের বাজার
মাঝে মাঝেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দোকানে ছুটি আমরা। এতে খরচের হিসেব থাকে না। মাসের শুরুতে প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা বানিয়ে নিন। একসঙ্গে গোটা মাসের জিনিস হিসেব করে কিনলে খরচ অনেক কম পড়বে।

সপ্তাহের খরচ
যদি মনে হয় খরচ খুব বেড়ে যাচ্ছে তাহলে প্রতি সপ্তাহের বাজেট ঠিক করে নিন আগে থেকে। সেই বাজেটের মধ্যেই খরচ রাখার চেষ্টা করুন। হিসেব করে চললে মাসের শেষে খালি পকেটের সমস্যায় পড়বেন না।

লেট ফি
সময়ের মধ্যে বিল মেটানোর চেষ্টা করুন। একটা সময় পর একদিকে লেট ফি বাড়তে থাকে, অন্যদিকে পকেটেও টান পড়তে থাকে। তাই সময় মতো বিল মেটান। এতে টাকা যেমন কিছুটা বাঁচবে, তেমনই মাসের শেষে চাপও কমবে।

বাড়ির খাবার
খরচ কমাতে যতটা সম্ভব বাড়ির খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। বাড়ি থেকে লাঞ্চ নিয়ে অফিস যান। এতে শরীরও ভালো থাকবে। ফলে খাওয়ার খরচও কমবে, আবার শরীর খারাপ হয়ে চিকিৎসার খরচও বাঁচবে।

চা বা কফি
যদি অতিরিক্ত চা, কফি, ধূমপানের নেশা থাকে তাহলে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করুন। এ ভাবে অনেক বাজে খরচ এড়াতে পারবেন। ভেবে দেখুন ঠিক কতটা আপনার প্রয়োজন, আর কতটা স্রেফ অভ্যাসের বশে খাচ্ছেন। বেশি চা, কফি শরীরের পক্ষেও ক্ষতিকারক।

রিসাইকেল
অনেক সুপারমার্কেট পুরনো জিনিস রিসাইকেল করে। বাড়ির পুরনো শিশি, বোতল, খবরের কাগজ কিলো দরে বিক্রি করতে পারেন। অনেক সময় টাকার বদলে ফ্রিতে রেশনও পেয়ে যেতে পারেন। এতে খরচও কমবে, আবার বাড়ি পরিষ্কারও হবে।

জামা কাপড়
যদি প্রতি মাসে জামা কাপড় কেনার অভ্যাস থাকে তবে শেয়ার করুন। নিজের জামা বন্ধুদের পরতে দিন, তাদের পছন্দের জামা নিজে চেয়ে নিন। এতে খরচও কমবে, রোজ নতুন জামাও পরতে পারবেন।

গ্রসারি শপিং
মাসে কত বার গ্রসারির দোকানে যেতে হয় আপনাকে? সব সময় কি প্রয়োজনীয় জিনিসই কেনেন? অনেক সময়ই দেখা যায় শুধুমাত্র কেনার অভ্যাসের বশে অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে ফেলি আমরা। এভাবে খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাই কেনার সময় খেয়াল রাখুন।