logo

জেনেভা আলোচনা বয়কটের হুমকি সিরিয়ার বিরোধীদের

জেনেভা আলোচনা বয়কটের হুমকি সিরিয়ার বিরোধীদের

জেনেভা, ৩১ জানুয়ারি- জেনেভা আলোচনা বয়কটের হুমকি দিয়েছে সিরিয়ার বিরোধীরা। বিরোধী প্রতিনিধিরা জানিয়েছে, যদি সরকার বাহিনী বিদ্রোহীদের দখলকৃত এলাকা অবরোধ এবং রকেট হামলা চালানো বন্ধ না করে তবে জাতিসংঘ আয়োজিত জেনেভা শান্তি আলোচনা বয়কট করবে তারা। তারা বাশার আল আসাদের সরকারের ক্ষমতায় থাকাকে ‘অপরাধ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

এই শান্তি আলোচনার জন্য সিরিয়া সরকার, প্রধান বিরোধীগোষ্ঠী এইচএনসি ও অন্যান্য বিদ্রোহীগোষ্ঠীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে আল নুসরা ফ্রন্ট, ইসলামিক স্টেট এবং সিরিয়ার কুর্দিস গ্রুপকে ওই আলোচনায় ডাকা হয়নি।

এই শান্তি আলোচনার প্রধান উদ্দেশ্যে হচ্ছে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন, আটকদের মুক্তি, অবরুদ্ধ এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো নিশ্চিত করা এবং আইএসের হুমকি মোকাবেলার জন্য পদক্ষেপ নেয়া।

হাই নেগোটিয়েশন্স কমিটি (এইচএনসি) নামে পরিচিত বিরোধী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা শনিবার রাতে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বের্নে পৌঁছেছেন। শনিবার রাতে জেনেভায় এইচএনসির মুখপাত্র সালেম আল-মাসলেত আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, আমরা চাই এই শান্তি আলোচনা কাজ করুক। কিন্তু এখানে শাসনের কোনো অংশেই এর কোনো গুরুত্ব নেই।

বিরোধীগোষ্ঠীর ওই মুখপাত্র আরো জানিয়েছেন, সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার আগে বিমান হামলা বন্ধ ও অবরোধ তুলে নেওয়াকে জোর সমর্থন করছে তারা। সৌদি আরবের সমর্থিত সিরিয়ার বিরোধীগোষ্ঠীদের নিয়ে গঠিত উচ্চ সমাঝোতা কমিটির (এইচএনসি) একটি প্রতিনিধিদল রোববার শান্তি আলোচনায় প্রধানের দায়িত্বে থাকা জাতিসংঘের দূত স্টেফান ডি মিস্তুরার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

সিরিয়ায় গত পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া আরো কয়েক লাখ মানুষ নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। সিরিয়ার যুদ্ধ আর সংঘাতের কারণেই  ইউরোপে শরণার্থী সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত বহু শরণার্থী সাগরে ডুবে মারা গেছে। শনিবার এজিয়ান সাগরে নৌডুবির ঘটনায় ৩৯ শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছে। সিরিয়ায় যুদ্ধ না থাকলে এই অসহায় মানুষগুলো সাগর পথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে পাড়ি দিত না।

জেনেভায় পৌঁছে এইচএনসির মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকারের কারাগার থেকে নারী ও শিশুদের মুক্ত করাসহ বিমান হামলা বন্ধ ও অবরুদ্ধ এলাকায় ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি চান তারা। তিনি আরো জানিয়েছেন, ‘আমরা সব সময়ই আশাবাদী। তবে সমস্যা হচ্ছে, সিরিয়ায় স্বৈরতন্ত্রের মুখে জীবন কাটাচ্ছি আমরা। আসাদ যদি এসব সমস্যা সমাধানে ইচ্ছুক হন, তাহলেই সিরিয়ায় এধরনের অপরাধ এবং গণহত্যা আর দেখতে হবে না।’ 

এদিকে সিরিয়ার সরকারের একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার জেনেভায় পৌঁছেছেন। মিস্তুরার সঙ্গে তাদের প্রাথমিক একটি বৈঠকও হয়েছে।

তবে এইচএনসির প্রধান রিয়াদ হিজাব জেনেভায় উপস্থিত হননি। তিনি অনলাইনের সতর্ক করে এক বার্তায় বলেছেন, সিরিয়ার সরকার যদি এরকম অপরাধ অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য হবে না।