logo

সব দেশের সহযোগিতায় টেকসই উন্নয়ন সম্ভাব

সব দেশের সহযোগিতায় টেকসই উন্নয়ন সম্ভাব

ঢাকা, ৩০ জানুয়ারী- নতুন বছর থেকে শুরু হওয়া সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) বা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে দক্ষিণ এশিয়ার ‍দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশের সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সবাই মিলে কাজ করলে এসডিজি অর্জন করা সম্ভব।’  
 
শনিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘সাউথ এশিয়ান স্পিকার সামিট অন অ্যাসিভিং দি সাসটেইনেবল ডেভেলমেন্ট গোল’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় ভারতের স্পিকার সুমিত্রা মহাজন, ভুটানের স্পিকার জিগমে জাংকু, মালদ্বীপের স্পিকার আব্দুলাহ মাসিহ মোহাম্মদ, আফগানিস্তানের স্পিকার আব্দুর রউফ ইব্রাহিমী উপস্থিত ছিলেন।
 
শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘২০১৫ সালে শেষ হওয়া এমডিজির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে নতুন লক্ষ্যমাত্রা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বা এসডিজি। যা অর্জনের ব্যাপ্তিকাল হবে ১৫ বছর অর্থাৎ ২০৩০ পর্যন্ত। এ সময়ে এসডিজি অর্জন করা সম্ভাব, যদি দক্ষিণ এশিয়াসহ সব দেশের সহযোড়িতাপূর্ণ মনোভাব থাকে।  এজন্য এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আওয়তাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পার্টনারশিপ ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।’
 
তিনি মনে করেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া দেশগুলোর ক্ষেত্রে এ লক্ষ্যমাত্রা আরো চ্যালেঞ্জিং। কেননা আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখনো চ্যালিঞ্জিংপূর্ণ। তাই এই ভুখণ্ডের দেশগুলোকে একীভূত হয়ে কাজ করতে হবে।’
 
তিনি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসম্মত জীবনমান নিশ্চিতকরণ। যা থেকে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল এখনো পিছিয়ে। এর প্রধান অন্তরায় হচ্ছে টোবাকো তথা ধূমপান। তাই প্রথমে আমাদের ধূমপান যাতে হ্রাস করা যায় সে দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
 
স্পিকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এসব লক্ষমাত্রা অর্জনে প্রত্যেক দেশ তার পরিকল্পনা অনুযায়ী এগুবে।  তবে দেশের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সেই সব দেশের স্পিকারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কেননা দেশীয় কর্মসূচিতে এ লক্ষ্যগুলো সম্পৃক্ত করা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, রাজনৈতিক সচ্ছতা এবং জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা প্রধান চ্যালেঞ্জ।’
 
এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন আয়োজক সংগঠন ইন্টার-পার্লামেন্ট ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাংসদ ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ ফ ম রুহুল হক এবং আব্দুর রাজ্জাকসহ অনেকে।
 
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে প্রণীত মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বা এমডিজি এর মেয়াদ শেষ হয় ২০১৫ সালে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সাধারণ অধিবেশন এমডিজির স্থলাভিষিক্ত করা হয় সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বা এসডিজিকে। যার ব্যাপ্তি হবে ১৫ বছর। এমডিজির ৮টি লক্ষ্যমাত্রার পরিবর্তে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা ও এগুলোর মোট ১৬৯টি অর্জনযোগ্য লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।