logo

বছরের প্রথম মাসেই বেড়েছে অভিবাসী নিহতের সংখ্যা

মেহেদী হাসান


বছরের প্রথম মাসেই বেড়েছে অভিবাসী নিহতের সংখ্যা

নিউ ইয়র্ক, ৩০ জানুয়ারি- মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপ গমনের উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই নিহত হয়েছেন ২৩০ জনের বেশি। হঠাৎ করেই অভিবাসী নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎকণ্ঠা বেড়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) তথ্যানুযায়ী, চলতি জানুয়ারিতে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়ে ২৪৪ জন অভিবাসী নিহত হয়েছেন যা গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় প্রায় দুই’শ শতাংশ বেশি। ২০১৫ সালে নিহতের এ সংখ্যা ছিল ৮২ জন।

আইওএমের তথ্যানুযায়ী, এ বছরের চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৫২৮ জন অভিবাসী ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছেন।

এদিকে, জাতিসংঘের অভিবাসী বিষয়ক সংস্থা ইউনএএইচসিআরের তথ্যানুযায়ী, এ নিহতের সংখ্যা ২৩৬ জন এবং ইউরোপে পাড়ি জমানো অভিবাসীর সংখ্যা ৫৪ হাজার ৫১৮ জন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্যানুযায়ী এ প্রতিবেদন দিয়েছে আইওএম এবং ইউএনএইচসিআর।

জানুয়ারি মাসের দুই দিন বাকি থাকতেই নিহতের সংখ্যা পূর্বের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। তাদের পরামর্শ হচ্ছে, সরকারের উচিত হবে অভিবাসীদের দেশত্যাগের জন্য নিরাপদ পথ এবং মানবিক পাসপোর্টের (অভিবাসীদের দেশত্যাগের জন্য আলাদা পাসপোর্ট) ব্যবস্থা করা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গ্রিস ভিত্তিক গবেষক ইভা কসি আল জাজিরাকে বলেন, প্রচুর লোক নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে দেশত্যাগ করছেন। আজিয়ানা দ্বীপ এবং তুরস্কের মধ্যে দূরত্ব খুব কম হলেও স্থানটি পাড়ি দেয়ার জন্য প্রচুর লোকের অপেক্ষা এবং পাড়ি দেয়ার জন্য ব্যবহৃত নৌকাগুলো এত লোককে বহনে অক্ষম হওয়ার কারণেই এত লোকের মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, তুরস্কের উপকূল এবং লেসবসের মধ্যে মাত্র তিন কিলোমিটারের দূরত্ব। কিন্তু এ দূরত্ব পাড়ি দিতেই মারা যাচ্ছেন এত লোক।

এসব লোকদের জীবন বাঁচানোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে সম্মিলিত কোনো সাড়া পাওয়া আবশ্যক।

ইউরোপে পাড়ি জমানোর উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে ২০১৫ সালে নিহতের সংখ্যা ছিল রেকর্ড পরিমাণ। গত বছর ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়ে নিহত হন তিন হাজার ৭৭১ জন। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল তিন হাজার ২৭৯ জন।