logo

জেনেভায় নিঃশর্ত আলোচনায় রাজি বিরোধী গোষ্ঠীগুলো

জেনেভায় নিঃশর্ত আলোচনায় রাজি বিরোধী গোষ্ঠীগুলো

জেনেভা, ৩০ জানুয়ারি- জেনেভা শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে রাজি হয়েছে সিরিয়ার বিরোধী গোষ্ঠীগুলো। রোববার তারা জাতিসংঘ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে। এর আগে সৌদি সমর্থিত বিদ্রোহীদের সংগঠন ‘হাই নিগোসিয়েশন কমিটি (এইচএনসি) এ আলোচনায় যোগ দিতে শর্ত জুড়ে দিয়েছিল।

গত পাঁচ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে আরো ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ।

আগামী ৬ মাসের মধ্যে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ওই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সিরিয়ার সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবে না। তারা পৃথক দুটি কক্ষে বসে আলোচনা করবে। তাদের মধ্যে সমন্বয় করবে জাতিসংঘ কর্মকর্তারা।

এদিকে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি নিশ্চিত করেছে, বিদ্রোহীরা সিরিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টাফা দে মিস্তুরার সঙ্গে বৈঠক সম্মত হয়েছে। তবে তারা এটাও বলেছে যে সিরীয় সরকারের সঙ্গে তারা কোন ধরনের মধ্যস্ততায় যাবে না।

বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর ওই কমিটি জানিয়েছে, জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করার উদ্দেশ্যেই একটি ছোট প্রতিনিধি দল তারা জেনেভায় পাঠাবে। এর আগে বিদ্রোহী সংগঠন এইচএনসি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেছিল, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিমান হামলা বন্ধ ও অবরোধ তুলে নিলেই কেবল তারা শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে। কিন্তু পরে তারা ওই দাবি থেকে সরে আসে।

এদিকে জেনেভায় সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইতিমধ্যে সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘ দূত স্টাফা দে মিস্তুরা। শুক্রবার বিকেলে জেনেভার জাতিসংঘ কার্যালয়ে শুরু হওয়া আলোচনায় অংশ নেন সিরিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত ষ্টাফা দে মিস্তুরা এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাশার জাফারির নেতৃত্বে সিরিয়া সরকারের প্রতিনিধি দল। আলোচনার পর মিস্তুরা বলেন,তিনি আশা করছেন রোববার বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসতে পারবেন।

তিনি বলেছেন, ‘বিরোধী গোষ্ঠীগুলো যে এই শান্তি আলোচনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন তা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। হয়তো রোববার তাদের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সদস্যরা শান্তি আলোচনায় বসবেন।’

এ সম্পর্কে সিরিয়ার ন্যাশনাল কোয়ালিশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিবিসিকে বলছেন, মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নের বিষয়টিই আলোচনার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন,‘মানবিক পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে এমন লক্ষণ দেখা গেলেই আমাদের দল আসাদ সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় যাবে।’

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শান্তি আলোচনা বন্ধ হবার পর এই প্রথম এ ধরণের আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।