logo

অ্যাপেল মানেই স্টিভ জবস না

অ্যাপেল মানেই স্টিভ জবস না

ওয়াশিংটন, ৩০ জানুয়ারি- সারা পৃথিবীর মানুষ আজ স্টিভ জবসকে চেনে অ্যাপেলের জন্য। আবার কথাটা একটু ঘুড়িয়ে বললে অ্যাপেলকে চেনে স্টিভ জবসের জন্য। অ্যাপেলের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনি। বহির্বিশ্বে অ্যাপেল বা স্টিভ জবসের যতোটা পরিচিতি অ্যাপল পরিবারে এমন আরো অনেকেই রয়েছেন যাদের পরিচিতি না থাকলেও তাদের ছাড়া আজকের এই অ্যাপেল হয়তো নেতৃত্বদানকারী ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হতে পারতো না। 

১৯৭৬ সালের ১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় অ্যাপলের জয়যাত্রা। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। স্টিভ জবসের সাথে ছিলেন আরো ৯ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যাদের অবদানে অ্যাপল আজ বিশ্ব বাজারে সুপরিচিত। আসুন জেনে নেই এই ব্যক্তিদের সম্পর্কে। 

স্টিভ ওজনিয়াক
স্টিভ ওজনিয়াক একজন টেকনিক্যাল এক্সপার্ট। স্টিভ জবসের সাথে এইচপি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন ১৯৭১ সালে। অ্যাপেল ওয়ানের প্রথম পরিকল্পনা ওজনিয়াকের করা। ১৯৭৬ সালে তিনি হার্ডওয়্যার, সার্কিটবোর্ড এবং অ্যাপেলের অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করেন। আর এই প্রযুক্তিগুলোকে বিক্রির দায়িত্ব নেন স্টিভ জবস। 

মাইক মার্ককুল্লা
একটা ফোন বানিয়ে ফেললেই সেটা বিপণন করা যায় না। সেজন্য দরকার হয় অর্থের। যে ব্যক্তি অ্যাপেলের জন্য প্রথম অর্থ দিয়েছিলেন তার নাম মার্ককুল্লা। সে সময়ে তার বিনিয়োগ ছিল প্রায় ২ লাখ ডলার। প্রতিষ্ঠানটির ৩০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন তিনি। 

বিল ফারনানডেজ  
শুধু মালিক আর পরিকল্পনাকারী দিয়ে তো আর প্রতিষ্ঠান চলে না। দরকার হয় কর্মচারীরও। স্টিভ ওজনিয়াকের বন্ধু ও প্রতিবেশী ছিলেন বিল ফারনানডেজ। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি অ্যাপলের সাথেই ছিলেন। 

রড হল্ট 
পেশায় একজন বিজ্ঞানী। তিনি আবিষ্কার করেছিলেন সুইচিং পাওয়ার সাপ্লাই। অত্যাধুনিক কম্পিউটারে এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অ্যাপল টু ফোন বাজারে আসার পর পর্যন্ত তিনি চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে যুক্ত ছিলেন। ফ্লপি ডিস্ক, সুইচিং পাওয়ার সাপ্লাই, রেডিও ইন্টারফারেন্স সমস্যা যেকোন ক্ষেত্রে তার ভুমিকা অনস্বীকার্য।

র‌্যান্ডি উইগিনটন  
শুধু হার্ডওয়্যার দিয়ে তো আর ফোন হয় না। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারেরও প্রয়োজন রয়েছে। র‌্যান্ডি উইগিনটন একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। স্টিভ ওজনিয়াকের সহযোগী হয়ে কাজ করতেন। অ্যাপেল টু-এর জন্য ওজনিয়াকের সঙ্গে সার্কিট ডিজাইন, রম সফটওয়্যার তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন র‍্যান্ডি। একাধিক প্রোগ্রামও লিখেছেন।

মাইকেল স্কট  
অ্যাপলের প্রধান কার্যনির্বাহী ছিলেন। ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তিনি অ্যাপলের এই পদে বহাল ছিলেন। যতদিন অ্যাপেল থাকবে, ততদিন শ্রদ্ধার সাথে এই প্রতিষ্ঠানের কর্মরত লোকেরা স্কটকে স্মরণ করবে। 

ক্রিস এসপিনোসা  
অ্যাপলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ কর্মচারী ছিলেন তিনি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে অ্যাপলের হয়ে কাজ শুরু করেন। বেসিক প্রোগ্রাম লিখতেন তিনি। অ্যাপেলের বিভিন্ন পদে সারা জীবন কাটিয়েছেন এই কর্মচারী। 

শ্যারি লিভিংসটন 
অ্যাপলের প্রথম নারী সেক্রেটারি। প্রধান কার্যনির্বাহীর সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার সংক্রান্ত কাজ ছাড়া সমস্ত কাজ সামলাতে হতো এই বিচক্ষণ নারীকে। 

গ্যারি মার্টিন  
প্রথম থেকেই অ্যাপলের কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছেন এই তরুণ। ১৯৮৩ পর্যন্ত তিনি অ্যাপেল ওয়ান ও টু-এর সমস্ত রকম কাজে নিযুক্ত ছিলেন।

সুতরাং স্টিভ জবসের সাথে সাথে এরাও ছিলেন অ্যাপল প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের সহযোগী।